গ্যাটকো দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন শুনানি পিছিয়েছে আরেক দফা। আগামী ২২ আগস্ট নতুন দিন ধার্য করেছেন আদালত।

সোমবার (১৫ জুলাই) কেরানীগঞ্জ কারাগারের ২ নম্বর ভবনে স্থাপিত অস্থায়ী আদালতে উভয়পক্ষের শুনানি শেষে নতুন এ দিন ধার্য করেন বিচারক আবু সৈয়দ দিলজার হোসেন।

আজ আদালতে বেগম জিয়াকে হাজির করার কথা থাকলেও চিকিৎসাধীন থাকায় তাকে  হাজির করা যায়নি বলে জানান বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

শুনানি শেষে খালেদা জিয়ার আইনজীবী জিয়াউদ্দিন জিয়া সাংবাদিকদের জানান, বেগম জিয়া আদালতে হাজির হতে না পারায় তাঁর অনুপস্থিতিতে অভিযোগ গঠন করা হয়নি। আদালত অভিযোগ গঠন না করার প্রস্তাব আমলে নিয়ে আগামী ২২ আগস্ট নতুন তারিখ ঠিক করেছেন।

উল্লেখ্য, ২০০৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশনের উপ-পরিচালক গোলাম শাহরিয়ার চৌধুরী সাবেক চারদলীয় জোট সরকারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, তার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় এ মামলা করেন। মামলার পরদিন খালেদা জিয়া ও কোকোকে গ্রেফতার করা হয়। ওই বছরেরই ১৮ সেপ্টেম্বর মামলাটি অন্তর্ভুক্ত করা হয় জরুরি ক্ষমতা আইনে।

পরের বছর ১৩ মে খালেদা জিয়াসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে এ মামলায় অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। মামলাটি জরুরি ক্ষমতা আইনের অন্তর্ভুক্ত করার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এবং বিচারিক আদালতে মামলার কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদেশ চেয়ে ২০০৭ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টে আলাদা দুটি রিট আবেদন করেন খালেদা জিয়া ও আরাফাত রহমান কোকো।

এর তিন দিন পর খালেদা ও কোকোর বিরুদ্ধে মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে রুল দেন হাইকোর্ট। মামলাটি জরুরি ক্ষমতা আইনের অন্তর্ভুক্ত করা কেন বেআইনি ও কর্তৃত্ব বহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না -তা জানতে চাওয়া হয় ওই রুলে। তবে হাইকোর্টের দেওয়া স্থগিতাদেশ পরে আপিল বিভাগে বাতিল হয়ে যায়।

দুদক আইনে গ্যাটকো মামলা দায়েরের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০০৮ সালে আরেকটি রিট আবেদন করেন খালেদা জিয়া। তার আবেদনে হাইকোর্ট আবারো মামলার কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদেশ দেয় এবং মামলাটি কেনো বাতিলের নির্দেশ দেওয়া হবে না, এ মর্মে রুল জারি করেন। এ ছাড়া মামলা জরুরি ক্ষমতা বিধিমালায় অন্তর্ভুক্ত করার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০০৭ সালে করা আলাদা একটি রিট আবেদন করা হলে সেটিতেও রুল জারি করেন হাইকোর্ট।

দীর্ঘদিন আটকে থাকার পর দুদক মামলাটি সচলের উদ্যোগ নেয়। ২০১৫ সালের ১৯ এপ্রিল শুরু হয় রুলের শুনানি।

এসএম