রাজধানীর আলোচিত ফকিরাপুল ইয়ংমেনস ক্লাব অবশেষে সিলগালা করা হয়েছে।

গতকাল বুধবার রাতে এই ক্লাবে অভিযান চালিয়ে ক্যাসিনোতে জুয়া খেলার দায়ে ১৪২ জনকে আটক করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। জুয়া খেলা চালানোর দায়ে ক্লাবটির সভাপতি ও যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকেও গ্রেপ্তার করা হয়।

এরপরই আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) পক্ষ থেকে একজন কর্মকর্তা এসে এই সিলগালা করে দিয়ে যান।

ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, র‍্যাব-৩-এর জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক শাখাওয়াতের নেতৃত্বে ক্লাবের ভেতর থেকে সাতটি মোটরসাইকেল বের করা হয়। মোটরসাইকেলগুলো একটি কাভার্ডভ্যানে করে র‍্যাব-৩-এর কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এর পরেই ক্লাবটি সিলগালা করা হয়।

জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক শাখাওয়াত বলেন, 'ঠিক দুপুর ১টা ৫০ মিনিটে আমরা ফাইনালি ক্যাসিনোটি সিলগালা করি। এর আগে ক্যাসিনোর বাইরে সাতটি মোটরসাইকেল ছিল, সেগুলো বের করি। আর ভেতরে যে জিনিসপত্র আছে, তা ওইভাবেই রাখা হয়েছে।'

'এর আগে দুপুর দেড়টার সময় ঢাকার ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের ক্যাসিনোও সিলগালা করা হয়,' যোগ করেন র‍্যাবের ওই কর্মকর্তা।

রাজধানীর ক্যাসিনো নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এসব ক্যাসিনো চালানোর ক্ষেত্রে যুবলীগের নেতাদের নাম উঠে আসে। এরপরই রাতে চারটি ক্যাসিনোতে অভিযান চালায় র‍্যাব।

পরে এ ব্যাপারে র‍্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম আরো বলেন, ‘এখানে জুয়া খেলা হতো, একই সঙ্গে মাদক সেবনের একটা আখড়া ছিল। আজ অভিযান পরিচালনা করার সময় এখানে তিনটি ক্যাসিনো থেকেই বিপুল পরিমাণ মাদক ও প্রায় চল্লিশ লাখের বেশি টাকা আমরা জব্দ করেছি। এগুলো ক্যাসিনোর জুয়া খেলার টাকা। মাদক সেবনের কারণে এ তিনটি ক্যাসিনো থেকে মোট ১৮২ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে।

আজকের অভিযানে পাঁচজন ম্যাজিস্ট্রেট অংশগ্রহণ করেছেন। এ ছাড়া একটি ক্যাসিনো থেকে ২০ হাজার ৫০০ টাকার মতো জাল টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। এখান থেকে একটি কষ্টিপাথরের মূর্তিও আমরা পেয়েছি।’

র‍্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরো বলেন, এই তিনটি প্রতিষ্ঠানের একটি যিনি চালাতেন, তাঁকে (ঢাকা মহানগর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া) আমরা গ্রেপ্তার করেছি। তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলোর পেছনে অন্য যেসব ব্যক্তি রয়েছেন, আমরা সেটা তদন্ত করে দেখছি যে কারা কারা রয়েছেন। তাঁদের বিরুদ্ধেও আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

এমআর