ঈদের দিন সকালেই ৩ জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় ১৪ জন নিহত হয়েছেন। যাত্রীবাহী বাস ও প্রাইভেট কার খাদে পড়ে নিহত হয় বলে জানা যায়।
নিহতরা হলেন পর্যায়ক্রমে ফরিদপুরের ভাঙায় ৫, নোয়াখালীতে ৭, নারায়ণগঞ্জে ৪ এবং ভোলায় ৩ জন।
মঙ্গলবার ভোরে ও সকালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে খাদে পড়ে এসব দুর্ঘটনা ঘটে।
ফরিদপুরে নিহত ৫ জন
ফরিদপুরের ভাঙা উপজেলার মালিগ্রাম ও চুমুরদী এলাকায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ৫ জন নিহত হয়েছেন। দুই দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১০ জন।
ফরিদপুর হাইওয়ে থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসপি) এবিএম আশরাফুল জানান, মঙ্গলবার সকালে কাওড়াকান্দি ঘাট থেকে টেকেরহাটগামী দু’টি যাত্রীবাহী মাইক্রোবাস পৃথকভাবে সড়ক দুর্ঘটনায় পড়লে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, সকাল ৯টার দিকে মালিগ্রামে একটি মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে গাছের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে উল্টে যায়। এতে ঘটনাস্থলে একজন ও হাসপাতালে নেওয়ার পর ৩ জন মারা যান। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ৭ জন।
এর আগে সকাল ৮টার দিকে আরও একটি মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে উল্টে গেলে ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু হয়। এঘটনায় আহত হন ৩ জন।
আহতদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নিহতদের মধ্যে ৩ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন- গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরের আল আমিন (২২) ও জাহিদুল ইসলাম (২৮) এবং গোপালগঞ্জ সদরের তরিকুল (১৮)।
মাইক্রোবাসগুলো কাওড়াকান্দি থেকে টেকেরহাট রুটে লোকাল ভাড়া চলছিল।
নোয়াখালীতে নিহত ৭ জন
নোয়াখালী জেলার সোনাইমুরি উপজেলায় যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন কমপক্ষে ২০ যাত্রী।
সোনাইমুরি থানারওসি আবদুস সামাদ জানান, ঈদে ঘরমুখী যাত্রী নিয়ে চট্টগ্রাম থেকে বলাকা এক্সপ্রেসের একটি বাস লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে যাচ্ছিল। পথিমথ্যে সোনামুরি উপজেলার ভোর পৌনে ৪টার দিকে জয়াগ বাজার দিয়ে যাওয়ার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে খালে পড়ে যায়।
এতে ঘটনাস্থলেই ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন কমপক্ষে আরও ২৫ যাত্রী।
আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে বলে জানান তিনি।
ভোলায় নিহত ৩ জন
ভোলার চরফ্যাশনে যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ১০ জন।
মঙ্গলবার সকাল পৌনে ৭টার দিকে ভোলা-চরফ্যাশন আঞ্চলিক মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে থানার ওসি আবুল বাশার জানিয়েছেন।
তিনি জানান, চট্টগ্রাম থেকে ভোলা ট্রান্সপোর্ট নামে একটি যাত্রীবাহী বাস ভোলায় যাচ্ছিল। পথে চরফ্যাশন উপজেলার কর্তারহাট এলাকায় বাসের একটি চাকা পাম্পার হয়ে যায়। এতে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে খাদে পড়ে যায়।
এসময় ঘটনাস্থলে দুই ও হাসপাতালে নেওয়ার পথে আরও এক যাত্রী মারা যান। আহত হন আরও ১০ জন।
নারায়ণগঞ্জে নিহত ৪ জন
এদিকে ঈদের দিন ভোর সাড়ে ৬টার দিকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিঙ্ক রোডের সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুরি এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ২ জন।
নিহতরা হলেন, সুমন, পিন্টু, সালাম ও আবদুল্লাহ।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি আলাউদ্দিন জানান,সকাল সাড়ে ৬টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড থেকে ছয় জন যাত্রী একটি প্রাইভেট কার নারায়ণগঞ্জ শহরের দিকে যাচ্ছিল।
এসময় ওই এলাকার জালকুরি এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তা রাস্তার পাশে খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই চারজন নিহত ও দুই জন আহত হন।
আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
ঢাকা, ২৯ জুলাই, টাইমনিউজবিডি.কম, এসএইচ





