পহেলা বৈশাখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি চত্বরে নারী নির্যাতনের ঘটনায় অপরাধীদের শনাক্তকরণের জন্য ১৬ নম্বর সিসি ক্যামারের ভিডিও ফুটেজ প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্র ও ছাত্র ইউনিয়নের নেতারা।

এসময় তারা দাবি করেন, ওই ১৬ নম্বর ফুটেজেই প্রকৃত ঘটনা আলাতম পাওয়া যাবে।

বুধবার বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘নারী নিগ্রহের প্রতিবাদ ও অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই’ শীর্ষক এক মানববন্ধনে তারা এ দাবি জানান।

বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্র আয়োজিত এ মানববন্ধনে ওই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি লিটন নন্দী বলেন, টিএসসি নিরপত্তার স্বার্থে পুলিশের উদ্যোগে ১৯ টি সিসি ক্যামেরা রয়েছে তাদের মধ্য ১৬ নম্বর সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ জনগণের সামনে প্রকাশ করলেই প্রকৃত ঘটনা সবার কাছে উন্মুক্ত হবে।

খুশি কবির বলেন, পহেলা বৈশাখে নারী নিগ্রহের ঘটনা প্রমাণ করেছে প্রশাসন আমাদের রক্ষা করতে ব্যর্থ। সেদিন যখন এই ঘটনা ঘটলো, পুলিশ পাশেই ছিলো কিন্তু এগিয়ে আসেনি। এটা প্রমাণ করছে যে প্রশাসন তাদের ভয় পায়। তাদের এমন আচরণ মৌলবাদী শক্তিকে আষ্কারা দিচ্ছে।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন এ বিষয়ে কি পদক্ষেপ নিয়েছে আমরা সেটা জানতে চাই। প্রশাসন এখন বলছে তাদের কাছে নাকি কোন প্রমাণ নেই। আমরা বলছি, সাধারণ মানুষ এই ঘটনার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।

খুশি কবির বলেন, এদেশের মানুষ রক্তদিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছে। আমাদের শরীরে প্রতিবাদের রক্ত রয়েছে। আমরা এই ঘটনার প্রতিবাদ অবশ্যই করবো। যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের সনাক্ত করা খুবই সহজ। আশা করবো, প্রধানমন্ত্রী এ ঘটনার প্রেক্ষিতে কঠোর ব্যবস্থা নিবেন।

আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মেয়র প্রার্থীদের কাছে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, নারীদের জন্য আপনাদের অগ্রাধীকার গুলো কি? এই শহরে নারীরা যাতে নির্বিঘ্নে চলাফেরা করতে পারে তার জন্য আপনাদের প্রতিশ্রুতি গুলো কি তা ঠিক করতে হবে।

পুলিশ যৌন হয়রানীর মাত্রা নির্ধারণ করতে চায় মন্তব্য করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি লিটন নন্দি বলেছেন পুলিশ বলছেন সে দিন কি ধরণের হয়রানী হয়েছে, কোন মাত্রার যৌন নির্যাতন করা হয়েছে। তার মানে কি পুলিশ যৌন নির্যানতের মাত্রা নির্ধারণ করতে চায়?

মার্কেট, রাস্তায় এধরনের ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটে জানিয়ে তিনি বলেন, সেদিন ১৫-২০ জন নারীকে বিভিন্ন ভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। তার মধ্যে ১-২ জনকে বিবস্ত্র করা হয়েছে। আমাদের লোকবল কম, তার মানে এই নয় যে আমরা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নারীর উপর নির্ধারিত মাত্রার যৌন হয়রানী মেনে নিব।

লিটন নন্দী বলেন, নারী নিগ্রহের ঘটনা এর আগেও বহুবার ঘটেছে। কিন্তু এবারের পহেলা বৈশাখের ঘটনাটি পূর্বের সব ঘটনাকের ছাড়িয়ে গেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছে। তারা বলছে এতে নাকি বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুণ্য হবে। তাহলে সেদিন যে যৌন নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে এতে কি সুনাম ক্ষুণ্য হচ্ছে না?

ব্যর্থ প্রশাসনের দায়ভার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিতে চায় না উল্লেখ করে লিটন বলেন, আপনারা রাজু ভাস্কর্যের দক্ষিণ দিকের অর্থাৎ ১৬ নম্বর সিসি ক্যামেরার ফুটেজ প্রকাশ করুন। তাহলে আসল অপরাধীদের সনাক্ত করা আরো সহজ হবে।

তিনি অভিযোগ করেন বলেন, প্রশাসন ১৬নম্বর ক্যামেরার ফুটেজ কেন প্রকাশ করছে না ।

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন, আয়োজক সংগঠনের সভানেত্রী বীর মনোয়ারা মনু, সাধারণ সম্পাদক পারভিন সুলতানা ঝুমা, জাহানারা সুমি প্রমুখ।

এমএ/এসএইচ