এ পর্যন্ত কয়েকবার উড়ো চিঠি বা ঠিকানাহীন কোন মাধ্যমে দেশের বিশিষ্ট নাগরিককে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলাটিম।

আগেও আনসারুল্লাহ বাংলাটিম বিভিন্ন নামের ব্যাক্তিদের হুমকি দিলেও এবারই প্রথম হুমকি দিলো স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালসহ সাত বিশিষ্ট নাগরিককে। যে চিঠিটি আনসারুল্লাহ বাংলাটিম-১৩ শাখাটি থেকে পাঠানো হয়েছে।

গতকাল (মঙ্গলবার) এ বিষয়ে রাজধানীর ধানমন্ডি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী (জিডি) দ্বায়ের করেছেন করেছেন ঢাবি প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ এম আমজাদ। জিডি নম্বর হলো ৯২।

হুমকির ওই চিঠিতে অন্য যারা আছেন তারা হলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এ কে আজাদ চৌধুরী, প্রক্টর অধ্যাপক এ এম আমজাদ, জহুরুল হক হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন, কলা অনুষদের ডিন ড. মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান, আবু মুসা এম মাসুদজ্জামান জাকারিয়া মাসুদ ও অভিনেত্রী শমী কায়সার।

এই লিস্টের এক নম্বরে রয়েছেন, ঢাবি সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এ কে আজাদ চৌধুরী যার নামের পাশে ব্রাকেটে ইংরেজিতে লেখা আছে (আই.এনিমি), দ্বিতীয় নম্বরে রয়েছেন-স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল পাশে ব্রাকেটে ইংরেজিতে লেখা (ট্রেইটর.বিডি)।

যথাক্রমে জহুরুল হক হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন (এন্টি ইসলাম.রাইটার.ডিউ), অভিনেত্রী শমী কায়সার (নাস্তিক),আবু মুসা এম মাসুদজ্জামান জাকারিয়া মাসুদ (এন্টি. ইসলাম.ওয়ারকার), অধ্যাপক ড. এ এম আমজাদ (ডিফেমার.ডিউ), কলা অনুষদের ডিন ড. মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান (আই.এনিমি)।

চিঠিতে উল্লেখিত নাম গুলোর নিচে ইংরেজিতে লেখা আছে, "সেকন্ড লিস্ট অব ডেথ, মাস্ট ইউ উইল প্রিপেয়ার ফর ডেথ, আলকায়েদা-আনসারুল্লাহ বাংলাটিম-১৩"

জিডি বিষয়ে অধ্যাপক ড. এ এম আমজাদ টাইমনিউজবিডিকে বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর এমিরিটাস এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান এ কে আজাদ চৌধুরী স্যারের কাছে কে বা কারা ঠিকানাহিন ‌একটি চিঠি দিয়েছে।

যেখানে আমিসহ সাত জনের নাম উল্লেখ রয়েছে। চিঠিতে মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।

বিষয়টি জানার পর উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক স্যারের সঙ্গে আলোচনা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ধানমন্ডি থানায় একটি সাধারন ডায়েরী করা হয়েছে।

জিডি করার করার ব্যাপারে ধানমন্ডি থানার তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) হেলাল উদ্দিন টাইমনিউজবিডিকে জানান, মঙ্গলবার বিকেলে ঢাবি প্রক্টর এ বিষয়ে একটি জিডি করেছেন।

যেখানে আনসারুল্লাহ বাংলাটিম-১৩ নামের একটি সংগঠনের পক্ষ থেকে তাদেরকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।

ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আজম মিয়া টাইমনিউজবিডিকে বলেন, এ ব্যাপারে আমাদের তৎপরতা এবং বিশেষ নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

তদন্ত টিম গঠনের ব্যাপারে তিনি বলেন, এখনো পর্যন্ত কোন তদন্ত টিম গঠন করা হয়নি তবে যারা এই হুমকি দিয়েছে তাদের ধরতে আমরা আইনি পদক্ষেপ নিয়েছি।

দুই সপ্তাহ আগে ২০ মে বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, বুদ্ধিজীবী ও লেখক সিলেট শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবি) শিক্ষক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালসহ প্রগতিশীল ১০ বিশিষ্ট্য নাগরিককে হত্যার হুমকি দিয়েছেছিলো এই সংগঠনটি।

২০ মে বুধবার ডাকযোগে ‘আল কায়েদা-আনসারুল্লাহ বাংলাটিম-১৩’নামের এই নিষিদ্ধ ঘোষিত এই সংগঠনঠি হত্যার হুমকি দেয়।

ওই চিঠির তালিকায় সবার উপরে ছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমামের নাম। যার নামের পাশে লেখা রয়েছে (এন্টি ইসলাম. এডভাইজার)। দিতীয় নম্বরে ছিলেন, ঢাবি উপাচার্য আরেফিন সিদ্দিকের নামের পাশে লেখা (আই. দুশমন.ভিসি)।

পর্যায় ক্রমে যারা ছিলেন তারা হলেন, তারানা হালিম (নাস্তিক), জগন্নাথ হলের প্রাধ্যক্ষ অসীম সরকার (হিন্দু মৌলবাদ), ইমরান এইচ সরকার (ব্লগার), কাবেরী গায়েন (আই.এনিমি.ডিইউ), বিকাশ সাহা (আই.দুশমুন), ইকবালুর রহিম (আই. দুশমুন), পলান সুতার (এন্টিবাংলাদেশ.র.এডভাইজার) ও মুহম্মদ জাফর ইকবালের (সেক্যুলার) নাম।

উল্লেখ্য, মুক্তমনা ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ রায়সহ তিন ব্লগার হত্যায় সন্দেহভাজন 'আনসারুল্লা বাংলা টিমকে' গত সপ্তাহে নিষিদ্ধ করে সরকার।

এমআর/এসএইচ