নোয়াখালীতে আব্দুল মালেক উকিল মেডিকেল কলেজে সাড়ে ৬ হাজার টাকার বই ক্রয়ের বিল ভাইচার হয়েছে ২২ লাখ টাকার। এভাবেই ওই মেডিক্যাল কলেজে ৬ কোটি টাকার বই ক্রয় করা হয়েছে।

তবে এবার ওই মেডিকেল কলেজের দুর্নীতিবাজদের ধরার জন্য মাঠে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

সম্প্রতি কমিশন উপ-পরিচালক মোঃ জাহাঙ্গীর আলমকে অনুসন্ধানী কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছে। দুদকের এ কর্মকর্তা শিগগিরই অনুসন্ধানী কার্যক্রম শুরু করবেন বলে জানা গেছে।

জানায়, গত ২৩ অক্টোবর একটি জাতীয় দৈনিকে ‘বই কেনায় ডাকাতি : সাড়ে ৬ হাজার টাকার বই ২২ লাখ টাকায়’ শীর্ষক সংবাদ প্রকাশিত হয়।

প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়, নোয়াখালিস্থ আব্দুল মালেক উকিল মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষের সঙ্গে যোগাসাজশ করে ‘অরবিটাল ইন্টারন্যাশনাল ইনকরপোরেশন’ নামক বই সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান সরকারের ৬ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়।

শুধু তাই নয়, প্রকাশ হয়নি-এমন বইও ‘সরবরাহ’ দেখিয়ে ২ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়। জালিয়াতির এ বিষয়টি জানা জানির পর 'সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট টেকনিকেল ইউনিট-সিপিটিইউ টেন্ডারটি' বাতিলের সুপারিশ করে ।
এবিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় । এরপরও আব্দুল মালেক উকিল মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের সহায়তায় ওই সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কিছু বই ‘সরবরাহ’ দেখিয়ে আরো প্রায় ২ কোটি টাকা ছাড় করিয়ে নিয়েছে।

এদিকে গত ৭ ডিসেম্বর মেডিকেল কলেজের বই সরবরাহে দুর্নীতি তদন্তে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব (শৃঙ্খলা)কে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে।

পরে ১০ ডিসেম্বর বাংলাদেশের কম্পট্রোলার এন্ড অডিটর জেনারেল কার্যালয় তিন সদস্যের আরো একটি কমিটি গঠন করে। আর এ দুটি কমিটিকেই প্রতিবেদন পেশের জন্য যথাক্রমে ১৫ কার্যদিবস এবং ৭ কার্যদিবস বেধে দেয়।

কিন্তু গত ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত কোনো প্রতিবেদনই জমা পড়েনি। ফলে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা অবশিষ্ট অর্থও ছাড় করিয়ে নেয়ার পায়তারা করছেন বলে জানা যায়।

একে