রাজধানীর গুলশানের আমরী নামে এক আবাসিক হোটেলে মানি এক্সচেঞ্জ ব্যবসায়ী নজরুল ইসলামকে (৪৫) হত্যার মূলহোতা হেলাল উদ্দিনসহ মোট তিনজনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব।
শুক্রবার দিনগত রাতে ময়মনসিংহের গফরগাঁও থেকে হেলালকে আটক করা হয়। পরে তার দেয়া তথ্য মোতাবেক রাজধানীর ফার্মগেট ও মহাখালী থেকে আমিনুল ইসলাম ওরফে সোহাগ (২০) ও রকিবুল ইসলাম (৩২) নামে আরও দুজনকে গ্রেফতার করা হয়।
চলতি বছরের ১৩ অক্টোবর রাজধানীর গুলশান ২নং হোটেল আমরী ইন্টার ন্যাশনাল এর ৭০১ নং কক্ষে মানি এক্সেচেঞ্জ ব্যবসায়ী নজরুল ইসলামকে হত্যা করা হয়।
শনিবার র্যাব-১ এর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-১ এর পরিচালক তুহিন মোহাম্মদ মাসুদ বলেন, হত্যাকাণ্ডের পরপরই র্যাব জড়িতদের সনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। সিসিটিভির ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করেন। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-১ এর একটি দল রকিবুল ইসলামকে (৩২) রাজধানীর মহাখালী হতে গ্রেফতার করা হয়।
পরবর্তীতে অনুসন্ধানের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডের মূলহোতা হেলাল উদ্দিনকে(৩৬) ময়মনসিংহের গফরগাঁওগ্রেফতার করা হয়। এসময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত প্রাইভেটকার উদ্ধার করা হয়। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে আমিনুল ইসলাম সোহাগকে (২০) ফার্মগেট এলাকা হতে গ্রেফতার করে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জানিয়েছে, রফিকুল ইসলাম, মানি এক্সেচেঞ্জ ব্যবসায়ী নজরুল ইসলামকে আমরী ইন্টারন্যাশনাল হোটেলের ৭০২ নং কক্ষে বৈদেশিক মুদ্রা ক্রয় করার কথা বলে নিয়ে আসে। এরপর বন্ধ রুমে রফিকুল ইসলাম এবং হেলাল উদ্দিন মিলে নজরুলকে চেতনানাশক ওষধ প্রয়োগ করে অজ্ঞান করার চেষ্টা করে। নজরুল বাঁচার জন্য হত্যাকারী হেলালের ডান হাতের আংগুলে কামড় বসায়। এ ঘটনায় নজরুলকে টেনে হিচড়ে মেঝেতে ফেলে হাত পা বেঁধে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে তারা।
গ্রেফতারকৃতরা আরো জানান, হত্যার পর নজরুল ইসলামের বহন করা বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রাও হত্যাকারীরা নিয়ে চলে যায়। এর পূর্বে হত্যাকাণ্ড সংঘঠিত করার জন্য রফিকুল ইসলাম ও হেলাল উদ্দিন মিটফোর্ড রোডের কেমিক্যাল দোকানের কর্মচারী সোহাগের নিকট হতে চেতনানাশক ওষধ ক্রয় করে। হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার পর পলায়নের জন্য হত্যাকারীরা একটা সাদা টয়োটা গাড়ী (যাহার নং- ঢাকা মেট্রো-গ-২৫-৮৮৯৬) এর নম্বর প্লেট বদল করে ব্যবহার করে। হত্যাকাণ্ড সংঘঠিত করার পর রফিকুল ইসলাম ১৩ অক্টোবর রাত ৯টায় মালয়েশিয়ান এয়ার লাইনসে করে স্ব-পরিবারে দেশ ত্যাগ করে। তার পাসপোর্ট নম্বর অএ১৩২৩৭৭৭।
র্যাব-১ সিও তুহিন মোহাম্মদ মাসুদ বলেন, হত্যাকাণ্ড সংঘঠিত করার জন্য রফিকুল ইসলাম অনেকদিন থেকেই পরিকল্পনা করছিল। সে অত্যন্ত চতুর। হত্যাকাণ্ড সম্পাদন করে কোন ক্লু না রেখেই বিদেশে পলায়ন করে। আটককৃতদের আদালতে পাঠিয়ে রিমান্ডে নেয়া হবে বলে জানান তিনি।
জেইউ/জেআই





