চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক)র চেয়ারম্যান আব্দুস ছালামকে রক্ষায় নানা কৌশল নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কর্মকর্তারা। সরকারি জমি দখল করে ব্যাক্তি মালিকানা ৯ তলা ভবন নির্মাণের নকশা অনুমোদন করে (চউক) চেয়ারম্যান।
ফলে সরকারের ৫৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে (চউক)র চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, জনপ্রীতি এবং দায়িত্ব পালনে অবহেলাসহ সুনিদিষ্ট ৩ টি গুরুতর অভিযোগ দুদকে রয়েছে। অথচ চউক চেয়ারম্যান আব্দুস ছালামকে ওইসব অভিযোগ থেকে অব্যাহতি চেয়ে তদন্ত প্রতিবেদনে বিষয়টি নথিভুক্তির সুপারিশ করেছে দুদকের সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা।
এদিকে অভিযোগ উঠেছে, দুদক কর্মকর্তারা অভিযুক্তদের পক্ষ নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন ছাড়াই আনুষাঙ্গিক রেকর্ডপত্র সংযুক্ত না করেই তারা দায়সারা তৈরি করা প্রতিবেদনে অভিযুক্তদের অব্যাহতির পক্ষে সাফাই গেয়েছেন।
জানা যায়, ২০০৯ সালের ৭ এপ্রিল চট্টগ্রামের খুলশি এলাকার পূর্ব নাসিরাবাদ মৌজায় ৮ দশমিক ২৫ কাঠার জমির ওপর নকশা অনুমোদন করে স্বাক্ষর করেন চেয়ারম্যান আব্দুস ছালাম।
দুদকের অনুসন্ধানে ওই জমির ব্যক্তি মালিকানা হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হলেও প্রকৃত পক্ষে সিএস রেকর্ডে ওই জমির মালিক সরকার।দুদক কর্মকর্তারা এ বিষয়টি কৌশলে এরিয়ে যাবার চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।তারা শুধুমাত্র আর.এস, দাগ নং- ২৭২৬ (অংশ), ২৭৩৫ (অংশ), এবং বিএস দাগ নং ৩৩৭৯ (অংশ), ৩৩৮০ (অংশ), ৩৩৮১ (অংশ) এবং ৩৩৮২ (অংশ) এর পৈত্রিকসূত্রে মালিক কালা মিয়া, জাকের আলীসহ ১৫ জন প্রতিষ্ঠিত করাতে চান।
মিশন ডেভলপারের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে সিএস পর্চায় কি রয়েছে তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। জমির মালিকানার ধারাবাহিকতা দেখানো হয়নি। শুধু বলা হয়েছে, নকশায় এক ইঞ্চি পরিমাণ একটি নালা দেখা যাচ্ছে।
ওই জমির উপর একটি বহুতল ইমারত নির্মাণের জন্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করলে চউক ২০০৯ সালে ৭ এপ্রিল অনুমতি দেয়া হয়।
দুদকের প্রতিবেদনে আর.এস, এবং বি.এস, দাগের নকশার বিবরণ উল্লেখ করে বলা হয়, এখানে সরকারি খাস জমির অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। মৌজা শিটে নালার কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। অথচ মিশন ডেভলপার লিঃ কোম্পানি সরকারি সম্পত্তি দখল করে ৯ তলা ভবন নির্মাণ করে।
ফলে সরকারের জমি আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে চউকের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে।এ বিষয়ে মিডিয়ায় বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু দুদকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নাকি মিডিয়ায় প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনের সত্যতা খুঁজে পাননি।
সূত্র মতে, এছাড়া চউক চেয়ারম্যান আব্দুস ছালামের বিরুদ্ধে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের পূর্বানুমোদন না নিয়ে ৬০ কাঠা জমির উপর 'দিল্লী পাবলিক স্কুলের' নামে একটি প্রতিষ্ঠানের নকশা অনুমোদন দেন। ওই অভিযোগও অনুসন্ধান শেষে নথিভুক্তির সুপারিশ করেন উপ-পরিচালক মনিরুল হক (স্মারক নং-দুদক/৬২-২০১৩/চট্টগ্রাম/ অনু: ও তদন্ত-২)।
এ অভিযোগ থেকে চউক চেয়ারম্যান এবং সংশ্লিষ্টদের অপরাধীদের অব্যাহতি দেয়ার সাফাই গেয়েছেন দুদক কর্মকর্তারা। অথচ এ ঘটনায় ওই সময় চট্টগ্রাম কোতোয়ালি থানায় মামলা হয়।
আরো জানা যায়, ২০০৭ সালে ওয়ান ইলেভেনের সময় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক)র অভিযুক্ত চউকের চিহ্নিত ৭ প্রকৌশলী বাচাঁর জন্য' রাজধানীতে ' ট্রূথ কমিশনে' গিয়ে ঘটনার দায় স্বীকার করে মার্জনাপত্র গ্রহণ করেন। তারা জরিমানাকৃত অর্থও পরিশোধ করেন।
জানা যায়, অভিযুক্ত চউকের ওই ৭ প্রকৌশলী 'অক্সিজেন জংশন থেকে কাপ্তাই রোড' পর্যন্ত সংযোগ সড়ক পর্যন্ত উন্নয়ন-সম্প্রসারণে ত্রুটির কথা স্বীকার করে অপরাধ মার্জনা নিয়েছেন।
এ ধরনের মিথ্যের আশ্রয় নেয়ার ঘটনা এবং ৬০ কাঠা সরকারি জমির উপর 'দিল্লী পাবলিক স্কুলের নকশার অনুমোদনের অভিযোগে ২০০৯ সারেল ২৭ মে চউকের চিহ্নিত ওই ৭ প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার হয়। কিন্তু ওই ৭ প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজুর হয়নি। চউকরে আইন উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মাহমুদ 'ট্রূথ কমিশনে যাওয়ার কারণে প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ নেই-বলে মতামত দেন।

তিনি বলেন,স্ব-প্রণোদিত তথ্য অধ্যাদেশ-২০০৮ এর ২(ঝ), ২৬(৩) ধারা অনুযায়ী একই অভিযোগে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ নেই।
দুদকের উপ-পরিচালক (অনুসন্ধান ও তদন্ত-২) মোঃ আব্দুল হাই ২০১৪ সালে ২৩ অক্টোবর মতামত দিয়ে অভিযুক্তদের অব্যাহতি প্রদানের পক্ষে সাফাই গেয়ে মতামত দেন। আর একই বিভাগের পরিচালক উইং কমান্ডার তাহিদুল ইসলাম ‘অনুগ্রহ করে আলোচনা করুন’ মর্মে মতামত দিয়ে স্বাক্ষর করেন।
২০০৮ সালের ৮ অক্টোবর মামলা করে দুদক। আসামিরা হলেন, সিডিএর ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী ইকবাল হোসেন মজুমদার, সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী হাসান বিন শামস, সাবেক সহকারি প্রকৌশলী নূরুল আমিন ভুইয়া, সহকারি প্রকৌশলী ইলিয়াস ট্রথ কমিশন থেকে মার্জনা নেন। বর্তমানে দুদক সব অভিযুক্তকেই রক্ষার চেষ্টায় রয়েছেন।
একে