মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতের নির্বাহী পরিষদের সদস্য মীর কাসেম আলীর আইনজীবী প্যানেলে যুক্ত হয়েছেন অবসরে যাওয়া হাইকোর্টের বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী।
বুধবার প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চে মীর কাসেমের দ্বিতীয় দিনের আপিল শুনানিতে তিনি অংশ নেন।
বেঞ্চের অপর সদস্যরা হলেন বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার ও বিচারপতি মোহাম্মদ বজলুর রহমান।
আদালতে মীর কাসেমের পক্ষে পেপার বুক থেকে পাঠ করছেন তার আইনজীবী এস এম শাহজাহান। রাষ্ট্রপক্ষে রয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
এর আগে জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামীসহ সকল নেতার আপিলে অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন ও এস এম শাহজাহান শুনানি করেছেন। শুধু মাত্র ফাঁসি কার্যকর হওয়া জামায়াত নেতা কাদের মোল্লার পক্ষে ব্যারিস্টার রাজ্জাক শুনানি করেছিলেন।
এই প্রথম মীর কাসেমের আপিল শুনানিতে অবসরে যাওয়া কোনো বিচাপরপতি অংশ নিচ্ছেন।
প্রসঙ্গত, গতকাল মঙ্গলবার একই বেঞ্চে কাসেম আলীর প্রথম দিনের আপিল শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
গত ২ ফেব্রুয়ারি মীর কাসেম আলীর আপিল শুনানির জন্য ৯ ফেব্রুয়ারি দিন নির্ধারণ করেন আপিল বিভাগ।
২০১৪ সালের ৩০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড থেকে বেকসুর খালাস চেয়ে আপিল করেন মীর কাসেমের আইনজীবীরা। আপিলে তার খালাসের পক্ষে ১৮১টি যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে।
২০১৪ সালের ২ নভেম্বর চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ মীর কাসেমকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আনা ১১ ও ১২ নম্বর অভিযোগে মুক্তিযোদ্ধা জসিম ও জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীকে হত্যার দায়ে আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। এর মধ্যে ১২ নম্বর অভিযোগে সংখ্যাগরিষ্ঠের ভিত্তিতে রায় দেওয়া হয়।
এ ছাড়া ২ নম্বর অভিযোগে ২০ বছর, ৩, ৪, ৬, ৭, ৯ ও ১০ নম্বর অভিযোগে মীর কাসেম আলীকে সাত বছর করে এবং ১৪ নম্বর অভিযোগে ১০ বছর কারাদণ্ডের আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। অপরদিকে ১, ৫, ৮ ও ১৩ নম্বর অভিযোগ থেকে মীর কাসেমকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
এমকে





