ব্রিটিশ নাগরিক সামিয়ুনের ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
সোমবার দুপুরে সামিয়ুনকে ঢাকার সিএমএম আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন জানায় শাহবাগ থানা পুলিশ। শুনানি শেষে ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জামান নূর।
রোববার রাত সোয়া ১১টায় কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে সামিয়ুনকে গ্রেফতার করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় তার কাছ থেকে ৬টি মোবাইল, ১টি ব্রিটিশ পাসপোর্ট ও এটিএম কার্ড, ব্যাংক চেক ও অন্যন্য সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়।
ডিবি জানিয়েছে, সিরিয়া ফ্রন্টে সশস্ত্র জিহাদি কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে আইএস ও সিরিয়ার নুসরা বিগ্রেডের জন্য মুজাহিদ সংগ্রহ করতে বাংলাদেশে এসেছিলেন সামিয়ুন।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর গোয়েন্দা পুলিশ আইএস ও নুসরা ব্রিগেডের সদস্য আসিফ আদনান ওরফে জুলকারনাইন ও ফজলে এলাহি তানজিলকে গ্রেফতার করে। পরে তাদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা একিউআইএস বা আল কায়েদা ইন ইন্ডিয়ান সাব কন্টিনেন্টের কার্যক্রম সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেন। জিজ্ঞাসাবাদে তারা ব্রিটিশ নাগরিক সামিয়ুন রহমান ওরফে ইবনে হামদান সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য দেন।
তাদের তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হয় সামিয়ুনকে।
ডিবি আরও জানায়, আইএস জঙ্গিরা তাদের জনবল বাড়ানোর জন্য বিশেষ করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস ও কমেন্টসকে প্রাধান্য দেয়। শুধু ফেসবুকই নয় অনলাইনে অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তারা তৎপরতা চালিয়ে থাকে।
গ্রেফতারকৃত সামিয়ুন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক। তার পূর্বপুরুষ হবিগঞ্জের নবীগঞ্জের বাসিন্দা ছিলেন। ব্রিটেনে জন্মগ্রহণের পর সেখানেই উচ্চশিক্ষা নেন তিনি।
তাদের উদ্দেশ্য হলো, সম্প্রতি আল কায়দার নেতা আইমান আল জাওয়াহিরির ঘোষিত একিউআইএসের জন্য বাংলাদেশ ও মায়ানমার এ জঙ্গি নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠা করা।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত সামিয়ুন আরো জানান, ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে একই বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত সিরিয়ায় নুসরা ব্রিগেডের সদস্য হয়ে জিহাদি কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেছেন তিনি। এ কার্যক্রমে অংশ নিতে এক বন্ধুসহ ব্রিটেন থেকে তুরস্ক হয়ে সিরিয়ায় যান তিনি। জিহাদি কার্যক্রমে অংশগ্রহণের জন্য সক্ষম যুবক সংগ্রহে ইতোপূর্বে মৌরতানিয়া ও মরক্কোতেও ভ্রমণ করেন তিনি।
পিস টিভির উপস্থাপক অ্যান্থনি এর ফেসবুক পেজের সূত্র ধরে সিরিয়ায় জিহাদে অংশগ্রহণে ইচ্ছুক বাংলাদেশি নাগরিক আসিফ আদনান ওরফে জুলকারনাইনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে বাংলাদেশ থেকে সিরিয়ায় মুজাহিদ প্রেরণের লক্ষ্যে গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে তিনি পুনরায় বাংলাদেশে আসেন।
ডিবি আরও জানায়, ইতোপূর্বে গ্রেফতারকৃত আসিফ আদনান, ফজলে এলাহি তানজিল, সেকান্দর আলী নকি ও তাসনিম ওরফে নাহিদের মাধ্যমে বাংলাদেশের নিষিদ্ধ জঙ্গি গোষ্ঠীর সক্রিয় সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সিরিয়ায় একটি জিহাদি টিম পাঠানোর পরিকল্পনা করেন সামিয়ুন। এ বিষয়ে তার উদ্দেশ্য ছিল সিরিয়ায় জিহাদী কার্যক্রম শেষে বাংলাদেশ ও মায়ানমারে আল কায়েদার আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক স্থাপন করা।
গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম জানান, এ বিষয়ে তাদের যোগাযোগ সম্পর্কিত বেশ কিছু ক্ষুদে বার্তা মামলার আলামত হিসেবে সংগ্রহ করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত সামিয়ুন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানান, আসিফ আদনান ওরফে জুলকারনাইন, জাবের, আবু নায়না, আব্দুল করিম ও আব্দুল্লাহ তার সহযোগী ছিলেন।
ঢাকা, ২৯ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, জেডআই





