সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অস্থায়ী ১১টি কোরবানীর পশুর হাট। আর এ সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

অভিযোগ উঠেছে, এ সিন্ডিকেট এতই শক্তিশালী যে, ঝিগাতলা হাজারীবাগ মাঠের সিডিউল বিক্রি হয় ১৯টি সেখানে জমা পড়ে ১টি। লালবাগ মরহুম হাজী দেলোয়ার হোসেন খেলার মাঠ বাবুবাজার বেড়ীবাধ সংলগ্ন খালি জায়গা (বিকল্প আরমানিটোলা) ৩ সিডিউলের মধ্যে জমা হয় ৩টি।  এ সিডিউলে সবোর্চ্চ দরদাতা হলেন শেখ মো. আলমগীর। যার দরপত্রের মূল্য ১ কোটি ১ লাখ ১ হাজার টাকা।

গত বছর আরমানিটোলা হাটের ৬টি দরপত্রের মধ্যে সর্বোচ্চ দরদাতা ইলিয়াস রশিদ ২ কোটি ১১ লাখ ৫০১ টাকা তবে এর আগের বছর সর্বোচ্চ দর ছিল ৪ কোটি ৩৮ লাখ ৩০ হাজার টাকা। কামরাঙ্গীরচর ইসলাম চেয়ারম্যানের বাড়ির  মোড় থেকে দক্ষিণ দিকে বুড়িগঙ্গা নদীর বাঁধ সংলগ্ন (নতুন হাট) জায়গা ৭ সিডিউলের মধ্যে জমা হয় ৩ টি। যার সবোর্চ্চ দরদাতা হাজী মো. আবুল হোসেন সরকার ১ লাখ ১০ হাজার। ফলে টেন্ডারে কাংখিত পাচ্ছে না সিটি করপোরেশন।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে নগর ভবন অডিটরিয়ামে প্রাপ্ত দরপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে সর্ব্বোচ্চ দরদাতার নাম ঘোষণা করেন প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা খালিদ আহম্মেদ। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে ৬ সদস্যে একটি কমিটি প্রাপ্ত এ দরপত্র চুড়ান্ত করবেন।

যুবলীগের নেতা মাসুদ রানা  ১১ লাখ ১১ হাজার ১০ টাকা, গতবছর ৫৫ লাখ ৩৪ হাজার টাকা ছিল। রহমতগঞ্জ  খেলার মাঠ ৩টি সিডিউলের মধ্যে ৩টি জমা হয়। যার সর্বোচ্চ দরদাতা মুসলিম ফ্রেন্ডস সোসাইটি ৬ লাখ ৬৩ হাজার টাকা। গত বছর ৬ লাখ ৩১ হাজার ৬০৮ টাকা ছিল। মেরাদিয়া বাজার ১৩টি সিডিউলের মধ্যে জমা হয় ৪টি সবোর্চ্চ দরদাতা সাবাহ এন্টাপ্রাইজ ৫৬ লাখ টাকা, গত বছর ২৬ লাখ ৯০ হাজার ৬৬৭ টাকা। নারিন্দা সাদেক  হোসেন খোকা মাঠ ১৩টি সিডিউলের মধ্যে জমা হয় ৪টি সবোর্চ্চ দরদাতা মোহাম্মদ আলী ৫৬ লাখ ১ হাজার টাকা গত বছর ২৭ লাখ ১ হাজার টাকা। গোলাপবাগ মাঠের পাশে সিটি করপোরেশনের আদর্শ স্কুল মাঠ ৯টি সিডিউলের মধ্যে জমা হয় ৭টি সবোর্চ্চ দরদাতা হামিদুল্লাহ ১০ লাখ ১০ হাজার টাকা গত বছর ৬১ লাখ ৬৬ হাজার টাকা।

উত্তর শাজাহানপুর খিলগাঁও রেলগেট বাজার সংলগ্ন মৈত্রী সংঘের মাঠ ৩টি সিডিউলের মধ্যে জমা হয় ৩টি সবোর্চ্চ দরদাতা নুওে নবী ভাইয়া রাজু ৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা গত বছর ৫ লাখ ৫৫ হাজার টাকা। ধোপখোলা ইস্ট অ্যান্ড ক্লাব মাঠ ১১টি সিডিউলের মধ্যে জমা হয় ৩টি সবোর্চ্চ দরদাতা হাজী মো.শামসুজ্জোহা ১০ লাখ ৮ হাজার টাকা গত বছর ৯ লাখ ৪৬ হাজার টাকা।

গোপীবাগে ব্রাদার্স ইউনিয়ন সংলগ্ন বালুর মাঠ ৬ টি সিডিউলের মধ্যে জমা হয় ৪টি সবোর্চ্চ দরদাতা শহিদ উদ্দিন আহমেদ ২৫ লাখ ৭২ হাজার ৫০০টাকা গত বছর ২১ লাখ টাকা। পোস্তগোলা শশ্মান সংলগ্ন খালি জায়গা ৪টি সিডিউলের মধ্যে জমা হয় ৪টি সবোর্চ্চ দরদাতা হাজী মো. রুবেল ১০লাখ ২০ হাজার টাকা গত বছর ৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা।

জানা যায়, গতকাল ১১ আগস্ট ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ৮টি অস্থায়ী কোরবানি পশুর হাটের ইজারার দরপত্র জমা নেয়া হয়। কিন্তু সিন্ডিকেটের কারণে ৬০টি সিডিউল বিক্রি হলেও জমা হয়েছে ৭টি হাটের জন্য ২৪টি দরপত্র।

অপর একটি ঢাকা পলিটেকনিকের খেলার মাঠের জন্য কোনও দরপত্র জমা পড়েনি। ৮টি  কোবানীর পশুর হাট হলো; আগারগাঁও, খিলক্ষেত, উত্তরা আজমপুর,  সোনারগাঁও জনপদ, তেজগাঁও পলিটেকনিকের মাঠ, বারিধারা  জে ব্লক, মিরপুর-৬ এবং বনানী রেলস্টেশন সংলগ্ন খালি জায়গা।

জানা গেছে, শাসকদলীয় এই সিন্ডিকেট চক্র এতটাই প্রভাবশালী যে, এবার পশুর হাটের জন্য তাদের বাইরে অন্য কেউ প্রায় সিডিউলই কিনতে পারেনি। আবার যারা নানা কৌশল করে সিডিউল কিনেছেন তাদের প্রায় কেউই সেই সিডিউল জমা দিতে পারেননি বলে অভিযোগ উঠছে।

এ বিষয়ে ডিএনসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম বলেন,  রাজধানীতে অস্থায়ী পশুর হাটের প্রধান নির্বাহী আহবায়ক করে একটি মূল্যায়ণ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ঢাকা,একে, ১২ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, এসএইচ