দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) প্রভাবশালী ও ক্ষমতাবানদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট দুর্নীতি, লোপাট এবং বিপুর অবৈধ সম্পদের অভিযোগ করে প্রতিকার পাচ্ছে না লোকজন। এমনকি তারা উল্টো নানা হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা যায়, ‘তফসিলের দোহাই দিয়ে নানা অজুহাতে বড় বড় দুর্নীতির ৯৬ ভাগ অভিযোগই বাছাইকালে ফেলে দেয় দুদক। শুধু তাই নয় সরকার সমর্থিত প্রভাবশালী সাবেক ও বর্তমান মন্ত্রী, এমপি, নেতা এবং আমলার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদের সুনিদিষ্ট অভিযোগ দাখিল করা অধিকাংশ অভিযোগ চাপা পড়ে যায়।

ফলে দেশে দুর্নীতির মাত্রা যেভাবে বাড়ছে, সে অনুপাতে দুদকের দুর্নীতি বিরোধী ভূমিকা নেই। রাজধানীসহ সারাদেশে মানুষ সরকারি দফতরে যে হারে দুর্নীতি ও হয়রানির শিকার হচ্ছে সে অনুপাতে দুদকের কার্যক্রম চোখে পড়ে না।

এদিকে, ঢাকা ট্রেড সেন্টারের ব্যবসায়ি কামাল হোসেন রিপন জানান, এমপি আফজাল হোসেনের বিরুদ্ধে প্রায় ২৫ কোটি টাকার দুর্নীতি, জালিয়াতির সুনিদিষ্ট অভিযোগ, তথ্য উপাত্ত দুদক চেয়ারম্যানকে দেয়ার পরও তাকে রক্ষা করেছে দুদক।

ফলে আফজাল হোসেন এখন রিপনকে মিথ্যে মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করছে। এছাড়া এমপি আসলামুল হক এবং এমপি সানজিদা খানমসহ অর্ধশতাধিকি এমপি এবং রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে দুর্নীতি,অবৈধ সম্পদ অজনের অভিযোগ রয়েছে । দুদকে অভিযোগ করে আর লাভ নেই বলে অভিমত ব্যাক্ত করেন নির্যাতিত লোকজন।

জানা যায়, প্রাপ্ত অভিযোগের ৬০ শতাংশ জমিজমা ও দলিল জালিয়াতি সংক্রান্ত, ২০ শতাংশ পুলিশী মামলা, ১৬ ভাগ পারিবারিক ও সামাজিক বিরোধ, দুদকের তফসিলভুক্ত অপরাধ মাত্র ৪ শতাংশ। দুদকের তফসিলভুক্ত না হওয়ায় প্রাপ্ত অভিযোগের ৯৬ শতাংশই বাছাই পর্যায়ে বাদ পড়ে যায়।

দুদক অভিযোগ পায় গণমাধ্যম এবং সাধারণ মানুষের দায়েরকৃত চিঠি পত্র থেকে। দুদকের অভিযোগ বাছাইয়ের জন্য উপ-পরিচালক ঋত্তিক সাহার নেতৃত্বে সহকারি পরিচালক মোঃ নূরুজ্জামান এবং মাহফুজা আক্তারের সমন্বয়ে একটি কমিটি রয়েছে। ভুক্তভোগী ও সাধারণ মানুষের দুর্নীতির অভিযোগ নির্ধারিত বাক্সে মানুষ লিখিত অভিযোগ জমা দেন।

দুদকের সমন্বিত ২২ জেলা কার্যালয় , ৬ বিভাগীয় কার্যাল এবং ৬৪ জেলা পরিষদে রয়েছে ৬৪টি অভিযোগ বাক্স। এরমধ্যে জেলা প্রশাসক (ডিসি)র তত্ত্বাবধানে থাকে জেলা বক্সের চাবি।

বাক্স খোলার সময় স্থানীয় ‘দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি’র সদস্যরা উপস্থিত থাকেন। জেলা পরিষদে অভিযোগ বাছাই শেষে বিভাগীয় কার্যালয় আরেক দফা বাছাই হয়। এর পর দুদকের প্রধান কার্যালয়ে বাছাই কমিটি অভিযোগ বাছাই করে। ফলে দুদকের বাছাই কমিটির কাছে ওই অভিযোগ ‘অনুসন্ধান-অনুপযোগী’হয়ে যায়।

জানা যায়, দুদকের কমিটি নিজেই ১০ বৈশিষ্ট্যের একটি ‘মানদন্ডের’কথা বলছে। দুর্নীতির অভিযোগ (১) দুদকের তফসিলভুক্ত অপরাধ কি না। (২) ঠিকমতো সম্বোধন কার হয়েছে কিনা, (৩) অভিযোগকারীর পরিচয়, নাম-ঠিকানা, টেলিফোন নম্বর আছে কি না। (৪) অভিযোগটি সুনির্দিষ্ট কি না। (৫) শত্রুতাবশতা বা হয়রানির উদ্দেশ্যে করা হয়েছে কি না।

(৬) অভিযুক্ত ব্যক্তির দাপ্তরিক পদ মর্যাদা, বর্ণিত অপরাধ করার ক্ষমতা ও সুযোগ আছে কি না। (৭) অপরাধ সংঘটিত হওয়ার সময়। (৮) বর্ণিত অপরাধের ব্যক্তি ও অর্থ-সঙ্গতির পরিমাণ। (৯) দুদকের সম্বিলিত জেলা কার্যালয় কর্তৃক অভিযোগের অনুসন্ধান করা হতে পারে। (১০) অভিযোগ নিয়ে দুদক আইন-২০০৪ ও   বিধিমালা-২০০৭ মোতাবেক কার্য সম্পাদন শেষে কোর্টে অপরাধ প্রমাণ করা যাবে কি না, প্রমাণে কি পরিমাণ অর্থ, শ্রম, মেধা , সময় বিবেচনা করে বাছাই কমিটি।

দুদক চেয়ারম্যান মোঃ বদিউজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, ৯৬ ভাগ অভিযোগ ত্রুটিপূর্ণ অতি তুচ্ছ বিষয়ে অভিযোগ তাই বাতিল হচ্ছে। অনেক অভিযোগ তফসিলভুক্ত হলেও গুরুত্ব এবং অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে অনুসন্ধানের জন্য নির্ধারণ করা যায় না। সিমাবদ্ধতা রয়েছে দুদকের।

ঢাকা, একে, ৬ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম,জেএ