রাজধানীর শাহবাগস্থ গণজাগরণ মঞ্চের অন্যতম সংগঠক ব্লগার আহমেদ রাজীব হায়দার শোভন হত্যা মামলায় সাক্ষ্য দিলেন আরো তিনজন সাক্ষী। পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ৮ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।

রোববার এ মামলায় সাক্ষী মোস্তফা, আকরাম হোসেন মিঠু ও আব্দুল মান্নান ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেন।

সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৩ এর বিচারক সাঈদ আহম্মেদ এ দিন ধার্য করেন। ইতিমধ্যে মামলার ৫৫ সাক্ষীর মধ্যে ১১ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়।

এর আগে আসামিপক্ষের আইনজীবীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০১৫ সালের ২১ মে এ মামলায় সংশোধিত অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত।

১১ মে ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ রুহুল আমিন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৩ আদালতে বদলি করেন। এর আগে এ সক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়।

২০১৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বাসায় ফেরার পথে পল্লবীর কালশীর পলাশনগরে আততায়ীর হাতে নিহত হন রাজীব হায়দার শোভন।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা ডা. নাজিম উদ্দীন পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

এ মামলার আসামিরা হলেন- নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফয়সাল বিন নাইম ওরফে দ্বিপু (২২), মাকসুদুল হাসান অনিক (২৬), এহসানুর রেজা রুম্মান (২৩), মো. নাঈম সিকদার ওরফে ইরাদ (১৯), নাফির ইমতিয়াজ (২২), সাদমান ইয়াছির মাহমুদ (২০) ও রেদোয়ানুল আজাদ রানা (৩০)।

আটক আসামিরা এরই মধ্যে আদালতে রাজীব হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

তবে মুফতি জসীম উদ্দিন রাহমানী নিজের জড়িত থাকার কথা স্বীকার না করলেও অন্য আসামিরা তাদের স্বীকারোক্তিতে রাহমানীকে রাজীব হত্যার নির্দেশদাতা বলে উল্লেখ করেছেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, মামলার আসামি আনসারুল্লার প্রধান মুফতি জসীম উদ্দিন রাহমানী রাজধানী ঢাকার মোহাম্মদপুরে দুটি মসজিদে জুমার খুতবায় ধর্মের বিরুদ্ধে লেখে- এমন ব্লগারদের হত্যার ফতোয়া দিতেন।

এ ছাড়া মামলার অন্য আসামিরা সবাই নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এবং তারা এ খুতবা শুনতেন। এভাবে তাদের মধ্যে যোগাযোগের সূত্র তৈরি হয়।

অভিযোগপত্রে আরো বলা হয়, জসীম উদ্দিনের লেখা বই পড়ে এবং সরাসরি তার বয়ান ও খুতবা শুনে ‘নাস্তিক ব্লগার’দের খুন করতে উদ্বুদ্ধ ও উৎসাহিত হন বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা।

এরই ধারাবাহিকতায় ব্লগার রাজীব খুন হন। রাহমানীকে এই হত্যায় উৎসাহদাতা হিসেবে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

রাজীব ‘থাবা বাবা’ নামে ব্লগ লিখতেন। সেখানে ধর্মান্ধতা ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিরোধিতাকারীদের বিপক্ষে লিখতেন তিনি।

২০১৪ সালের ২৯ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক নিবারণ চন্দ্র বর্মণ ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

এরপর ২০১৫ সালের ১৮ মার্চ ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক রুহুল আমিন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।

এমকে