অপহরণের পর নারায়ণগঞ্জে ৭ খুনের ঘটনায় র‌্যাব ১১'র সঙ্গে ৬ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে কি না তা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে র‌্যাবের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে সিইআইডিকে বলা হয়েছে।
সোমবার বিচারপতি মোহাম্মদ রেজাউল হক ও বিচারপতি গোবিন্দচন্দ্র ঠাকুরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
মোহাম্মদ শামীম সরদার নামে এক আইনজীবী পত্রিকায় প্রকাশিত নারায়ণগঞ্জের অপহরণ ও খুনের ঘটনায় র‌্যাবের সঙ্গে ৬ কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগের বিষয়টি আদালতের নজরে আনলে আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে এ আদেশ দেয়।
আদেশে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবকে প্রধান করে স্বরাষ্ট্র, আইন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মোট ৭ জন সদস্য নিয়ে এ কমিটি গঠন করতে বলা হয়েছে। তদন্ত কমিটিকে আগামী ৭ দিনের মধ্যে একটি অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
ওই আইনজীবী আদালতে দৈনিক প্রথম আলো, কালের কণ্ঠ, ইত্তেফাকসহ মোট ৪টি পত্রিকা আদালতের নজরে আনেন।
এছাড়া এই অপহরণ ও খুনের ঘটনায় ভিকটিমের পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা দিতে পুলিশের মহাপরিদর্শককে নির্দেশও দিয়েছেন আদালত।
এর আগে সকালে একই ঘটনা তদন্তে র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) ড. আফতাব উদ্দিনকে প্রধান করে ৪ সদস্য বিশিষ্ট একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জের সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম ও আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সেভেন মার্ডারের ঘটনায় র‌্যাব সহায়তা করেছে বলে ভিকটিম প্যানেল মেয়র নজরুলের পরিবারের পক্ষে অভিযোগ তোলা হয়েছে।
রোববার নজরুল ইসলামের শ্বশুর শহীদুল ইসলাম রাইফেল ক্লাবে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, র‌্যাব নজরুল ইসলামকে তুলে নিয়ে হত্যা করেছে। এর জন্য আরেক কাউন্সিলর নূর হোসেনসহ কয়েকজনের কাছ থেকে ৬ কোটি টাকা নিয়েছেন র‌্যাবের কয়েকজন কর্মকর্তা।
সংবাদমাধ্যমকে শহীদ চেয়ারম্যান আরো বলেন, ২৭ মে দুপুরে যখন নজরুলকে দুটি গাড়িতে করে অপহরণ করা হয়, ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন আমাদের জানিয়েছেন, দু'টি মাইক্রোবাসে করে ওদের তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।’ তারা আমাকে বলেন, র‌্যাব-১১ লেখা একটি গাড়ি সকাল থেকেই সেখানে ছিল।
শহীদুল বলেন, ‘সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজীতে র‌্যাব-১১-এর সিও তারেক সাঈদের সঙ্গে সেদিন দেখা করতে গেলে সিও আমাকে কয়েক ঘণ্টা আটকে রেখে নানা রকম জিজ্ঞাসাবাদ করেন।’
[b]ঢাকা, কেএ, ৫ মে (টাইমনিউজবিডি.কম) // কেএইচ

[/b]