জাল সার্টিফিকেট তৈরি ও বিক্রির অভিযোগে রাজধানীর দু'টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে জড়িত ৩ জনকে আটক করেছে ধানমন্ডি থানা পুলিশ।

বুধবার দিবাগত রাতে ধানমন্ডি এলাকার ল্যাব এইড হাসপাতালের সামনে থেকে তাদের আটক করা হয়।

আটককৃতরা হলেন, আমেরিকা বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি এর প্রো-ভিসি বলে পরিচয়দানকারী মাসুদুর রহমান ও একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরিচয়দানকারী চঞ্চল চৌধুরী এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ছাত্র শাকিল আহমেদ।

তবে এখন পর্যন্ত কোনো মামলা দায়ের করেনি পুলিশ। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এই তিনজনকে আটকের পর থেকেই বিভিন্ন মহল থেকে চাপ আসছে ছেড়ে দেয়ার জন্য।

এ ব্যাপারে ধানমন্ডি থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) কাজী শরিফুল ইসলাম টাইমনিউজবিডি'কে বলেন, 'গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারি দু'টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে জড়িত কিছু লোক টাকার বিনিময়ে ছাত্র ভর্তি করাচ্ছে এবং টাকার বিনিময়ে জাল সার্টিফিকেট বিক্রি করছে'।

এ খবরে সত্যতা অনুসন্ধানের জন্য ধানমন্ডি থানার ওসির নির্দেশে একটি দল টহল শুরু করে। পরে বুধবার দিবাগত রাতে রবীন্দ্র সরোবর এলাকায় কয়েকজনকে সন্দেহ হলে তাদের নজরদারিতে রাখা হয়। পরে এক পর্যায়ে টাকা লেনদেনের সময় হাতেনাতে শাকিল নামে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির এক ছাত্রকে আটক করা হয়।

পরে শাকিলের তথ্যের ভিত্তিতে আমেরিকা বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি এর প্রো-ভিসি মাসুদুর রহমান ও একই ইউনিভার্সিটির ছাত্র চঞ্চল চৌধুরীকে জড়িত থাকার দায়ে আটক করা হয়।

উপ-পরিদর্শক কাজী শরিফুল আরও জানান, '৫৪ ধারায় তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে থানা হাজতে আটক রাখা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার রাতেই তাদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হবে বলে জানান তিনি। তাদের থানা হাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আরও যারা এই দুর্নীতির সাথে জড়িত তদন্তের স্বার্থে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে'।

ধানমন্ডি থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) আবু বকর সিদ্দীক টাইমনিউজবিডিকে বলেন, 'এক ছাত্রকে তারা টাকার বিনিময়ে সার্টিফিকেট দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল। পরে ওই ছাত্র বিষয়টি পরিবারের সাথে শেয়ার করলে পরিবারটির পক্ষ থেকে ধানমন্ডি থানায় অভিযোগ করা হয়। এই অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়েছে'।

ওসি বলেন, "ভাই বিপদে আছি। এই তিন ব্যক্তিকে গ্রেফতারের পর থেকে অনেক চাপ আসছে ছেড়ে দেয়ার জন্য। মন্ত্রী, সচিব পর্যায়ের লোকও সুপারিশ করছে তাদের ছেড়ে দেয়ার জন্য। তবে আমরা এখনো আমাদের অবস্থানে শক্ত রয়েছি। রাতেই মামলা হবে। বিষয়টি তদন্তাধীন। তদন্তের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে"।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের(টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান টাইমনিউজবিডিকে বলেন, 'সরকারের দায়িত্বপূর্ণ পদে যারা থাকেন তাদের অনেকেই টিআইবি'র রিপোর্টকে গুরুত্ব দিতে চান না। এমনকি শিক্ষামন্ত্রণালয় কিংবা ইউজিসির পক্ষ থেকেও টিআইবি'র প্রতিবেদন সম্পর্কে আপত্তি জানিয়েছেন'।

তিনি বলেন, 'সরকারের আজ্ঞাবহ অনেক প্রতিষ্ঠান ও কর্তাব্যক্তির মধ্যে এসব বিষয়ে অস্বীকার করার মানসিকতা রয়েছে। এতে করে যারা দুর্নীতির সাথে ওতোপ্রতোভাবে জড়িত তারা আরও বেশি দুর্নীতিপরায়ণ হয়ে পড়ছেন'।

টিআইবি'র এ নির্বাহী কর্মকর্তা আরও বলেন, 'ধানমন্ডি থানা পুলিশ জাল সার্টিফিকেট বিক্রির দায়ে তিনজনকে গ্রেফতার করায় এটাই প্রমাণিত হলো যে টিআইবি'র প্রতিবেদনের যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে ও শতভাগ সত্যতা রয়েছে'।

ইউজিসি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, 'শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে জনকল্যাণমূলক হয়, সে দিকে অধিক গুরুত্ব দেয়া। যারাই দুর্নীতিতে জড়িত থাকুক না কেন তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়ে তাদের অবস্থান জানিয়ে দেয়া যে ইউজিসি এবং শিক্ষামন্ত্রণালয় দুর্নীতির বিপক্ষে'।

[বি.দ্র.- এই প্রতিবেদনটিতে ভুলক্রমে আমেরিকা বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির পরিবর্তে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি(এআইইউবি) লেখা হয়েছিল। অনিচ্ছাকৃত এই ভুলের জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দু:খিত।]

ঢাকা, জেইউ, ১০ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম)//এআর//এনএস