চলন্ত বাসে ধর্ষণের পর হত্যার শিকার হওয়া আইনের ছাত্রী রূপা’র লাশ কবর থেকে উত্তোলন করে সিরাজগঞ্জের নিজ গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
রূপা প্রামাণিকের ভাই হাফিজুর প্রামাণিকের আবেদনের প্রেক্ষিতে আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ৩ টার মধ্যে লাশ উত্তোলন করে তার ভাইয়ের কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দেন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট গোলাম কিবরিয়া।
পুলিশের উপস্থিতিতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুর রহিম সুজন রূপার লাশ তার ভাইয়ের কাছে হস্তান্তর করেন।
গত শনিবার অজ্ঞাত হিসেবে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় গোরস্থানে রূপাকে কবর দেওয়া হয়েছিল।
লাশ উত্তোলন করে নিজ এলাকায় দাফনের জন্য নিহতের ভাই হাফিজুর প্রামাণিক বুধবার (৩০ আগস্ট) মধুপুর আমলী আদালতে আবেদন করলে বিচারক তাকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আবেদনের নির্দেশ দেন।
পরে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট গোলাম কিবরিয়া আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বৃহস্পতিবার দুপুর ৩ টার মধ্যে লাশ উত্তোলন করে তার পরিবারের নিকট হস্তান্তর করার নির্দেশ দেন।
এরই প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক খান মো. নুরুল আমিন আইনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুর রহিম সুজনকে লাশ উত্তোলন করে তার ভাই হাফিজুর প্রামাণিকের নিকট হস্তান্তরের আদেশ দেন।
পরে লাশ উত্তোলন শেষে এম্বুলেন্সে করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার আছানবাড়ি গ্রামের নিজ বাড়িতে।
উল্লেখ্য, গত ২৫ আগস্ট শুক্রবার রাতে ঢাকার আইডিয়াল ল’ কলেজের আইনের ছাত্রী রূপা প্রামাণিককে ধর্ষণের পর ঘাড় মটকে হত্যা করে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে মধুপুর উপজেলার পচিশ মাইল এলাকায় ফেলে দেয় দুর্বৃত্তরা।
পরে তার ভাই হাফিজুর প্রামাণিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের সুত্র ধরে মধুপুর থানায় এসে নিহতের ছবি দেখে তার বোনকে সনাক্ত করেন। এসময় হাফিজুর জানান, তাদের বাড়ি সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার আছানবাড়ি গ্রামে। তাদের পিতার নাম জিলহাস প্রামাণিক।
এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে গত সোমবার ছোঁয়া পরিবহনের বাসের চালক হাবিবুর রহমান (৩০), সুপারভাইজার ফজল আলী (৫৮), সহকারি শামীম (২৭), আকরাম (৩৫) ও জাহাঙ্গীর (১৯)কে আটক করে মধুপুর থানা পুলিশ।
আটককৃতরা টাঙ্গাইল সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নিকট ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। এসময় তারা দোষ স্বীকার করে লোমহর্ষক ঘটনার বর্ণনা দেয়।
এর আগে শনিবার লাশের ময়না তদন্ত শেষে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় গোরস্থানে কবর দেওয়া হয় রূপাকে।
এমবি





