আহসানউল্লাহ্ ইউনির্ভাসিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনলোজি'র ৭ম সেমিস্টারের ছাত্র সুবীর চন্দ্র দাস হত্যা মামলায় দুই সহপাঠীর মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। এছাড়া দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেয়া হয়েছে।

সোমবার ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এসএম কুদ্দুস জামান এ রায় ঘোষণা করেন।রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক এ হত্যাকাণ্ডকে ‘ঠাণ্ডা মাথার খুন’বলে উল্লেখ করেন।

মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রাপ্তরা হলেন- আসামি ফরহাদ হোসেন ওরফে সিজু ও মো. হাসান। তারা দুজনেই পলাতক রয়েছেন।

যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তরা হলেন- মো. সফিক আহমেদ ওরফে রবিন ও শাওন ওরফে কামরুল হাসান।

একইসঙ্গে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত দুজনের প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেয়া হয়েছে।

এছাড়া তথ্য-প্রমাণ না পাওয়ায় মামলার চার্জশিটভুক্ত অপর আসামি লুৎফা আক্তার ওরফে সনিকে মামলার দায় থেকে খালাস দেয়া হয়েছে।

রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর খোন্দকার আব্দুল মান্নান জানান, ‘অত্যন্ত দ্রুত সময়ের মধ্যে এ রায় পেয়ে আমরা সন্তুষ্ট। এখন যত দ্রুত সম্ভব পলাতক আসামিদের গ্রেফতার করে মামলার রায় কার্যকর করাই আমাদের দাবি।’

আদালত সূত্র জানায়, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে ২০১৩ সালের ১০ জানুয়ারি আসামি মো. হাসানের বাসায় বসে সুবীর চন্দ্র দাসকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। পরিকল্পনা মোতাবেক পরস্পর যোগসাজসে একত্রিত হয়ে ১২ জানুয়ারি সুবীর চন্দ্র দাসকে সাভার উপজেলা কমপ্লেক্সস্থ সরকারি কোয়ার্টার থেকে বেলা ১২টার দিকে ডেকে নিয়ে যায়। সন্ধ্যা ৬টার আগে যে কোনো সময় আসামিরা সুবীর চন্দ্র দাসকে নৃশংসভাবে হত্যা করে।

পরে তারা মৃতদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে বুড়িগঙ্গা নদীতে ফেলে দেয়। সাভার থানাধীন ভাকুর্তা ইউনিয়নের কোটালিপাড়া সাকিনস্থ হাজী মোহাম্মদ আলীর ব্রিক ফিল্ডের পূর্ব পাশ থেকে নদীর পূর্ব পাড়ে সুবীর চন্দ্র দাসের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা গৌরাঙ্গ চন্দ্র দাস বাদী হয়ে সাভার থানায় একটি মামলা করেন।

মামলার তদন্ত শেষে ২০১৩ সালের ২৮ অক্টোবর ওই ৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। এরপর চলতি বছরের ১১ এপ্রিল আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত।

সূত্র আরও জানায়, মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামি ফরহাদ হোসেন ওরফে সিজু ও যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত মো. শফিক আহমেদ ওরফে রবিন এ মামলায় ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

অভিযোগপত্রে উল্লেখিত ২৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৭ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন।

এমবি