প্রিমিয়ার গ্রুপের চেয়ারম্যান ও সাবেক এমপি ডাঃ এইচবিএম ইকবালের বিরুদ্ধে শেয়ার কেলেঙ্কারি, অর্থ পাচার, জালিয়াতির অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
কমিশন ইতোমধ্যে ডা. এইচবিএম ইকবালের বিরুদ্ধে শক্তভাবে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দুদকের উপ-পরিচালক মোঃ হামিদুল হাসানকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। ফলে দুদকের এ কর্মকর্তা শিগগিরই ডা.ইকবালের বিরুদ্ধে অভিযোগ সংক্রান্ত রেকর্ডপত্র চেয়ে নোটিশ পাঠাচ্ছেন বলে জানা যায়।
এদিকে, দুদকের কাছে জমা পড়েছে ইকবালের বিরুদ্ধে আইপিও কেলেঙ্কাকারি, শেয়ার কেলেঙ্কারির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ, জালিয়াতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, নিয়োগ-বাণিজ্য, ভুয়া ও বেনামী ঋণ, অর্থ পাচারসহ ১০টি অভিযোগ রয়েছে।
গত ২৩ নভেম্বর ওইসব অভিযোগগুলোর প্রাথমিক অনুসন্ধান ও যাচাই শেষে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দুদক কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
দুদকে জমা পড়া অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রিমিয়ার ব্যাংকের চেয়ারম্যান ডা.এইচবিএম ইকবাল ব্যাংকটির জম্মলগ্ন থেকেই দুর্নীতি ও স্বেচ্চাচারিতার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন। তার বিরুদ্ধে আইপিও কেলেঙ্কারি সর্বজন স্বীকৃত আছে। প্রিমিয়ার ব্যাংকের আইপিও ছাড়ার আগে তিনি নিজেই নামে-বেনামে ভুয়া বিও একাউন্ট খুলে শেয়ার পাওয়ার ব্যবস্থা করেন।
পরবর্তীতে সিকিউরিটি একচেঞ্জ কমিশন ও ঢাকা স্টক একচেঞ্জ তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পায় এবং আইপিও ছাড়ার অনুমতি আটকে দেয়। কিন্তু ডা. ইকবাল কৌশলে অর্থ কেলেঙ্কারির মাধ্যমে কিছু লোককে ম্যানেজ করে প্রিমিয়ার ব্যাংকের আইপিও ছাড়ার অনুমতি পান।
ইব্রাহিম খালেদের তদন্ত প্রতিবেদনে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে, শেয়ার কেলেঙ্কারিতে ডা. ইকবাল অমনিমাস একাউন্টের নামে ব্যাংকের কোটি কোটি টাকা ক্ষতি ও আত্মসাৎ করেন।
অভিযোগে বলা হয়, রাজধানীর ৭৮, গুলশান এভিনিউতে ডা. ইকবাল একটি প্লট জালিয়াতির মাধ্যমে দখল করে নেন। পরে এ প্লটে রাজউকের নকশা জালিয়াতি করে বহুতল ভবন নির্মাণ শুরু করেন। ভবন নির্মাণের জন্য বিপুল অর্থ প্রিমিয়ার ব্যাংক থেকে অগ্রিম তুলে আত্মসাত করেন। ব্যাংকের কাছ থেকে অগ্রিম ভাড়া বাবদ কোটি কোটি টাকা অর্থও নিচ্ছেন। অথচ এখনো ভবনটির নির্মাণ শেষ হয়নি। তার অবৈধ কার্যকলাপের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানালে ব্যাংকের ভাইস-চেয়ারম্যান পদ থেকে ভগ্নিপতি বিএইচ হারুনকে সরিয়ে দেন।
বনানীর ৪২, কামাল আতার্তুক এভিনিউ নিজ মালিকানাধীন ভবনটি অবৈধভাবে প্রিমিয়ার ব্যাংকের কাছে ভাড়া দিয়ে প্রথম থেকেই অগ্রিম ও অতিরিক্ত হারে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। পার্শ্ববর্তী বুলু ওশেন টাওয়ারের ভাড়া প্রতিবর্গফুট ২০ থেকে ৩০ টাকা হলেও ডা. ইকবাল ভাড়া নিচ্ছেন তার চেয়ে বেশি। তার এ কর্মকান্ডের বিরোধিতা করায় প্রিমিয়ার ব্যাংকের উদ্যোক্তা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার কুতুব উদ্দিন আহমেদকে পরিচালনা পর্ষদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়।
প্রিমিয়ার ব্যাংকের একজন গ্রাহক পদ্মা সিমেন্ট লিঃ ডা.ইকবালের স্বেচ্ছাচারিতায় মূলধনের অভাবে ফ্যাক্টরিটি বন্ধ হয়ে যায়। ডা.ইকবাল ইচ্ছেকৃতভাবে মূলধন না দিয়ে ফ্যাক্টরির উৎপাদন বন্ধ করে দেন। পরবর্তীতে নিলাম ডেকে পদ্মা সিমেন্ট বিক্রি করে দেন। নিলামে পদ্মা সিমেন্ট ফ্যাক্টরির সর্বোচ্চ দাম ওঠে ২০ কোটি টাকা । কিন্তু এইচ বিএম ইকবাল ক্রেতার কাছ থেকে ২০ কোটি টাকা ব্যাংকের মাধ্যমে নিলেও অর্ধেক টাকা জমা করেননি। আত্মসাত করেন নিজেই।
অভিযোগে আরো বলা হয়, ডা. ইকবাল অপ্রয়োজনীয়ভাবে প্রিমিয়ার ব্যাংকের নতুন নতুন শাখা খোলেন। অর্থের বিনিময়ে উচ্চপদে কর্মকর্তা নিয়োগ দেন। শাখা খোলার নামে অতিরিক্ত সাজ-সজ্জার খরচ দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। এসব কারণে ব্যাংকটি এখন দেউলিয়ার পথে। মূলধন ঘাটতির মুখেও পড়েছে। ফলে ব্যাংকের ফেসভ্যালু নিচে নেমে এসেছে। তার এসব দুর্নীতির সহযোগী ছিলেন ব্যাংকটির সাবেক এমডি আব্দুল মজিদ।
ডা.ইকবাল বেশকিছু ভুয়া প্রকল্পের নামে নিজেই ঋণ নেন। ওই প্রকল্পগুলোর কোনো অস্তিত্ব নেই। যাদের গ্রহিতা সাজানো হয়েছে তাদেরও হদিস নেই। এভাবেও হাতিয়ে নেয়া হয়েছে কোটি কোটি টাকা।
ডা.ইকবাল প্রিমিয়ার ব্যাংকের বিপুল পরিমাণ অর্থ বিভিন্ন দেশে পাচার করেন। এসব অর্থে তিনি দুবাই, আবুধাবি, মালয়েশিয়ায় নিজ নামে, বেনামে, পরিবারের সদস্যদের নামে ফ্ল্যাট ও জমি কিনেছেন।
উল্লেখ্য, ওয়ান-ইলেভেনের পর সাবেক এমপি ডা. ইকবাল ও তার স্ত্রী ডা.মমতাজ বেগমের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভুত সম্পদ অর্জনের একটি মামলা করে দুদক। তার বিশেষ আবেদনের প্রেক্ষিতে দুদক মামলাগুলো ‘নট-প্রেস'করে।
একে, জেএ





