দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সঙ্গে এশিয়া প্যাসিফিক গ্রুপের (এপিজি) চূড়ান্ত পর্যায়ের বৈঠক শুরু হয়েছে। বৈঠকে এপিজির প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বিএফআইইউ-সিআইডির শীর্ষ কর্মকর্তারা রয়েছেন।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এই বৈঠক শুরু হয়েছে।
এর আগে এপিজির প্রতিনিধি দল ১১ অক্টোবর (রোববার) দুদক-বিএফআইইউ-সিআইডির সঙ্গে প্রথম দফায় বৈঠক করে। ওই বৈঠকে ব্যাংকিংখাতের দুর্নীতি ও পাচার রোধে ৪০টি সুপারিশ করে এপিজি। এ সময় এপিজি দুদকের কাছে বেসিক ব্যাংক, হলমার্ক কেলেঙ্কারি, বিসমিল্লাহ গ্রুপসহ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতির বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তা জানতে চাওয়া হয়। জবাবে দুদক ব্যাংকিংখাতে দুর্নীতিরোধ ও অর্থপাচাররোধে গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরে।
বৈঠক শেষে এক প্রেস বিজ্ঞাপ্তিতে দুদক চেয়ারম্যান মো. বদিউজ্জামান বলেন, ‘বাংলাদেশের জন্য তৃতীয় বারের মতো মিউচ্যুয়াল ইভালুয়েশন সুফল নিয়ে আসবে। কেননা এফএটিএফ এর অবশিষ্ট শর্তসমূহ পরিপালনে আমরা সাধ্যানুযায়ী সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। ২০০৮ ও ২০১২ সালের এপিজি কর্তৃক অন সাইট ভিজিটের পর্যবেক্ষণসমূহের আলোকে আমরা সেগুলোকে মূল্যায়ন ও বাস্তবায়নের দিকটি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করেছি।’
এর আগে একই দিন সচিবালয়ে অর্থ প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গেও বৈঠক করেন এপিজির প্রতিনিধি দল। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক প্রতিক্রিয়া মানিলন্ডারিং বিষয়ে বাংলাদেশের কর্মকান্ডে এপিজি সন্তুষ্ট বলে জানান তিনি।
মুদ্রা পাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ ব্যবস্থা মূল্যায়নে এপিজির সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল গত ১০ অক্টোবর (শনিবার) দুপুরে ঢাকায় পৌঁছায়। এ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে রয়েছেন অস্ট্রেলীয় নাগরিক ডেভিড শ্যানন।
প্রতিনিধি দলটি ২২ অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশে মুদ্রা পাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক সরেজমিনে পরিদর্শন করবেন।
আজকের বৈঠকে দুদক চেয়ারম্যান মো. বদিউজ্জামান, কমিশনার (তদন্ত) মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু, কমিশনার (অনুসন্ধান) ড. নাসিরউদ্দীন আহমেদ, মহাপরিচালক (বিশেষ অনুসন্ধান ও তদন্ত) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এমএইচ সালাহউদ্দিন ও মহাপরিচালক জিয়াউদ্দিন আহমেদ (অনুসন্ধান ও তদন্ত-২) সহ ৬ মহাপরিচালক, সংশ্লিষ্ট পরিচালক এবং উপপরিচালকরা উপস্থিত রয়েছেন।
এপিজি হচ্ছে ফান্যান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্কফোর্স (মানি লন্ডারিং) ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে নিয়োজিত আন্তর্জাতিক সংস্থা (এফএটিএফ)-এর আঞ্চলিক সংস্থা। এর কাজ হচ্ছে, বিভিন্ন দেশে মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধসংক্রান্ত আইনি দুর্বলতা ও ঝুঁকি মোকাবিলায় বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়ার পাশাপাশি সেগুলো বাস্তবায়নে সহায়তা করা।
১৯৮৯ সালে ফান্যান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্কফোর্স (এফএটিএফ) প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে সংস্থাটি মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে কাজ করে আসছে। এটি এপিজির তৃতীয় পর্যায়ের মূল্যায়ন। এর আগের মূল্যায়নে মুদ্রা পাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে অগ্রগতি হওয়ায় বাংলাদেশকে ‘গ্রে-লিস্ট’থেকে সাধারণ লিস্টে র্যাংকিং করে এপিজি।
এমআর





