সোনালী ব্যাংকের আইটি শাখার সুইফট (SWIFT) তদারককারীদের পাসওয়ার্ড হ্যাক করে লন্ডনে (ইউকে) শাখার মাধ্যমে আড়াই লাখ ডলার অর্থাৎ ২ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে তুরস্কের একটি প্রতিষ্ঠান। এ জালিয়াতির অভিযোগ অনুসন্ধান ও তদন্তে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)
এদিকে দুদকের অনুসন্ধানী কর্মকর্তা গত ৩০ জুন জরুরি ভিত্তিতে সোনালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের, সোনালী ব্যাংক ইউকে শাখা এবং শিল্পভবন করপোরেট শাখায় সংরক্ষিত যাবতীয় নথিপত্র চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা যায়, সোনালী ব্যাংক ইউকে শাখার কর্মকর্তারা গত বছর ২ জুনে ঢাকার শিল্পভবন করপোরেট শাখা থেকে এমটি ২০২ কভ (MT 202 COV) ম্যাসেজ পায়। ওই ম্যাসেয যাচাই বাছাই না করে পর দিন ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার অর্থাৎ প্রায় ২ কোটি টাকা প্রদান করেন তুরস্কের ‘দুর্দো টপকোগলু ইস্তাম্বুল তুর্কি’ নামের প্রতিষ্ঠানকে।
সোনালী ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পাসওয়ার্ড হ্যাক করে জাল ম্যাসেস তৈরি করে দুর্দো টপকোগলু ইস্তাম্বুল তুর্কি (DURDU TOPCUGLU ISTAMBUL TURKEY) নামের একটি প্রতিষ্ঠান। ওই প্রতিষ্ঠানের ব্যবহ্নত ‘ ব্যাংক তুরস্কের ইস্তাম্বুলের তুর্ক ইকমি ব্যাংকাসি এ.এস.বারকরোস বুলভারি বেসিকটাস, ইস্তাম্বুল (TURK EKONOMI BANKASI A. S BARBAROS BULVARI, BESIKTAS, ISTANBUL)।
৩ জুন জালিয়াতকারীর চক্র এমটি ১০৩ ম্যাসেস(সিঙ্গেল কাস্টমার ক্রেডিট ট্রানাসফার) সৃষ্টি করে ব্যাংক ইউকে শাখার থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার তুরস্কের ওই ব্যাংকে প্রেরণ করায়। অথচ এ অর্থ পরিশোধের বিষয়ে সোনালী ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ের ট্রেজারি মেনেজম্যান্ট শাখা এবং ঢাকার শিল্পভবন করপোরেট শাখার সঙ্গে যোগাযোগ করেনি ইউকে শাখার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এছাড়া গত ৫ জুন একই ধরনের আরেকটি পেমেন্ট দেয়ার জন্য উদ্যোগ নেয় সোনালী ব্যাংক ইউকে শাখা। কিন্তু ইউকে শাখায় পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় তারা বাধ্য হয়ে বাংলাদেশে সোনালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে যোগাযোগ করে। আর সেই সঙ্গে বেরিয়ে আসে আগের ২ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার পরিশোধের বিষয়টি।
এ জালিয়াতির ঘটনায় গত বছর ১৩ জুন সোনালী ব্যাংক শিল্পভবন কপোরেট শাখার ডিজিএম নেপাল চন্দ্র সাহার নির্দেশে এজিএম আক্তারুজ্জামান বাদী হয়ে মতিঝিল থানায় একটি মামলা (মামলা নং-১৮) দায়ের করেন।
আর এ মামলায় আসামি করা হয় সোনালী ব্যাংক শিল্পভবন কপোরেট শাখার সুইফট অপারেটর মো. মনোয়ার হোসেন, জুনিয়র আইটি অফিসার, সুইফট তদারকারী ও ম্যাসেস সেন্ডারে দায়িত্বে নিয়োজিত মো. শাহ আালমকে। পরে মতিঝিল থানা থেকে মামলাটি তদন্তের জন্য দুদকে পাঠানো হয়।
ঢাকা, একে, ১ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম) // এআর





