আন্ডার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে গুঁড়োদুধ আমদানির নামে কোটি কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকি এবং বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযেগে ‘মেঘানা গ্রুপের প্রতিষ্ঠান তানভীর ফুড লিমিটেডের’ এমডিকে তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদকের সিনিয়র উপ-পরিচালক মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলী আগামী ২৩ অক্টোবর সকাল ১০ টায় তানভীর ফুড লিমিটেডের এমডিকে তার দফতরে তলব করেন। গত ১৪ অক্টোবর পাঠানো এ তলবি নোটিশে অরো বলা হয়েছে , গত ২০১০ এবং ২০১১ সালে বিদেশ থেকে আমদানি করা গুড়ো দুধের এলসি, ক্লিয়ারিং ফরোয়াডিং অর্থাৎ যাবতীয় কাগজপত্রের সত্যায়িত কপি সঙ্গে আনতে বলা হয়েছে।

এদিকে অভিযোগ রয়েছে, গুঁড়োদুধ আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো কতিপয় অর্থলোভী অসৎ কাস্টমস কর্মকর্তার সহযোগিতায় আন্ডার ইনভয়েসিংয়ের পাশাপাশি বিদেশে মূল্য পরিশোধের অযুহাতে অর্থ পাচার করছে। গুঁড়ো দুধ আমদানিকারক অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই মিথ্যা তথ্য ব্যবহার করে কম মূল্য দেখিয়ে শুল্ক ফাঁকি দিচ্ছে।

জানা যায়, বাংলাদেশে আমদানিকৃত দুধের প্রায় ৭০ ভাগ আসে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ডেনমার্ক ও সুইজারল্যান্ড থেকে। তানভীর ফুড লিমিটেডসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলো কৌশল হিসেবে প্রতি মেট্রিকটন গুঁড়োদুধের জন্য এক থেকে দেড় হাজার ডলার রফতানিকারক দেশগুলোতে হুন্ডির মাধ্যমে পাঠিয়।

অভিযোগ রয়েছে, ২০১১ সালের ১১ জুলাই ভ্যালুয়েশন রিপোর্ট অনুসারে এক টন গুঁড়োদুধ আমদানি করতে ডানো ব্রান্ড ব্যয় করেছে ৪ হাজার ৪০০ ডলার। অথচ একই সময় তানভীর ফুড লিমিটেড ফ্রেস গুঁড়োদুধ আমদানি করতে ব্যয় হয় মাত্র ২ হাজার ৭০০ ডলার।

অস্ট্রেলিয়ার ইকোভাল ডেইরি ট্রেডের তথ্যানুসারে ২০১১ সালের ২১ জুলাই বাংলাদেশের একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রতি মেট্রিকটন গুঁড়োদুধে মূল্য উল্লেখ করেছে ৩ হাজার ৭৯০ ডলার। অথচ একই সময় তানভীর ফুড লিমিটেপকে সরবরাহকরা প্রতি মেট্রিকটন গুঁড়োদুধের মূল্য নিচ্ছে বলে উল্লেখ্য করেছে ২ হাজার ৪৮০ ডলার। এক্ষেত্রে প্রতি মেট্রিকটনে আন্ডার ইনভয়েসিং হয়েছে ১ হাজার ৩১০ ডলার। অর্থাৎ প্রতি ৫০ মেট্রিকটনে ৬৫ হাজার ৫০০ ডলার পাচার করছে।

আরও অভিযোগ রয়েছে, গত ২০০৯ ও ২০১০ সালে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার শুল্ক থেকে বঞ্চিত হয়েছে সরকার। ওই ২ বছরে বিশ্ববাজারে প্রতি মেট্রিকটন গুঁড়োদুধের মূল্য ছিল ৩ হাজার ৭০০ ডলার থেকে ৩ হাজার ৮০০ মার্কিন ডলার।

একে/কেএইচ