অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, সংবিধানে মানবাধিকার-সংক্রান্ত অনুচ্ছেদগুলো ৩১, ৩৫-এ। আদালতের অভিমত হলো, আমাদের সিআরপিসি, এভিড্যান্স অ্যাক্ট বা পুলিশদের কাজ করা-সংক্রান্ত পিআরবি আইনগুলো এবং সংবিধান পরস্পরের পরিপন্থী হয়ে যাচ্ছে।

সুতরাং হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছিল তা ছিল কিছু মন্তব্য বা রিকমান্ডেশন-সংক্রান্ত। সংবিধানে যে বিধি-বিধান রয়েছে, তার আলোকে ফৌজদারি কার্যবিধি, এভিড্যান্স অ্যাক্ট ইত্যাদিতে সংশোধনের প্রয়োজন মনে করে কিছু নির্দেশনা দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করেছিল। এটি আজকে খারিজ করে দেয়া হয়েছে।

আপিল বিভাগ এ বিষয়ে নিজের আবার কিছু মডিকিফকেশন, রদবদল করবেন বলে উল্লেখ করেছেন। এখন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায়ের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। আপিল বিভাগ যে রায় দেবেন বা যে সমস্ত নির্দেশনা দেবেন তার আলোকে আশা করি সরকার পদক্ষেপ নেবে।

ভিন্নমতের কারণে ডাক্তার ও বিশ্ববিদ্যলয়ের শিক্ষকদের খুন করা হয়েছে। এসব মামলার আসামিদের পুলিশ বাহিনী ধরবে। এখন থেকে তাদের গ্রেফতার করতে হলে আদালতের কিছু নির্দেশনা মেনেই আইন শৃংখলা বাহিনী ও সরকারকে সামনের দিকে এগুতে হবে।

তিনি বলেন, সব সময় মামলা করার পর তাদের ধরা সম্ভব হয় না। অপেক্ষা করে বসে থাকলে তো সে পালাবে।

আদালতে মূল উদ্বেগ হচ্ছে যেন মানবাধিকার লঙ্ঘিত না হয়। সাদা পোশাকে নিজেদের পরিচয় না দিয়ে পৃথিবীর কোথাও এভাবে গ্রেফতার করে না। এখন দেখা যাচ্ছে, একজনকে শক্রুতাবশত গায়েব করে ফেলছে। পরিচয় দিচ্ছে আইন শৃংখলা বাহিনীর লোক। আশা করি, এটা বন্ধ হবে।

সাদা পোশাকে যারা করবে তাদের কাজ হবে আসামিকে অনুসরণ করা গতিবিধি লক্ষ্য করা তাকে গ্রেফতার করার ব্যাপারে নিশ্চয় পরিচয় দেয়া উচিত। আমার মনে হয় না নিজেদের পরিচয় না দিয়ে আইন শৃংখলা বাহিনী কাউকে গ্রেফতার করতে যায়।

এগুলো যারা যাচ্ছে তারা নিশ্চয় আইন শৃংখলা বাহিনীর লোক নয়। তারা ইউনিফর্ম ছাড়া ডিউটিতে যায় না। সাদা পোশাকের কাজ হচ্ছে গতিবিধি ও গোয়েন্দার কাজে নিয়োজিত থাকা, যখন গ্রেফতারের প্রসঙ্গ আসবে তখন পরিচয় দেয়ার বিষয়টা আসবে।                        

এমআর