আদালত অবমাননাকর বক্তব্য দেওয়ায় খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হককে তলব করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।
তাদের আগামী ১৫ মার্চ সকাল ৯টায় আদালতে হাজির হয়ে তাদের বক্তব্যের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
মঙ্গলবার সকাল ৯টা ৫ মিনিটে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের নয় সদস্যের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘সম্প্রতি দুই মন্ত্রী অশুভ ও আদালত অবমাননাকর বক্তব্য দিয়েছেন। আমরা বিচারকরা মনে করি, এটি বিচার বিভাগের ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ।’
উল্লেখ্য এর আগে, গতকাল (৭ মার্চ) প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার সমালোচনা করে বক্তব্য দেয়ায় খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম এবং মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হককে লিগ্যাল নোটিস দেয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জুলফিকার আলী জুনু এ নোটিস পাঠিয়েছেন।
নোটিসে বলা হয়েছে, ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৪-এর অনুচ্ছেদের ৪ নম্বর উপ-অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, প্রধান বিচারপতি এবং অন্যান্য বিচারক বিচারকাজ পালনের ক্ষেত্রে স্বাধীন থাকবেন। মন্ত্রীর নির্দেশনামূলক বক্তব্য সরাসরি বিচার বিভাগ এবং প্রধান বিচারপতির বিচারিক ক্ষমতার ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপের শামিল। তাই দুই মন্ত্রীর বক্তব্য সংবিধানের ৯৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অসাংবিধানিক ও আদালত অবমাননার শামিল।
নোটিসে আরও বলা হয়, এসব বক্তব্যের মাধ্যমে আপনারা প্রধান বিচারপতি এবং আপিল বিভাগে বিচারাধীন রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ বিষয় নিয়ে মন্তব্য করেছেন। রায় প্রকাশের আগেই কোনো মামলায় আদালত কী রায় দেবেন, তার নির্দেশনামূলক বক্তব্যের মাধ্যমে আপনারা অনুরোধ করেছেন। যা সম্পূর্ণ বেআইনি, সংবিধান পরিপন্থি ও আদালত অবমাননার শামিল। এটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
নোটিসে সমালোচনা করে বলা হয়, প্রধান বিচারপতিকে আপনারা বিচারাধীন মামলা থেকে সরে নতুন বেঞ্চ গঠন এবং পদত্যাগের দাবি করেছেন, যা সরাসরি আদালত অবমাননার শামিল। তাই আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লিখিতভাবে জবাব দিতে আহ্বান জানাচ্ছি। তা না হলে উচ্চ আদালতে এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।
গত শনিবার (৫ মার্চ) ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির এক আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধান বিচারপতির তীব্র সমালোচনা করেন কামরুল ইসলাম এবং আ.ক.ম মোজাম্মেল হক। প্রধান বিচারপতিকে বাদ দিয়ে নতুন বেঞ্চ গঠন করে জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলীর মামলার পুনরায় শুনানির দাবি করেন খাদ্যমন্ত্রী।
এদিকে, দুই মন্ত্রীর বক্তব্য অসাংবিধানিক বলেও মন্তব্য করেছেন দেশের সর্বোচ্চ সরকারী আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ।
পরবর্তীতে, প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে নিয়ে দুই মন্ত্রীর বক্তব্য সরকারের নয় বলেও মন্ত্রিসভায় জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দুই মন্ত্রীর নাম উল্লেখ না করে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।
ওএফ/কেবি





