এবার সত্যিই ভয় পেয়েছে সেই দন্তহীন বাঘ দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক শেখ মো. আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদের মামলার বিচারিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার জন্য সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আবেদন করেছে।
বৃহস্পতিবার দুদকের আইনজীবীর আবেদন গ্রহণ করেছেন প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের ৩ সদস্যের বেঞ্চ। ফলে আসামি শেখ মো. আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে দুদক আর মামলা পরিচালনা করবে না।
এরআগে দুকই আপিল বিভাগে মামলা চালানোর অনুমতির জন্য আবেদন জানিয়েছিল। কিন্তু আজ দুদক আইনজীবী তাদের আগের করা আবেদন প্রত্যাহার করে নিয়েছে।
দুদক আইনজীবীর আবেদনের উপর নথিটি ‘উপস্থাপিত হয়নি মর্মে’ আবেদনটি খারিজ করে দেয়া হলো বলে আদেশ জারি করেন। আদালতে দুদকের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট এম এ আজিজ খান। অপরদিকে আসামি শেখ মো. আবদুল্লাহর পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট আবদুল বাসেত মজুমদার।
আদালত থেকে বেরিয়ে এসে দুদকের আইনজীবী এম এ আজিজ সাংবাদিকদের জানান, আসামি শেখ মো. আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে মামলা না চালানো জন্য দুদক আপিল বিভাগে আবেদন করেছিল। কারণ দুদকের মানসিকতা পরিবর্তন হওয়ায় আবার তারাই এ মামলা না চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়।
এদিকে অভিযোগ রয়েছে, আসামি শেখ মো. আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে ৪২ লাখ ২ হাজার ৫৯১ টাকার অবৈধ সম্পদ এবং তথ্য গোপনের অভিযোগের মামলা করে ছিল দুদক। আসামি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এ বিচারাধীন অবস্থায় মামলা বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন।
আসামির আবেদনের চূড়ান্ত শুনানির পর ২০১০ সালের ১৮ আগস্ট বিচারপতি মো. শামসুল হুদা ও বিচারপতি আবু বকর সিদ্দিকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ শেখ মো. আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে মামলা বাতিল করে রায় দেন।
ওই রায়ের পর ২০১১ সালের এপ্রিলে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে শেখ মো. আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে মামলা চালানোর অনুমতি চেয়ে আপিল করে দুর্নীতি দমন কমিশন। এরপর মামলাটি শুনানির জন্য আদালতের কার্যতালিকায় এলেও শুনানি হয়নি।
এদিকে গত ৮ জুন দুদকের উপ পরিচালক (আইন) সাবেরা সুলতানা খানম এক চিঠিতে আসামির বিরুদ্ধে ২০০৮ সালে জরুরি অবস্থার মামলা আর না চালানোর সিদ্ধান্তের বিষয়টি দুদকের আইনজীবীদের জানিয়ে দেন।
দুদকের এই সিদ্ধান্তের বিষয়টি আদালতকে জানিয়ে মামলাটি উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করে দেয়ার আদেশ দিতে আপিল বিভাগে আবেদন করা হয়। এরপর শুনানি শেষে আপিল বিভাগ আজ এ আদেশ দেন।
ঢাকা, একে, ২৪ জুলাই, টাইমনিউজবিডি.কম, এআর





