ঢাকা সিটি করপোরেশনের (ডিসিসি) সাবেক কর কর্মকর্তা আতাহার আলী খানের কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ , দুর্নীতি ও অনিয়মের অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। প্রায় ৩০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক আতাহার আলী এমন অভিযোগ রয়েছে।

সম্পতি দুদক তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের কার্যক্রম শুরু করেছে বলে জানা যায়। তার বিরিুদ্ধে ডিসিসির এ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে, আহসান মঞ্জিল সুপার মার্কেট, চন্দ্রিমা সুপার মার্কেট, গুলিস্তান ট্রেড সেন্টার, সুন্দরবন স্কয়ার মার্কেট, ঢাকা ট্রেড সেন্টার ও কাপ্তান বাজার কমপ্লেক্সে নিজের তার ৫০টির অধিক দোকান এবং আত্মীয়ের নামে অনেকগুলো দোকান রয়েছে।

নাম না প্রকাশের শর্তে ডিসিসির একাধিক কর্মকর্তা জানান, দুর্নীতির মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়ার অভিযোগে গত বছর ডিসিসির কর্তৃপক্ষ কর কর্মকর্তা আতাহার আলীকে চাকরিচ্যুত করেন। একই সঙ্গে তার নেয়া বেতন ভাতাদি ফেরত নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কর্তৃপক্ষ ।

সাবেক মন্ত্রী মরহুম আব্দুল মান্নান ভূঁইয়ার পিএস পরিচয়ে আতাহার আলী চারদলীয় জোট সরকারের সময় জালিয়াতির মাধ্যমে কর কর্মকর্তা হিসেবে ২০০৬ সালে নিয়োগ লাভ করেন। তিনি ডিসিসির বাজার শাখা-৩ কর কর্মকর্তা পদে পোস্টিং পাবার সুবাদে ও তৎকালীন মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ঘনিষ্ঠ হিসেবে বিভিন্ন মার্কেটে ৫০টির বেশি দোকান হাতিয়ে নেন। সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার সহায়তায় কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন।

তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, রাজধানীর আহসান মঞ্জিল সুপার মার্কেটের ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলায় ৩০০ থেকে ৫০০ বর্গফুটের বিভিন্ন নামে ৫টি দোকান, চন্দ্রিমা সুপার মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় ২টি, গুলিস্তান ট্রেড সেন্টারে নিজ নামে ১টি, সুন্দরবন স্কয়ার মার্কেটের দ্বিতীয়তলায় ১টি, গুলিস্তান আন্ডারপাসে বেনামে ১টি ও ঢাকা ট্রেড সেন্টারে বেনামে ২টি দোকান রয়েছে আতাহার আলীর।

ডিসিসির ওই কর্মকর্তারা আরো জানান, কাপ্তান বাজার কমপ্লেক্সে আতাহার আলীর আত্মীয়ের নামে একাধিক দোকান রয়েছে। তার আপন বোন মমতাজ বেগমের নামে কাপ্তান বাজার কমপ্লেক্সের ১নং ভবনের নিচতলায় ২৬৫ নম্বর দোকান, তার বাবা আব্দুস ছোবাহানের নামে ৩৭ নম্বর দোকান, আত্মীয় সাখেরা নাসরিন নামে নিচতলায় ২০০ নম্বর দোকান, আত্মীয় মিনারা বেগমের নামে ওই মার্কেটের নিচতলায় ১০১ নম্বর দোকান, তার বন্ধু আমিনুল হক রনির নামে নিচতলায় ১০২ নম্বর দোকান, আত্মীয় সাজিয়া আফরিনের নামে নিচতলায় ১৬১ নম্বর দোকান, বন্ধু মো. গোলাম বারীর নামে ১নং ভবনের দ্বিতীয়তলায় ১০১ নম্বর দোকান, আত্মীয় ড. নাজিরুল ইসলামের নামে দ্বিতীয়তলায় ১৬১ নম্বর দোকান, আত্মীয় মহসিনুর জামানের নামে দ্বিতীয়তলায় ১৬১ নম্বর দোকান, চাচাতো ভাই মো. আজিজুল হক বুরুজের নামে ২নং ভবনের নিচতলায় ১১৭ নম্বর দোকান, আত্মীয় মো. দেলোয়ার হোসেনের নামে ২নং ভবনের দ্বিতীয়তলায় ৩৭ নম্বর দোকান, আত্মীয় জাকির হোসেনের নামে ২নং ভবনের দ্বিতীয়তলায় ৯২ নম্বর দোকান, আত্মীয় এমদাদুল হোসেনের নামে দ্বিতীয়তলায় ১১৭ নম্বর দোকান, আত্মীয় আমেনা আক্তারের নামে দ্বিতীয়তলায় ১৩৭ নম্বর দোকান ও আত্মীয় মীর লুৎফর রহমান জিলুর নামে দ্বিতীয়তলায় ২০২ নম্বর দোকান রয়েছে।

এ ছাড়া ২৮/আই সেগুনবাগিচায় আতাহার আলীর নিজস্ব ফ্ল্যাট। RAV-4 মডেলের গাড়ি ব্যবহার করেন তিনি। যার মূল্য ৭০ লাখ টাকা। পূর্বাচলে ২০০ ফুট রাস্তার পাশে ১২ কাঠা জমি রয়েছে তার নামে, যা এক বছর আগে ক্রয় করা হয়েছে। ওই জমির মূল্য ৫ কোটি টাকা। এ ছাড়া তার স্ত্রী ও নিকট আত্মীয়দের নামে ৫টি ফ্ল্যাটসহ বিপুল পরিমান অবৈধ সম্পদের রয়েছে দুদকে।

ঢাকা, একে, ১৩ সেপ্টম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, এসএমএ