আনন্দ শিপইয়ার্ডের ১হাজার ৩০০ কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতির অভিযোগে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ৭ কর্মকর্তাকে  তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

জানা যায়, রোববার দুদকের উপ পরিচালক ও অনুসন্ধানী কর্মকর্তা মীর মো. জয়নাল আবেদীন শিবলী তাদের তলবি নোটিশ পাঠিয়েছেন।

আগামী ২২ ডিসেম্বর সকাল ১০ টায় নোটিশ প্রাপ্তেদেরকে দুদক কার্যালয়ে হাজির হতে বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন, মার্কেন্টাইল ব্যাংক হেড অফিসের এডিপি আশীষ কুমার লস্কর, ইভিপি শোয়েব আহমেদ, এসভিপি ফয়সাল আহসান চৌধুরী,এফভিপি কে এম আনোয়ারুল ইসলাম,এসইভিপি মোহাম্মদ ইসমাইল, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনিস্টিটিউট শাখার ম্যানেজার মো: মাহমুদ আলম চৌধুরী এবং একই শাখার প্রিন্সিপাল অফিসার এ এস এম মারুফ উদ্দীন কামাল।

এছাড়া গত ২৫ নভেম্বর একই ঘটনায় ইসলামী ব্যাংকের ডিএমডি (অপারেশন) মো. সামশুল হক, ডিএমডি মো:নুরুল ইসলাম, সাবেক ইপি মো. ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, সাবেক ডিইপি এ টি এম হারুন অর রশিদ চৌধুরী,  সাবেক ইভিপি মো. সেতাউর রহমান ও সাবেক ইভিপি সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ সালেহকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক।

 ২৭ নভেম্বর ইসলামি ব্যাংকের ইভিপি সিআইডি হেড অফিস-২-এর ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী, এসভিপি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিভিশনের মঈজ উদ্দীন, ভিপি সিআইডি-২ হেড অফিসের মো. হাসনাইন আবিদ, সাবেক এভিপি মো. দেলোয়ার হোসেন, এভিপি সিআইডি-১ হেড অফিসের মাহমুদ হোসেন খান ও সাবেক এসও ইঞ্জিনিয়ার জাহিদুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

১৩ নভেম্বর  জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় ব্যাংকটির করপোরেট ইনভেস্টমেন্ট উইংয়ের ডিএমডি ইঞ্জিনিয়ার মো. আবুল বাশার, ফরেন এক্সচেঞ্জের প্রধান মো. গিয়াস উদ্দিন আহমেদ, ব্যাংকের মাধবদী শাখার ভিপি মো. আবু সুফিয়ান, ফরেন এক্সচেঞ্জ কারওয়ান বাজার শাখার সাবেক এভিপি মো. মনির হোসেন, একই শাখার এসপিও আহমেদ আলী ও ব্যাংকের টঙ্গী শাখার পিও এ কে এম বোরহান উদ্দিনকে।
গত ১২ নভেম্বর  ব্যাংকটির কারওয়ান বাজার শাখার সাবেক এসভিপি (বর্তমানে বরখাস্ত) মো. নুরুল ইসলাম, ভিপি কাজী মঈনুদ্দীন খাদেম, মো. মিজানুর রহমান ভূঁইয়া, এভিপি মো. মুসলেহ উদ্দিন, ভিপি (গুলশান সার্কেল-১) মো. আলিমুর রহমান, এভিপি মো. আবুল কালাম আজাদ ও মো. মনির হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।গত ১৭ সেপ্টেম্বর আনন্দ শিপইয়ার্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আফরোজা বারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক।

এদিকে অভিযোগ রয়েছে ,আনন্দ শিপইয়ার্ডের বিরুদ্ধে অভিযোগ, জাহাজ রফতানির নামে ঋণ জালিয়াতির মাধ্যমে তারা দেশের ১২টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় এক হাজার ৩০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। জাহাজ নির্মাণের পূর্ব-অভিজ্ঞতা না থাকলেও পর্যাপ্ত জামানত ছাড়া এসব ঋণ দেয়া হয়েছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ পরিদর্শনে এসব জালিয়াতির তথ্য বেরিয়ে আসে।


পরে ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড (কারওয়ান বাজার শাখা), এবি ব্যাংক লিমিটেড (কারওয়ান বাজার শাখা), মার্কেন্টাইল ব্যাংক লিমিটেড (ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট শাখা), ওয়ান ব্যাংক লিমিটেড (মতিঝিল শাখা), জনতা ব্যাংক লিমিটেড (লোকাল অফিস), এনসিসি ব্যাংক লিমিটেড ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেডের (প্রধান শাখা) প্রধানদের কাছ থেকে আনন্দ শিপইয়ার্ডের নথিপত্র সংগ্রহ করা হয়। এ ছাড়া ফিনিক্স ফাইনান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড (পিএফআইএল), বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফিইনান্স কোম্পানি লিমিটেড (বিআইএফসিএল), ফারইস্ট ফিইনান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড (এফএফআইএল), আইডিএলসি ফাইনান্স, ন্যাশনাল হাউজিং ফাইনান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড (এনএইচএফয়াইএল), হজ ফিইনান্স কোম্পানি লিমিটেড (এইচএফসিএল) ও প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফিইনান্স লিমিটেডের (পিএলএফেল) কাছে আনন্দ শিপইয়ার্ডের নেয়া ঋণের সব কাগজপত্র সংগ্রহ করে দুদক।



একে,