বাংলাদেশের তামাকজাত দ্রব্য উৎপাদন ও বিক্রয়কারী কোম্পানিগুলোকে আইনি নোটিশ প্রেরণ করা হয়েছে।
গত ০২ মে, ২০১৬ তারিখে বেসরকারি সংস্থা এনভায়রনমেন্ট কাউন্সিল বাংলাদেশ (ইসি বাংলাদেশ) এবং উবিনিগ (প্রা.) লিমিটেড এর পক্ষে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক বাংলাদেশে বিদ্যমান ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫’ (২০০৫ সালের ১১ নং আইন) - এর ১০ ধারা এবং ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০১৫ - এর ৯ বিধিমালা অনুসরন করে তামাকজাত দ্রব্যের প্যাকেটে, মোড়কে, কার্টনে বা কৌটার উভয় পার্শ্বে স্বাস্থ্য ও অন্যান্য ক্ষতি সম্পর্কিত সচিত্র সতর্কবাণী মুদ্রণ করার জন্য আইনি নোটিশ প্রেরণ করেছেন।
উক্ত নোটিশে তামাকজাত দ্রব্য উৎপাদন ও বিক্রয়কারী কোম্পানিগুলো ছাড়াও স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় - এর সচিব, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়- এর সচিব এবং বাংলাদেশ সিগারেট ম্যানুফ্যাকচারিং এ্যাসোসিয়েশন- এর প্রেসিডেন্টকে নোটিশ প্রাপ্তির ৭ দিনের মধ্যে উক্ত নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
অন্যথায়, উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দায়ের করা ছাড়াও তামাকজাত দ্রব্যের প্যাকেটে, মোড়কে, কার্টনে বা কৌটার উভয় পার্শ্বে স্বাস্থ্য ও অন্যান্য ক্ষতি সম্পর্কিত সচিত্র সতর্কবাণী প্রদান না করবার অভিযোগে সৃষ্ট ক্ষতির সমপরিমাণ খরচ ও ক্ষতিপূরণ দাবি করা হবে।
নোটিশে বলা হয় যে, উক্ত আইনের ১০ ধারা অনুযায়ী তামাকজাত দ্রব্যের প্যাকেট, মোড়ক, কার্টন বা কৌটার উভয় পার্শ্বে মূল প্রদর্শনী তল বা যে সকল প্যাকেটে দুইটি পার্শ্বদেশ নাই সেই সকল প্যাকেটের মূল প্রদর্শনী তলের উপরিভাগে অন্যূন শতকরা পঞ্চাশ ভাগ স্থান জুড়িয়া তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহারের কারণে সৃষ্ট ক্ষতি সম্পর্কে, রঙিন ছবি ও লেখা সম্বলিত, স্বাস্থ্য সম্পর্কিত সতর্কবাণী, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে মূদ্রণ করিতে হইবে। তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের বিধিমালা, ২০১৫ দ্বারা নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ১৯ মার্চ ২০১৬ তারিখের পর থেকে মোড়ক বা প্যাকেটে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণী ব্যতীত কোনো তামাকজাত দ্রব্য বিক্রয় কিংবা বাজারজাত করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। কিন্তু, আইন অমান্য করে তামাকজাত দ্রব্য উৎপাদন ও বিক্রয়কারী কোম্পানিগুলো তামাকজাত দ্রব্য বাজারজাত করছে।
গত ১০ মার্চ, ২০১৬ তারিখে, ১ নং রিট পিটিশনার এনভায়রনমেন্ট কাউন্সিল বাংলাদেশ (ইসি বাংলাদেশ) সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবি ড. শাহদীন মালিক এর সহযোগিতায় তামাকজাত দ্রব্য উৎপাদন ও বিক্রয়কারী কোম্পানিদের সকল তামাকজাত দ্রব্যে ১৯ মার্চ ২০১৬ তারিখের মধ্যে সচিত্র সতর্কবাণী নিশ্চিতকরণের আহ্বান জানিয়ে একটি নেটিশ প্রেরণ করা হয়। সচিত্র সতর্কবাণী বাস্তবায়নের নির্ধারিত সময়ের ১৫ দিন পর তামাক কোম্পানিগুলো এই বিধান কতটুক প্রতিপালন করছে তা মূল্যায়নের জন্য ০৪-০৭ এপ্রিল ২০১৬ পর্যন্ত ৮টি বিভাগীয় শহরে এনভায়রনমেন্ট কাউন্সিল বাংলাদেশসহ ৭টি তামাকবিরোধী সংগঠন একযোগে একটি গবেষণা কার্যক্রম সম্পন্ন করে।
উক্ত গবেষণায়, ১২০টি (প্রতি বিভাগে ১৫টি) দোকানে তিন ধরনের তামাক বিক্রেতার কাছ থেকে মোট ১,৪৮৫টি সিগারেট, বিড়ি, জর্দা এবং গুলের প্যাকেট পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। ৭৫% তামাকজাত দ্রব্যের প্যাকেটে, মোড়কে, কার্টনে বা কৌটায় সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণী পাওয়া যায়নি।
উক্ত নোটিশে আরো বলা হয়েছে, উপর্যুক্ত তথ্যসমূহের মাধ্যমে স্পষ্ট প্রতীয়মান যে নোটিশ গ্রহণকারীগণ তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন ভঙ্গ করার বিষয়ে যথেষ্ট সচেতন ছিল এবং এ সম্পর্কিত পর্যাপ্ত ধারণাও তাদের ছিল। কিন্তু, যথেষ্ট ধারণা থাকা সত্ত্বেও তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের ১০ ধারা প্রতিপালনে তারা সুনির্দিষ্ট এবং ইতিবাচক পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। তাদের এ ধরনের ব্যর্থতা জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এমআইএস





