বরগুনার তালতলীতে মাছ চুরির অভিযোগে ১১ বছরের শিশু রবিউলকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় করা মামলার একমাত্র আসামি মিরাজ হোসেনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত।
আদালত রায়ে ৩০২ ধারায় (হত্যা) মিরাজকে মৃত্যুদণ্ড ও ২০ লাখ টাকা জরিমানা এবং ২০১ ধারায় (লাশ গুম) সাত বছরের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। আদালত বলেন, একই সঙ্গে এটি কার্যকর হবে। এ ছাড়া মিরাজের পরিবার ক্ষতিপূরণ হিসেবে ২০ লাখ ১০ হাজার টাকা শিশু রবিউলের পরিবারকে দেবে।
আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে বরগুনার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. আবু তাহের আলোচিত এই মামলার রায় ঘোষণা করেন। এ সময় আসামি মিরাজ আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
হত্যা রায়ে ৩০২ ধারায় মৃত্যুদণ্ড ও ২০ লাখ টাকা জরিমানা। লাশ গুমের ২০১ ধারায় সাত বছর কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা। একই সঙ্গে দুটি রায় কার্যকর হবে। মিরাজের পরিবার ওই পরিবারকে দেবে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আক্তারুজ্জামান বাহাদুর এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ১৯ মে বিচারক এই মামলার যুক্তি-তর্ক শেষে ২৬ মে রায়ের জন্য দিন ধার্য করেছিলেন। পরে তা আজ (৩১ মে) নির্ধারণ করেন।
আলোচিত এই শিশুহত্যা মামলার রায় ঘোষণা করার হবে—এমন খবর জানতে পেরে আজ বরগুনা জেলা জজ আদালতের সামনে বিপুলসংখ্যক উৎসুক মানুষ জড়ো হয়। আদালতের বাইরে নেওয়া হয় অতিরিক্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা।
গত বছরের ৩ আগস্ট রাতে মাছ চুরির অভিযোগে বরগুনার তালতলী উপজেলার সোনাকাটা ইউনিয়নের ছোট আমখোলা গ্রামের ১১ বছরের শিশু রবিউলকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরে তার মরদেহ স্থানীয় লকরার খালে ফেলে রাখা হয়।
পরের দিন ৪ আগস্ট বিকেলে স্থানীয় লকরার খাল থেকে পুলিশ রবিউলের মরদেহ উদ্ধার করে। রবিউল স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র ছিল।
এ ঘটনায় ৫ আগস্ট শিশু রবিউলের বাবা দুলাল মৃধা বাদী হয়ে তালতলী থানায় অভিযুক্ত মিরাজসহ চারজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন। ওই দিনই মিরাজকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ৬ আগস্ট বরগুনার আমতলী উপজেলার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম বৈজয়ন্ত বিশ্বাসের আদালতে হাজির করা হলে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন আসামি মিরাজ। এরপর শুধু মিরাজের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ।
এমআর





