রাজধানীর বিমানবন্দর এলাকায় নাজমূল হোসেন নামে এক অন্ধের কাছ থেকে নৌবাহিনীর পরিচয়ে একজন ৩২ হাজার ৫শ টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল (শুক্রবার) রাত ১০টার দিকে বিমানবন্দর রেলস্টেশনের প্লাটফর্মে এই ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী নাজমূল (মোবাইল নাম্বার– ০১৯১৬৬৪৬১৯১) এই প্রতিবেদককে জানান, তিনি শুক্রবার সন্ধ্যার পর ময়মনসিংহ থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ট্রেনে উঠেন। তার ভাই তাকে ৩২ হাজার ৫শ টাকা দেয় ট্রেন ছাড়ার কিছু আগে। রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা বিমানবন্দর স্টেশনে ট্রেন থেকে তিনি নামেন। এ সময় একব্যক্তি সম্ভবত তার পাশের সিটেই বসা ছিল সেও ট্রেন থেকে নেমে পড়েন। প্লাটফর্মে সে নাজমূলকে মারধর শুরু করে এবং দাবি করে যে নাজমূল তার টাকা চুরি করেছে। তারা নাজমূলের কাছ থেকে তার ভাইয়ের দেয়া ৩২হাজার ৫শ টাকা ছিনিয়ে নেয়।
নাজমূল আরো জানান, লোকটি নিজেকে নৌবাহিনীর সদস্য পরিচয় দেন এবং তার সাথে আরো এক বা একাধিক লোক ছিল। এ সময় চিৎকার চেচামেচিতে রেলওয়ে পুলিশের লোকজন ছুটে আসেন। তারা উভয় পক্ষের বক্তব্যে শোনার পর কথিত নৌবাহিনীর লোকটিকে ওই টাকাসহ ছেড়ে দেয়। আর নাজমূলকে একটি চিঠিসহ পাঠিয়ে দেয় কমলাপুর রেলস্টেশনে।
আজ (শনিবার) বেলা সাড়ে ১১টায় সবশেষ নাজমূলের সাথে যখন এই প্রতিবেদকের কথা হয় তখন তিনি কমলাপুর রেলস্টেশন থানা পুলিশের হেফাজতে (৭ ও ৮ নাম্বার প্লাটফর্মের মাঝামাঝি) অবস্থান করছিলেন। গত রাত থেকে তাকে সেখানে রাখা হয়েছে।
রেলওয়ে পুলিশের কর্মকর্তা ফারুক মজুমদার যিনি গত রাতে বিমানবন্দর স্টেশনে বিষয়টির নিস্পত্তি করেছিলেন এবং কথিত নৌবাহিনীর সদস্যকে নাজমূলের টাকাসহ ছেড়ে দিয়েছিলেন তার মোবাইলে (০১৭৫০০৭৮৬৯৭) যোগাযোগ করা হলে এই প্রতিবেদককে জানান, ওই নৌবাহিনীর সদস্যসহ কয়েকজন অন্ধ নাজমূলের বিরুদ্ধে টাকা চুরির অভিযোগ আনেন। তাৎক্ষণিক বিষয়টি শুনে অন্ধ নাজমূলকে কমলাপুর রেলস্টেশনে পাঠিয়ে দিয়েছি।
বিষয়টি ভালোভাবে না জেনে একপক্ষকে ছেড়ে দিলেন, আর অন্ধ লোকটিকে গতকাল থেকে আটকে রাখলেন- এটা কোন যুক্তিতে করেছেন- জানতে চাইলে তিনি বলেন, কেউ অভিযোগ করলে সে তো বাদী, তাকে কিভাবে আটকাবো।
কিন্তু অন্ধ লোকটি তো পাল্টা অভিযোগ করছেন যে তার টাকা ছিনতাই করা হচ্ছে – এমন প্রশ্ন করা হলে পুলিশ কর্মকর্তা ফারুক বলেন, কমলাপুর রেলস্টেশন থানায় অন্ধের পক্ষে কেউ আসুক তারপর বিষয়টি দেখা যাবে।
এদিকে, ঢাকায় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন সমিতির অফিস থেকে সংগঠনটির মহাসচিব মো: তুহিন মিয়া (মোবাইল নাম্বার – ০১৭৮২৬৬৫০৮১) এই প্রতিবেদকের কাছে অভিযোগ করেন, আমরা অন্ধ ও প্রতিবন্ধী হওয়ায় এভাবে হেনস্থা হতে হচ্ছে, আর তারা আইনের লোক হওয়ায় যা ইচ্ছা তাই করছেন।
তুহিন বলেন, এটা কিভাবে হতে পারে যে একজন অন্ধ লোক নৌবাহিনীর পরিচয়ধারী সেই লোকটির টাকা নিয়ে গেছে। আসল সত্য হলো তারাই নাজমূলের টাকাটা নিয়ে গেছে এবং তাকে মারধর করেছে।
তুহিনের আরো অভিযোগ, পুলিশের যদি সুবিচার করার সদিচ্ছাই থাকতো তাহলে দু’জনকেই থানায় আটকে রাখতো, সবকিছু যাচাইবাছাই করে যার টাকা তাকে দিয়ে দিতো এবং যে অপরাধী আইন অনুযায়ী তাকে শাস্তি দিতো। কিন্তু কিছুই না করে একপক্ষকে শুধুমাত্র মৌখিক কথার প্রেক্ষিতে ছেড়ে দিলো এবং আমার অন্ধ ভাইটিকে গত রাত থেকে থানায় আটকে রাখলো- এটা কেমন বিচার?
ক্ষোভের সঙ্গে এই প্রতিবেদককে তুহিন আরো বলেন, এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই যাতে আর কোন আইনের লোক কোন প্রতিবন্ধীর সাথে দুর্ব্যবহার করার সাহস না পান এবং কোন অসহায় প্রতিবন্ধী যেন এমন নির্যাতনের শিকার না হন।
কেবি





