বাংলাদেশে আসা অধিকাংশ স্বর্ণ পাচার হচ্ছে ভারতে। বৈধ বা অবৈধ যেভাবেই স্বর্ণ আমদানি করা হোক, তার উদ্দেশ্য থাকে ভারতে পাচার। মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিমানে করে আনা স্বর্ণ ভারতে পাচারের সময় স্থলপথকেই বেছে নিচ্ছে চোরাচালানিরা।

শুল্ক বিভাগের দুই শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা বুধবার এএফপিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেছেন।

শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান মাইনুল হোসেন খান এএফপিকে জানান, তার নেতৃত্বাধীন দল প্রায় প্রতিদিনই দেশের দুটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে স্বর্ণ পাচারকারীদের গ্রেফতার করছে। অধিকাংশ পাচারকৃত স্বর্ণই মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে আনা হয়; যার সম্ভাব্য গন্তব্য ভারত।

তিনি আরো জানান, ২০১৩ সালের জুলাই থেকে এই পর্যফন্ত ৬২৩ কেজি স্বর্ণ আটক করা হয়েছে।

বিমানবন্দর থেকে স্বর্ণ পাচারকারী আটক নিত্যনৈমত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে উল্লেখ করে মাইনুল হোসেন বলেন, “এই বুধবারই তার দল বিমানবন্দর থেকে ২৭টি স্বর্ণের বার আটক করে, যেগুলো মাইক্রোওভেনে করে পাচার হচ্ছিল।”

শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগের এই কর্মকর্তা আরো জানান, ২০১৩ সালের এপ্রিলে ভারত সরকার স্বর্ণ আমদানির ওপর কর বাড়ানোর পর বাংলাদেশ থেকে স্বর্ণ পাচারের ঘটনা বেড়ে যায়। এই সমস্যা মোকাবেলার জন্য বাংলাদেশে বেশ কয়েকবার স্বর্ণ আমদানির ওপর কর বৃদ্ধি করা হয়, যাতে আমদানি কর ভারতের সমান হয়। এর পরও স্বর্ণ পাচারের ঘটনা কমেনি।

কাস্টম কমিশনার হোসেইন আহমদ এএফপিকে বলেন, প্রতিদিন বিমানে করে অবৈধ পথে যে হারে স্বর্ণ বাংলাদেশে আসে, তার ক্ষুদ্র একটা অংশ শুল্ক কর্মকর্তারা আটক করতে সক্ষম হন। বাকি স্বর্ণ পরে চার হাজার কিলোমিটার বিস্তৃত সীমান্ত পথে ভারতে পাচার হয়।

কাস্টম কমিশনার আরো জানান, বৈধ-অবৈধ যে পথেই স্বর্ণ আনা হোক, তার লক্ষ্য থাকে বিশ্বে স্বর্ণের সবচেয়ে বড় আমদানিকারক দেশ ভারতে পাচার করা।

হোসেইন আহমদ বলেন, স্বর্ণ পাচারের পেছনে যে কারণই থাকুক না কেন, আটক করা স্বর্ণ দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জন্য আশীর্বাদ হয়ে দেখা দিয়েছে। কেননা, এগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভকৃত স্বর্ণের সঙ্গে যোগ হয়।

ঢাকা, ২৬ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, এএইচ