জাহিদুল ইসলামমিরপুরের রূপনগরে পুলিশি অভিযানে নিহত মেজর (অব.) জাহিদুল ইসলাম কী করে জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে জড়ালেন, তার স্ত্রী ও সন্তানরা কোথায়? তা জানতে চায় তাঁর পরিবার। জাহিদুলের স্বজনেরা এটা জানতে এখন পুলিশের শরণাপন্ন হয়েছেন।
জাহিদের ছোট ভাই জহিরুল ইসলাম গতকাল মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা রূপনগর থানায় গিয়েছিলাম। আসলে আমরাও ভাইয়ার বিষয়টা পুরো জানতে চাই। কোথা থেকে কী হলো, তা আমরা বুঝে উঠতে পারছি না।’ জাহিদের স্ত্রী জেবুন্নাহার (শীলা) এবং তাঁর সাত বছর ও এক বছর বয়সী দুই মেয়ে এখন কোথায়, কেমন আছে—সে সম্পর্কেও খোঁজখবর জানেন না বলে দাবি করেন জহিরুল।
জেবুন্নাহারের মা জোহরা খাতুন বলেন, তাঁর মেয়ে চলাফেরায় খুব ‘স্মার্ট’ ছিলেন। জাহিদ কানাডায় যাওয়ার পর নিয়মিত ফোনে স্ত্রীকে বলতেন, এত দিন তাঁরা যেভাবে জীবন যাপন করেছেন, সেটা ভুল ছিল। জেবুন্নাহারের উচিত হবে পর্দা করা। একপর্যায়ে জেবুন্নাহার বোরকা ও হিজাব পরতে শুরু করেন। তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর চাকরি ছাড়ার পর জাহিদ প্রথমে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে উত্তরায় বাসা নিয়েছিলেন। সাত বছরের বড় মেয়েকে উত্তরার একটি ধর্মনির্ভর স্কুলে ভর্তি করান। তখন জেবুন্নাহার সন্তানসম্ভবা হওয়ায় জোহরা খাতুন গত বছরের ওই সময়টা মেয়ের কাছে ছিলেন। তখন তাঁদের বাড়িতে অন্য কারও খুব একটা আসা-যাওয়াও ছিল না।
জোহরা খাতুন বলেন, জাহিদ আগে থেকেই ধার্মিক ছিলেন। কানাডা থেকে ফিরে আসার পর আরও বেশি ধর্মকর্ম শুরু করেন। এরপর স্বামীর মতো জেবুন্নাহারও ধর্মকর্মে মনোযোগী হয়ে ওঠেন। তিনি মাকে বলতেন ‘আজেবাজে গল্প’ করার চেয়ে ধর্মীয় বিষয় নিয়ে ব্যস্ত থাকা ভালো।
মা জোহরা খাতুন বলেন, ‘এপ্রিল মাসে শীলা (জেবুন্নাহার) এসএমএস করে জানাল, ওরা সৌদি আরবে যাচ্ছে। ওদের জন্য যেন আমরা দুশ্চিন্তা না করি। এক দিন, দুই দিন করে যখন অনেকগুলো দিন পেরিয়ে যায়, আমরা ভেতরে-ভেতরে খোঁজ নিতে শুরু করি। বিপদ হতে পারে, এই ভয়ে থানা-পুলিশকে জানাই নাই। এখন মনে হচ্ছে, এটা ভুল হয়েছে। থানা-পুলিশকে জানালে হয়তো এই বিপদ হতো না।’ তিনি বলেন, ‘জামাই তো শেষ। এখন নাতনি দুইটার অছিলায় যদি আমার মেয়েটা হায়াত পায়।’
এই বিষয়ে তদন্তসংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, গতকাল পর্যন্ত জাহিদের ব্যাপারে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এম এ





