আগুনে ঝলসে দেওয়া আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফির (১৮) পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশের প্রতি অনাস্থা প্রকাশের পর ফেনীর সোনাগাজী থানার ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।

সেই সাথে আলোচিত হত্যাচেষ্টার মামলা তদন্তের জন্য ‘পুলিশ ব্যুরো অব ইনফেস্টিগেশ’-পিবিআইতে স্থানান্তরও করা হয়।

আজ (১০ এপ্রিল) বুধবার পুলিশ সদর দফতর থেকে এই সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (মিডিয়া) সোহেল রানা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে নুসরাত জাহান রাফির শরীরের অগ্নিসংযোগের ঘটনায় অভিযুক্ত শম্পার গ্রেফতার হওয়া না হওয়া নিয়ে পুলিশের পৃথক মন্তব্যের পর ওই ছাত্রীর পরিবার পুলিশের কার্যক্রমে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

এদিকে এই ঘটনায় সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলার ভাগ্নি উম্মে সুলতানা পপিকে আটক করা হয়েছে। সেই সঙ্গে পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টা মামলার এজহারভুক্ত আসামি জোবায়ের আহমেদকেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতার জোবায়ের সোনাগাজী পৌরসভার তুলাতলি এলাকার আবুল বাশারের ছেলে। আর পপি অগ্নিদগ্ধ ছাত্রীর সহপাঠী।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সোনাগাজী মডেল থানার পরিদর্শক কামাল হোসেন জানান, মঙ্গলবার (০৯ এপ্রিল) রাতে অভিযান চালিয়ে তারা জোবায়েরকে গ্রেফতার করেন। পরে রাতেই সোনাগাজী পৌর এলাকার চনচান্দিয়ার বাসা থেকে পপিকে আটক করা হয়।

এনিয়ে মামলায় এজাহারভুক্ত ৩ জনসহ ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়।যাদের মধ্যে ৭ জন কারাগারে এবং বাকিদের হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।  

নুসরাত জাহান রাফি এবার সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা থেকে আলিম (এইচএসসি সমমান) পরীক্ষা দিচ্ছিলেন। তিনি সোনাগাজীর উত্তর চরচান্দিয়া গ্রামের মাওলানা এ কে এম মুসা মানিকের মেয়ে। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি তৃতীয়।

গত ০৬ এপ্রিল (শনিবার) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নুসরাত জাহান রাফি (১৮) আলিম (এইচএসসি সমমান) আরবি প্রথমপত্র পরীক্ষা দিতে যান। এরপর কৌশলে তাকে পাশের ভবনের ছাদে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে ৪/৫ জন বোরকা পরিহিত দৃর্বৃত্ত ওই ছাত্রীর শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুর ধরিয়ে দেয়। এতে তার শরীরের ৮০ শতাংশ পুড়ে যায়।

তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ফেনী সদর হাসপাতাল থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়েছে।

পরিবারের অভিযোগ, মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এস এম সিরাজউদ্দৌলা গত ২৭ মার্চ নুসরাত জাহানের শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। নুসরাত বিষয়টি বাসায় জানালে তাঁদের মা সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। ওই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে সোনাগাজী থানা পুলিশ অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলাকে গ্রেফতার করে।

এরপর মামলা প্রত্যাহারের জন্য নুসরাতকে চাপ দেয় সিরাজউদ্দৌলার লোকজন। কিন্তু নুসরাত অপারগতা প্রকাশ করেন। এই অবস্থায় আলিম পরীক্ষা শুরুর দিন থেকে ভাই নোমান নুসরাতকে পরীক্ষার হলে বসিয়ে দিয়ে আসতেন। ঘটনার দিনও তিনি তাই করেন।

এমবি