চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচলাইশ থানা পুলিশের হেফাজতে মো.রোকনুজ্জামান (৪০) নামে নারী নির্যাতন মামলার এক আসামীর মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার গভীর রাত দেড়টার দিকে এ ঘটনা ঘটেছে।
পুলিশ বলছে, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে এবং শরীরে সুগারের পরিমাণ অস্বাভাবিক কমে মৃত্যু হয়েছে রোকনুজ্জামানের। তবে এলাকাবাসীর দাবি, পুলিশের নির্যাতনে তার মৃত্যু হয়েছে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, নগরীর বাকলিয়ার একটি আবাসিক এলাকার বাসিন্দা বীমা কর্মকর্তা রোকনুজ্জামানের বিরুদ্ধে কয়েকদিন আগে পাঁচলাইশ থানায় একটি ধর্ষণের মামলা দায়ের হয়। ওই মামলায় তাকে গ্রেপ্তারের জন্য বুধবার গভীর রাতে তার বাসায় যান তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পাঁচলাইশ থানার এস আই আমির হোসেন।
পুলিশ বাসায় ঢুকে তাকে গ্রেপ্তার করতে চাইলে রোকনুজ্জামানের স্ত্রীসহ বাসার লোকজন কাঁদতে থাকেন। রোকনুজ্জামানও পুলিশের সঙ্গে যেতে অস্বীকৃতি জানান। এ নিয়ে কথাবার্তার এক পর্যায়ে রোকনুজ্জামান প্যান্ট পরে আসার কথা বলে একটি কক্ষে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেন।
এর মধ্যে এলাকার লোকজন বাসার সামনে জড়ো হন। ওই এলাকার বাসিন্দা বীমা কোম্পানির আরেক কর্মকর্তা পুলিশের কাছে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দেখতে চান। এসময় আমির হোসেন তাকে বলেন, রোকনুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলার আসামী হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।
এস আই আমির হোসেনের সঙ্গে এসময় বাকবিতন্ডায় লিপ্ত হন বীমা কোম্পানির ওই কর্মকর্তাসহ কয়েকজন। পুলিশ বীমা কোম্পানির ওই কর্মকর্তাকে গাড়িতে তুলে নেন। এর মধ্যে রোকনুজ্জামান বাসা থেকে বের হয়ে আসেন। তাকে পুলিশ গাড়িতে তোলার সময় তিনি বলেন, ‘আমার খুব খারাপ লাগছে, আমাকে চিনি দাও’ এ ধরনের কথাবার্তা বলে চিৎকার করতে থাকেন। বাসার লোকজন তাকে দ্রুত চিনি দেয়।
পুলিশ গাড়িতে তোলার পর রোকনুজ্জামান গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং শরীর এলিয়ে দেয়। পুলিশ দ্রুত তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
রোকনুজ্জামানের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। খবর পেয়ে পরিবার এবং এলাকার লোকজন মর্গের সামনে জড়ো হয়েছেন। তারা পুলিশ নির্যাতন করে রোকনুজ্জামানকে মেরে ফেলেছে বলে অভিযোগ করেছেন।
ঢাকা, ১৯ জুন(টাইমনিউজবিডি.কম)//এনএস





