সোনালী ব্যাংকের ৯ শাখায় ঋণ জালিয়াতির মাধ্যমে ৭ হাজার কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধানী টিম প্রয়োজনীয় তথ্য উপাত্তের জন্য দফায় দফায় চিঠি দিচ্ছে ওই ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়কে।

অভিযোগ রয়েছে, সোনালী ব্যাংক হোটেল রূপসী বাংলা শাখা, আগারগাঁও শাখা, গুলশান শাখা, লোকাল (স্থানীয়) কার্যালয়, মতিঝিল বৈদেশিক বাণিজ্য কর্পোরেট শাখা, বঙ্গবন্ধু এভিনিউ কর্পোরেট শাখা, চট্টগ্রাম আগ্রাবাদ কর্পোরেট শাখা, চট্টগ্রাম লালদীঘি কর্পোরেট শাখা এবং নারায়ণগঞ্জ কর্পোরেট শাখার মাধ্যমে ভুয়া এলসি এবং ঋণ জালিয়াতির মাধ্যমে প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা লোপাট হয়েছে।

আর এ লোপাটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তা এবং একটি জালিয়াত চক্র ব্যাবসায়ের নামে ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ উত্তোলনের মাধ্যমে পুরো টাকা রোপাট করেছে।আর এ ব্যাংকের সাবেক এমডি হুমায়ুন কবীর ও পরিচালনা পর্ষদের একাধিক সাবেক সদস্যের হস্তক্ষেপে এসব ঋণ দেয়া হয়।

জানা যায়, গত ১৪ আগস্ট দুদকের অনুসন্ধানী টিমের প্রধান মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলী সোনালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের এমডি এন্ড সিইওকে চাহিদা মোতাবেক ব্যাংকে সংরক্ষিত রেকর্ড পত্রের সত্যায়িত কপি জরুরী ভিত্তিতে সরবরাহের অনুরোধ জানিয়েছেন। এরআগে গত বছর ২ ডিসেম্বর এবং ২৪ ডিসেম্বর তথ্য উপাত্ত চেয়ে দুদকের এ কর্মকর্তা সোনালী ব্যাংকে চিঠি পাঠান। তবে চিঠির পর কিছু তথ্য উপাত্ত দিলেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উপাত্ত এখনো দেয়নি সোনালী ব্যাংক। যারফলে তৃতীয় দফা তথ্য উপাত্ত চেয়ে দুদক সোনালী ব্যাংকে চিঠি পাঠাতে বাধ্য হয়েছে।

তৃতীয় দফার চিঠিতে যা চাওয়া হয়েছে: সোনালী ব্যাংক লি. বৈদেশিক বানিজ্য করপোরেট শাখা (ঢাকার) গ্রাহক মেসার্স ইউসুফ এন্ড কোং এর বিপরীতে স্থাপিত স্থানীয় ডেফার্ড ক্যাশ এলসি সংক্রান্ত সোনালী ব্যাংকের এডি শাখা ইন্সপেকশন এন্ড মনিটরিং ডিভিশনের সকল পরিদর্শনের সত্যায়িত কপি।

এছাড়া সোনালী ব্যাংক নারায়নগঞ্জ করপোরেট শাখার, চট্টগ্রাম আগ্রাবাদ করপোরেট শাখা, চট্টগ্রাম লালদিঘী করপোরেট শাখার, ঢাকায় লোকাল শাখা, উপর সোনালী ব্যাংক এডি শাখার ইন্সপেকশন সেল এবং এডি শাখার ইন্সপেকটশন এন্ড মনিটরিং ডিভিশনের ২০১০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০১৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত পরিদর্শন প্রতিবেদনের সত্যায়িত কপি চাওয়া হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, ২০১০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত সোনালী ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষায় এসব শাখায় পরিচালিত বিভিন্ন সময়ের পরিদর্শন ও তদন্ত প্রতিবেদনে অর্থ আত্মসাতের এসব তথ্য বেরিয়ে এসেছে। নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনিয়ম করা হয়েছে বৈদেশিক বাণিজ্যের নামে ও ব্যাক-টু-ব্যাক এলসির মাধ্যমে। আবার কখনও ডিমান্ড লোন ও ফার্সড লোন সৃষ্টির মাধ্যমে।

রূপসী বাংলা শাখা: সোনালী ব্যাংকের হোটেল রূপসী বাংলা শাখা থেকে হলমার্কসহ ৬টি গ্রুপ ৩ হাজার ৫৪৭ কোটি টাকা লোপাট করেছে। এর মধ্যে হলমার্ক গ্রুপের রয়েছে প্রায় ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকার বেশি।

লোকাল শাখা: ২০১০ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত সোনালী ব্যাংকের লোকাল শাখা থেকে অলটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ, কেএনএস ইন্ডাস্ট্রিজ, ক্যাংসান ইন্ডাস্ট্রিজ, থারমেক্স টেক্সটাইল, ইকো কটন মিলস, রহিমা ফুড কর্পোরেশন নামের কোম্পানিগুলো প্রায় ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা লোপাট করেছে।

আগারগাঁও শাখা: সোনালী ব্যাংকের আগারগাঁও শাখায় গ্রিন প্রিন্টার্স নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে ১৪১ কোটি টাকা ঋণ দেয়া হয়।

গুলশান শাখা: ব্যাংকের গুলশান শাখা থেকে ২৮১ কোটি টাকা রোজবার্গ, এলএনএস গ্রুপসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দেয়া হয়।

বৈদেশিক বাণিজ্য কর্পোরেট শাখা: সোনালী ব্যাংকের মতিঝিল বৈদেশিক বাণিজ্য শাখায় প্রায় ৩ কোটি টাকার জালিয়াতির ঘটনা ধরা পড়েছে।

বঙ্গবন্ধু এভিনিউ কর্পোরেট শাখা: সোনালী ব্যাংক বঙ্গবন্ধু এভিনিউ কর্পোরেট শাখা থেকে ২৫০ কোটি টাকার ৪টি ঋণপত্র স্থাপন করে ব্যাংকের সরাসরি ৪ কোটি ৫০ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি এবং ১ কোটি ২৫ লাখ টাকার শ্রেণীকৃত ঋণ সৃষ্টি করা হয়।

আগ্রাবাদ কর্পোরেট শাখা: চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ কর্পোরেট শাখা থেকে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। এখনো প্রায় ৩০০ কোটি টাকা অনাদায়ী রয়েছে।

লালদীঘি কর্পোরেট শাখা ও নারায়ণগঞ্জ কর্পোরেট শাখা থেকে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা ঋণ দেয়া হয়েছে।

ঢাকা, একে, ১৯ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, এআর