গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র অধ্যাপক এম এ মান্নানকে সাময়িক বরখাস্তের কার্যকারিতা ছয়মাসের জন্য স্থগিত করে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ।
ভারপ্রাপ্ত মেয়র আসাদুর রহমান কিরণের করা এক আবেদনের শুনানি নিয়ে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ বুধবার ‘নো অর্ডার’আদেশ দেন।
ফলে আবারও গাজীপুরের মেয়রের আসনে বসছেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এম এ মান্নান।
আদালতে মেয়র মান্নানের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন। কিরণের পক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
এর আগে এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে সোমবার বিচারপতি কামরুল ইসলাম সিদ্দিকী ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চ অধ্যাপক এম এ মান্নানকে সাময়িক বরখাস্তের কার্যকারিতা ছয়মাসের জন্য স্থগিত করে রুলসহ আদেশ দেন।
পরের দিন মঙ্গলবার কিরণ হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে আবেদন করলে আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার ‘নো অর্ডার’ (কোনো আদেশ নয়) আদেশ দেন। এবং আবেদনটি শুনানির জন্য পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন।
বুধবার আপিল বিভাগ এ আবেদনের শুনানি নিয়ে হাইকোর্টের আদেশ বহাল রাখেন।
গাজীপুরের জয়দেবপুরে করা এক মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণের কথা উল্লেখ করে গত বছরের ১৯ আগস্ট মেয়র এম এ মান্নানকে সাময়িক বরখাস্ত করে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়।
বরখাস্তের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘মান্নানের বিরুদ্ধে জয়দেবপুর থানায় করা ফৌজদারি মামলার অভিযোগপত্র গাজীপুরের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিমের আদালতে ২০১৫ সালের ১২ মে গৃহীত হয়েছে। স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন-২০০৯ (২০০৯ সালের ৬০ নং আইন) এর ধারা ১২ এর উপধারা (১) মোতাবেক সিটি করপোরেশনের মেয়র বা কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র গৃহীত হলে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করার বিধান রয়েছে। এই ক্ষমতাবলে এম এ মান্নানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো’।
মন্ত্রণালয়ের এ বরখাস্তের আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন মেয়র মান্নান।
এ রিটের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট প্রজ্ঞাপনের কার্যকারিতা ছয়মাসের জন্য স্থগিত করে রুল জারি করেন হাইকোর্ট।
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মান্নানকে গত বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি তার ঢাকার বারিধারার বাসা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গত ০২ মার্চ উচ্চ আদালতের জামিনে কারামুক্ত হন তিনি।
এইচ ই





