বলা হয়ে থাকে তেল ছাড়া গাড়ি চলেনা, কালের বিবর্তনে এখন সেটা বদলে গিয়ে হয়েছে চাঁদা ছাড়া ঘোরেনা চাকা। শুরু আর গন্তব্যের দুই দিকেই চাঁদার টাকা গুনতে হচ্ছে গণপরিবহন চালকদের। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এটা চলে আসছে। পরিবহন মালিক শ্রমিক সংগঠন কিংবা স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ছত্রছায়ায় দিনে কয়েক লাখ টাকায় চাঁদা হাতিয়ে নিচ্ছে অসাধু চক্র।
নিউজ-২৪ এর প্রতিবেদনে জানা যায়, যাত্রাবাড়ি লেগুনা স্ট্যান্ডে সকালে একের পর এক টাকা দিয়ে গাড়ি চলতে শুরু করে। যাত্রবাড়ি থেকে চিটাগাং রোডে চলাচলকারী ১৫০ টি লেগুনা থেকে দৈনিক ২০০ টাকা করে চাঁদা তুলছে মালিক সমিতির লোকেরা।
এই বিষয়ে লেগুনার ড্রাইভারা বলেন, প্রতিদিন আমার চিটাগাংরোডের লাইনম্যান থেকে শুরু করে মোট আমাদের ৪শ’ টাকা চাঁদা দিতে হয়। এমন হিসাবে প্রতিদিন চিটাগাংরোডের ২টি এস্থানে অংকের হিসেবে প্রতিদিন প্রায় ৫৫ হাজার টাকা। এইভাবে টাকা তোলার কোনো বৈধতা না থাকলেও বছরের পর বছর এভাবেই টাকা তুলছে কিছু অসাধু চক্র।
এই চিত্র যাত্রবাড়ি টু শ্যামপুর লেগুনা রোডেও। এখানে দেখা যায়, ঐ রোডে গাড়ি নামলেই দিতে হয় প্রতিদিন ২৫০ টাকা করে। আর টাকা না দিলে বন্ধ করে দেওয়া হয় গাড়ি।
পরিবহন থেকে উঠানো এইসব টাকার ভাগ আবার চলে যায় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের পকেটে। এটা শুধু ঐ এলাকাতেই নয়, এমন চাঁদাবাজি চলছে গাবতলী রুটেও। যেখানে উঠে আসছে প্রভাবশালীদের নাম। চাঁদার টাকা হাত বদলাচ্ছে ঘাটে ঘাটে।
রাজধানীর যাত্রবাড়ি থেকে প্রতিদিন কয়েক হাজার বাস মিনিবাস চলা চল করে। যাত্রবাড়ি থেকে ছেড়ে যাওয়া বিভিন্ন রুটের প্রায় ৫শ’ বাসকে প্রতিদিন ২শ’ থেকে ৩শ’ টাকা পর্যন্ত চাঁদা গুনতে হয়।
কার পকেটে যায় এইসব টাকা? এই বিষয়ে যাত্রবাড়ির টু চিটাগাংরোডের শ্রমিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক বাচ্চু খন্দকার বলেন, ‘হাইওয়েতে যেসব চাঁদাবাজি হয় তা যে যেভাবে পারছে সেই ভাবে নিতাছে আমি শুধু এতটুকুই বলবো’।
শুধু বাস লেগুনা নয়। এবার চাঁদাবজির আরেকটি স্থান হলো ডেমরার স্টাফ কোয়াটার। ওখান থেকে বনশ্রীতে যাওয়া সকল পণ্যবাহী প্রতিটি ট্রাকের বা পিকাপ থেকে কল্যাণ ফান্ডের নামে ওঠানো হয় ৩০ টাকা। শহরে এমন অনেক স্থানেই রয়েছে চাঁদাবাজির চিত্র।
ইমন





