চট্টগ্রাম আদালতে ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা স্থাপনের অনুরোধ করে পুলিশকে বিচারকদের পক্ষ থেকে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে নিরাপত্তা জোরদারের অনুরোধও করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজের আদেশক্রমে চতুর্থ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মিজানুর রহমান মুন্সী নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (এডিসি-প্রসিকিউশন) নির্মলেন্দু বিকাশ চক্রবর্তীকে এই চিঠি দেন। চিঠি পাওয়ার পর গত ২৯ মার্চ থেকে আদালতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

তবে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত কোন সিদ্ধান্ত নেয়নি নগর পুলিশ। বিচারকদের পক্ষ থেকে অনুরোধের বিষয়টি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন এডিসি-প্রসিকিউশন।

জানতে চাইলে নগর পুলিশের উপ কমিশনার (গোয়েন্দা-উত্তর) হাসান মো.শওকত আলী বলেন, সিসি ক্যামেরা স্থাপনের বিষয়টা আমাদের পরিকল্পনার মধ্যে আছে। তবে সময় লাগবে। বাজেটে কিছুটা ঘাটতি আছে। এটার জন্য আমাদের যা খরচ হবে, এই মুহুর্তে সেই বাজেটটা নেই। তবে সমস্যা হবে না। এটা আমরা পরিকল্পনায় যেহেতু রেখেছি, বাস্তবায়ন হবে।

এডিসি-প্রসিকিউশন নির্মলেন্দু বিকাশ চক্রবর্তী জানান, গত ২২ মার্চ জেলা ও দায়রা জজ আদালত থেকে নিরাপত্তা জোরদার সংক্রান্ত চিঠিটি তিনি পেয়েছেন। চিঠিতে দুটি বিষয় উল্লেখ আছে। এতে প্রত্যেক বিচারকের এজলাস কক্ষে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। এছাড়া প্রতিটি এজলাস কক্ষের সামনে ও সকল প্রবেশপথে এবং জনসমাগমের স্থানে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের কথা বলা হয়েছে।

‘আদালতে প্রতিদিন লাখখানেক মানুষ আসে। ব্যাপক জনসমাগম হয়। এতে নিরাপত্তার বিষয়ে আশংকা প্রকাশ করে বিচারকদের পক্ষ থেকে সিসি ক্যামেরা লাগানোর অনুরোধ করা হয়েছে। ’

নির্মলেন্দু বিকাশ চক্রবর্তী বলেন, আদালতে আমাদের নির্ধারিত ৪৪টি পয়েন্ট আছে যেখানে সিসি ক্যামেরা লাগানো প্রয়োজন। কিন্তু প্রত্যেক এজলাস কক্ষের সামনে লাগাতে হলে আরও বেশি সিসি ক্যামেরা লাগবে। এটি একটি বড় বাজেটের বিষয়। তারপরও আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করছি দ্রুততম সময়ের মধ্যে ক্যামেরাগুলো লাগিয়ে ফেলতে।

সূত্রমতে, বিচারকদের পক্ষ থেকে চিঠি পাওয়ার পর গত ২৯ মার্চ থেকে প্রত্যেক এজলাস কক্ষে তিনজন অস্ত্রধারী ও একজন নিরস্ত্রসহ চারজন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে একজন অস্ত্রধারী ও একজন নিরস্ত্র পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করত।

আদালতে দায়িত্বরত নিয়মিত পুলিশের সঙ্গে স্পেশাল রিজার্ভ ফোর্স ও পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্ট বিভাগ থেকে ২০ জন করে ৪০ জন পুলিশ সদস্যকে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত করা হয়েছে।

তবে বিচারকদের পক্ষ থেকে দেওয়া চিঠিতে আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টর বসানোর অনুরোধ করা হলেও পুলিশ সেটার ব্যবস্থা করতে পারেনি বলে সূত্র জানিয়েছে।

তিন বছর আগে নগরীর প্রবেশপথসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করে পুলিশ। ২০১৪ সালের জুনে নগরীর সাতটি প্রবেশপথসহ ২৭টি স্পর্শকাতর পয়েন্টে ১০২টি ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা লাগানো হয়েছিল।

গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর স্থাপনা হলেও আদালত অঙ্গনে লাগানো হয়নি কোন সিসি ক্যামেরা।

এমএনজে