নারায়ণগঞ্জে অপহরণ ও সাত খুনের ঘটনায় জড়িত সন্দেহভাজন চাকরিচ্যুত র‌্যাব কর্মকর্তা লে. কমান্ডার এমএম রানাকে ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
রোববার বিকালে নারায়ণগঞ্জ জুডিশিয়াল কে এম মহিউদ্দিনের আদালত তার রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে বিকাল পৌনে ৫ টায় ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় তাকে ১০ দিনের রিমান্ডে নেয়ার আবেদন জানান ৭ খুনের মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জেলা ডিবির ওসি মামুনুর রশিদ মন্ডল। শুনানি শেষে ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন ম্যাজিস্ট্রেট।
শনিবার গভীর রাতে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানা এলাকা থেকে রানাকে গ্রেফতার করে নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। রাতেই তাকে নারায়ণগঞ্জ পুলিশলাইনে নিয়ে যাওয়া হয়।  
গত ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র-২ নজরুল ইসলাম, তার বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন, নজরুলের গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম, আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার এবং তার ব্যক্তিগত গাড়িচালক ইব্রাহিমকে অপহরণ করা হয়। পরদিন ২৮ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন নজরুল ইসলামের স্ত্রী। কাউন্সিলর নূর হোসেনকে প্রধান করে মামলায় আসামি করা হয় মোট ১২ জনকে। ঘটনার পর থেকে নূর হোসেন পলাতক।
৩০ এপ্রিল বিকালে নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ৬ জন এবং ১ মে সকালে একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত সবারই হাত-পা বাঁধা ও পেটে আঘাতের চিহ্ন ছিলো। প্রতিটি লাশ ইটভর্তি দু’টি করে বস্তা বেঁধে ডুবিয়ে দেওয়া হয়।
এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় র‌্যাব-১১ এর কয়েকজন কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ করেন নিহত প্যানেল মেয়র নজরুলের পরিবারের সদস্যরা। নজরুল ইসলামের শ্বশুর শহীদুল ইসলাম ওরফে শহীদ চেয়ারম্যান অভিযোগ করেন, ৬ কোটি টাকার বিনিময়ে র‌্যাবকে দিয়ে কাউন্সিলার নূর হোসেন এই সাতজনকে হত্যা করিয়েছেন। অভিযোগের পর ওই তিন কর্মকর্তাকে প্রথমে র‌্যাব থেকে সেনাবাহিনীতে প্রত্যর্পণ এবং পরে চাকরিচ্যুত করা হয়।
গত ৫ মে হাইকোর্ট হত্যাকাণ্ডে র‌্যাব-১১ এর কর্মকর্তাদের সংশ্লিষ্টতাসহ সার্বিক বিষয় তদন্তে প্রশাসনিক তদন্ত কমিটি গঠনের আদেশ দেন। ১১ মে চাকরিচ্যুত ওই তিন কর্মকর্তাকে গ্রেফতারের জন্য আদেশ দেন হাইকোর্ট। তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ পাওয়া না গেলে তাদের ৫৪ ধারায় গ্রেফতার করতে বলেন আদালত।
এর পর গত বৃহস্পতিবার সশস্ত্র বাহিনী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানায়, তাদের গ্রেফতারে কোনো বাধা নাই।
শনিবার ভোররাতে ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় লে. কর্নেল তারেক সাঈদ মাহমুদ ও মেজর আরিফ হোসেনকে।
ঢাকা, ১৮ মে (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেএ