জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন শুনানির জন্য আজ (রোববার) দুপুর ২টায় সময় ধার্য আছে।
বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চের কার্যতালিকায় মামলাটি ৩৬ নম্বর অবস্থানে আছে। সেখানে সময়ও নির্দিষ্ট করা আছে। খালেদা জিয়ার আইনজীবী এহসানুর রহমান এসব তথ্য জানান।
বিচারিক আদালতের দেয়া সাজার বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার করা আপিল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় জামিন চেয়ে এই আবেদন করেন তিনি।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় সাজার বিরুদ্ধে করা খালেদা জিয়ার আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ওই মামলায় বিচারিক আদালতে খালেদা জিয়াকে দেওয়া অর্থদণ্ডাদেশ স্থগিত করেছেন উচ্চ আদালত।
আদেশে এ মামলায় বিচারিক আদালতের নথিও তলব করা হয়েছে। উচ্চ আদালতের আদেশ পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে ওই নথি হাইকোর্টে পাঠাতে সংশ্লিষ্ট আদালতকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ওইদিন আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে ছিলেন- আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী, জয়নুল আবেদীন, মওদুদ আহমদ, জমিরউদ্দিন সরকার ও মাহবুব উদ্দিন খোকন প্রমুখ।
রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। আর দুদকের পক্ষে ছিলেন- খুরশীদ আলম খান।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) ঢাকার বকশিবাজার আলীয়া মাদ্রাসায় স্থাপিত ৫নং বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামান বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেয় আদালত। এবং তারেক রহমান’সহ বাকি ৫ আসামিদের ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড’সহ ২ কোটি ১০ লাখ টাকা করে জরিমানা করে আদালত।
খালেদা জিয়া ছাড়া এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন- বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, হলেন মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) কাজী সলিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান। রায়ে তারেক রহমান, শরফুদ্দীন আহমেদ ও মমিনুর রহমানকে পলাতক দেখানো হয়েছে।
রায়ের দিন আদালত ৬৩২ পৃষ্ঠার রায়ের সারসংক্ষেপ পড়া হয়। রায়ের অনুলিপি ১ হাজার ১৭৪ পৃষ্ঠার।
রায়ের পরপরই খালেদা জিয়াকে নাজিম উদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে নেয়া হয়। নির্জন কারাগারের একমাত্র বন্দি হিসেবে বেগম জিয়া সেখানেই আছেন।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া, তারেক রহমান’সহ ৬ জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
২০১০ সালের ৫ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপপরিচালক হারুন-আর রশিদ। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।
এমবি





