রাজনৈতিক ও গুরুত্বপূর্ণ মামলার একাধিক আসামি জামিন পাওয়ার পর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার বা কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্তি না নিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলা কারাগার থেকে মুক্তি নিচ্ছেন।
জামিনে বের হওয়ার পর পুলিশ ফের যাতে তাঁদের অন্য মামলায় গ্রেপ্তার করতে না পারে, সে জন্য তাঁরা এ পন্থা বের করেছেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশ সদর দপ্তরের উপপুলিশ কমিশনার (অপরাধ তথ্য ও প্রসিকিউশন বিভাগ) কার্যালয় থেকে এ বিষয়ে সহায়তা চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক ও গুরুত্বপূর্ণ মামলার এসব আসামি ঢাকার বাইরের কারাগার থেকে মুক্তি পেলে পরবর্তী সময়ে গোয়েন্দা নজরদারি করা সম্ভব হয় না। এ ছাড়া পরবর্তী মামলায় তাঁদের গ্রেপ্তারও সম্ভব হয় না। এতে পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কা থাকে।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, এসব আসামি যখন একাধিক মামলায় আটক হন, তখন বুঝতে পারেন, তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আবার তাঁকে গ্রেপ্তার করতে পারে। ওই আসামি নিজ জেলায় বা অন্য জেলায় তাঁর নিকটাত্মীয়দের মাধ্যমে আদালতে নালিশি মামলা (সিআর) রুজু দেখান। পরে সিআর মামলার বাদী আদালতে আবেদন করে জানান, মামলার আসামি বর্তমানে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার বা কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে একটি মামলায় আটক আছেন। আদালত তাঁকে সিআর মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সিডব্লিউ (আসামিকে জেলহাজতে পাঠানোর পরোয়ানা) এবং পিডব্লিউ (হাজির হওয়ার) ইস্যু করে। তখন ওই আদালতে আসামিকে নিয়মিত হাজিরা দিতে হয়।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সিআর মামলায় হাজিরার জন্য আসামিকে যখন বাদীর এলাকার জেলা কারাগারে নেওয়া হয়, তখন আসামি নিশ্চিত হন যে শিগগিরই তিনি জামিন পাবেন। আসামি তখন সিআর মামলায় জামিনের আবেদন করেন। সাজানো সিআর মামলায় আসামি সহজেই জামিন পেয়ে থাকেন। ঢাকা থেকে সর্বশেষ মামলায় জামিন পাওয়ার পর ওই আসামির রিলিজ আদেশ বিশেষ বাহক মারফত সংশ্লিষ্ট জেলা কারাগারে পাঠানো হয়ে থাকে এবং আসামি সেখান থেকে মুক্তি পেয়ে যান। ফলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ওই আসামি কবে, কখন, কোথা থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন, তা জানতে পারে না। জেলা কারাগার থেকে এসব আসামি জামিনে বা খালাস পেয়ে মুক্ত হওয়ার সময় জেলা পুলিশকে জানানোর জন্য চিঠিতে বলা হয়। তাতে গোয়েন্দা নজরদারি সম্ভব হবে বলে মনে করে পুলিশ।
এমআইএস





