রাজধানীতে ইয়াবা কারখানার সন্ধান পেয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। শনিবার যাত্রাবাড়ি থানা এলাকায় কারখানাটি আবিষ্কার করেন তারা। সেখানে তৈরি হয় ভেজাল ইয়াবাসহ অন্যান্য ওষুধ।

ডিএমপির মিডিয়া সেন্টার থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। তাতে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার ভোরে গোয়েন্দা ও অপরাধ তথ্য বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার মাহমুদ নাসের জনির নেতৃত্বে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল যাত্রাবাড়ী থানা এলাকার বাঁশ পট্টি গলির ১২০ নম্বর বাড়ির নীচ তলায় অভিযান চালায়।

এসময় তারা ১২৬৫ পিস নকল ইয়াবা ট্যাবলেট, ইয়াবা তৈরির কাঁচামালসহ যন্ত্রপাতি উদ্ধার করেন। অভিযানকালে ভেজাল ইয়াবা তৈরির মূল হোতা আলী আকবর, সোহেল , রুবেল ও আব্দুর রাজ্জাককে গ্রেফতার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জানায়, নকল ইয়াবা তৈরির মূল হোতা আলী আকবর ওই বাসায় ভেজাল ঔষধ তৈরির প্লান্ট স্থাপন করে। সেখানে ভেজাল কেমিক্যাল ও কাঁচামাল দিয়ে নকল ইয়াবা ট্যাবলেট তৈরি করে ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় পাইকারি ও খুচরা বিক্রি করে আসছে।

তারা আরও জানায়, আলী আকবর জগনাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকেব স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিয়ে বিকন ফার্মাসিউটিক্যাল্সে কেমিস্ট হিসেবে চাকরি করত। ওই প্রতিষ্ঠানেও ভেজাল ঔষধ তৈরির সিন্ডিকেটে যুক্ত থাকার অভিযোগে তাকে চাকরিচ্যুত করে ফৌজদারী মামলা দিয়ে জেলে পাঠানো হয়। প্রায় দুই বছর কারাভোগের পর বেরিয়ে এসে আবারও অসাধু মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে সিন্ডিকেট গড়ে তোলে।

পুলিশ জানায়, আলী আকবর ঔষধ কোম্পানীর কাজের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ইয়াবা ট্যাবলেট তৈরির বিভিন্ন কাঁচামাল ও সরঞ্জাম সংগ্রহ করে নকল ইয়াবা ট্যাবলেট তৈরি শুরু করে। এই ইয়াবা সে মাদক ব্যবসায়ী আব্দুল রাজ্জাক ও রুবেল হোসেনের মাধ্যমে বাজারজাত করে আসছে। আকবরের প্রস্তুত করা ইয়াবা দেখতে আসল ইয়াবার মতই এবং একই রকম গন্ধযুক্ত হওয়ায় খুব সহজেই তা আসল বলে বিক্রি করতে পারতো রাজ্জাক ও রুবেল। এভাবে তারা আসল ইয়াবার পাশাপাশি নকল ইয়াবার রমরমা ব্যবসা করে এরই মধ্যে হয়েক লাখ টাকা আয় করেছে বলে পুলিশকে জানিয়েছে।

গোয়েন্দা পুলিশ জানায়, এই চক্রের সঙ্গে জড়িত আরো কয়েকজনকে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে। এ ব্যাপারে যাত্রাবাড়ী থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ঢাকা, ১৯ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেআই