অব্যাহত আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর মাদক বিরোধী অভিযানে কথিত বন্দুকযুদ্ধে গত রাতে পৌর কাউন্সিলরসহ সারা দেশে ১১ জন নিহত হয়েছে। নিহতরা সবাই মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত বলে পুলিশ ও র‍্যাবের দাবি।

নিহতদের মধ্যে কক্সবাজার টেকনাফের শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী ও উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি একরাম (৪৬) কমিশনার রয়েছেন।আর চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, মেহেরপুর, খুলনা, চাঁদপুর, ঠাকুরগাঁও, ময়মনসিংহ ও বাগেরহাটে একজন করে নিহত হয়েছেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, নিহতরা সবাই মাদক কারবারি। প্রত্যেকেরই বিরুদ্ধে থানায় মাদক আইনে একাধিক মামলা রয়েছে।

মাদকবিরোধী অভিযানের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কথিত বন্দুকযুদ্ধে ১৭ মে রাত থেকে এ ক’দিনে বিভিন্ন জেলায় অন্তত ৮৪ জনের মৃত্যু হলো।

টেকনাফ (কক্সবাজার): টেকনাফে র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ পৌর কাউন্সিলর একরামুল হক (৪৬) নিহত হয়েছেন।

র‌্যাব-৭ কক্সবাজার ক্যাম্পের অধিনায়ক মেজর রুহুল আমিন জানান, রাতে নোয়াখালী পাড়া এলাকায় র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের তালিকাভুক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ী একরামুল হক গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন।

এসময় ঘটনাস্থল থেকে একটি ১০ হাজার ইয়াবা, একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ওয়ান শুটারগান, ৬ রাউন্ড গুলি ও ৫টি খালি খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মাদকের অসংখ্য মামলা রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

একরামুল হক টেকনাফ পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর, টেকনাফ উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি ছিলেন। তিনি পৌরসভার কায়ুকখালী পাড়া এলাকার মৃত আব্দুস সাত্তারের ছেলে।

ঝিনাইদহ : শৈলকুপায় দুইদল মাদক ব্যবসায়ীর মধ্যে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ একজন নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে পুলিশ। রোববার রাত সোয়া ১টার দিকে এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তির নাম পরিচয় জানা যায়নি।

শৈলকুপা থানার ওসি মো. আলমগীর হোসেন জানান, ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া মহাসড়কের বড়দা জামালপুর নাম স্থানে রাত সোয়া ১টার দিকে দুইদল মাদক ব্যবসায়ীর মধ্যে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। এ সময় অজ্ঞাত এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়।

পরে খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে যায়। ঘটনাস্থল থেকে একটি ওয়ান শুটারগান ১০ বোতল ফেনসিডিল ৫০০টি ইয়াবা এবং পিস্তলের দুটি ও বন্দুকের ২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে ।

চাঁদপুর ও ফরিদগঞ্জ: চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ সেলিম প্রধান (৩৭) নামের এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন বলে দাবি পুলিশের। রোববার রাত পৌনে ৩টায় মতলব দক্ষিণ উপজেলার হাজীর ডোন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

মাদক ব্যবসায়ী সেলিম মতলব দক্ষিণ উপজেলার উপাদী ইউনিয়নের সালামত উল্যাহর ছেলে।

মতলব দক্ষিন থানার ওসি কুতুবউদ্দিন জানান, থানা ও ডিবি পুলিশের যৌথ দল মতলব সড়কের হাজীর ডোন এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় সাত মাদক মামলার আসামি সেলিমকে আটক করা হয়। সেলিমকে থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় সহযোগীরা পুলিশের ওপর গুলি ও হামলা চালায়। পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। এতে সেলিম গুলিবিদ্ধ হয়। আহত অবস্থায় তাকে মতলব স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় ৪ পুলিশ আহত হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে ৪ রাউন্ড গুলি, ৬ রাউন্ড কার্তুজ, ১১০টি ইয়াবা ট্যাবলেট এবং দুটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। সেলিমের বিরুদ্ধে থানায় ৭টি মাদক মামলা রয়েছে।

নোয়াখালী : নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি উপজেলায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী মো. হাছান প্রকাশ ইয়াবা হাছান (৩৫) নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে পুলিশ। এসময় ৩ পুলিশ সদস্য আহত হন। ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র, গুলি ও ইয়াবা উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শনিবার দিনগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার পৌর এলাকার বগাদিয়া ইজতেমা মাঠে এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে।

নিহত হাছান সোনাইমুড়ি পৌরসভার বগাদিয়া মিয়া বাড়ীর হানিফ মিয়ার ছেলে। আহতরা হলেন, পুলিশ কনেস্টবল সোহাগ, জহির মজুমদার ও গোলাম সামদানি।

জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ কে এম জহিরুল ইসলাম জানান, শনিবার সকাল ১১টার দিকে সোনাইমুড়ি বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইয়াবা হাছানকে আটক করা হয়। পরে রাতে হাসানের দেয়া তথ্য মতে তাকে নিয়ে অস্ত্র ও ইয়াবা উদ্ধারের জন্য বগাদিয়া ইজতেমা মাঠ এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ।

এসময় আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা হাছানের সহযোগীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পুলিশও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি ছুড়লে উভয় পক্ষের মধ্যে কয়েক রাউন্ড গুলি বিনিময় হয়।

একপর্যায় ইয়াবা হাছান গুলিবিদ্ধ ও তিন পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাছানকে উদ্ধার করে সোনাইমুড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমেপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি এলজি, সাতটি কার্টুজ, একটি রামগদা, তিনটি লম্বা ছেনি, একটি দা ও ১২০টি ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

নিহত মাদক ব্যবসায়ী হাছানের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে ৩টিসহ থানায় মোট ২১টি মামলা রয়েছে বলে জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার।

মেহেরপুর: গাংনীতে দু’দল মাদক ব্যবসায়ীর মধ্যে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ হাফিজুল ইসলাম ওরফে হাফি (৪৫) নামের এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। নিহত হাফিজুল ইসলাম গাংনী ডিগ্রি কলেজপাড়া এলাকার শহীদ মুক্তিযোদ্ধা হারেজ উদ্দীনের ছেলে।

শনিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে গাংনী উপজেলার কাথুলি ইউনিয়নের গাঁড়াবাড়িয়া বাথান মাঠ এলাকার জনৈক আমজাদ হোসেনের কচুক্ষেতে এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে।

ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি দেশি পিস্তল ও ১১২ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করেছে পুলিশ।

গাংনী থানার ওসি হরেন্দনাথ সরকার জানান, রাত পৌনে ২টার দিকে গাঁড়াবাড়িয়া গ্রামের বাথান মাঠ এলাকায় দুদল মাদক ব্যবসায়ীর মধ্যে ‘বন্দুকযুদ্ধ’ হচ্ছে এমন সংবাদ পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়।

এসময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে সেখান থেকে গুলিবিদ্ধ হাফিজুল ইসলামকে উদ্ধার করে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

হাফিজুল ইসলাম এলাকার শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার অভিযোগে গাংনী থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানান ওসি।

কুষ্টিয়া: কুষ্টিয়ায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মাদক ব্যবসায়ী হালিম মণ্ডল (৩৫) নিহত হয়েছেন। শনিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে শহরের হাউসিং ডি ব্লক মাঠে এ ‘বন্দুকযুদ্ধের’ ঘটনা ঘটে।

কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি নাসির উদ্দিন জানান, মাদকদ্রব্য ক্রয় বিক্রয়ের উদ্দেশে একদল মাদক ব্যবসায়ী শহরের হাউজিং ডি ব্লক মাঠে অবস্থান করছে এমন গোপন সংবাদ পেয়ে মডেল থানা পুলিশের একটি টহল দল ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পুলিশও পাল্টা গুলি চালালে বন্দুকযুদ্ধে একজন গুলিবিদ্ধ হয়।

পরে তাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেয়ার পর দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশের দাবি, এ ঘটনায় তাদর ৪ সদস্য আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ অস্ত্র, গুলি ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় ৪ পুলিশ সদস্য আহত হলে তাদের চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

ঘটনাস্থল থেকে ১টি সাটার গান, ১টি পাইপ গান, ৩ রাউন্ড গুলি ও ৮শ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।

ময়মনসিংহ : ময়মনসিংহে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে পুলিশ। শনিবার দিবাগদ রাত দেড়টার দিকে নগরীর মরাখোলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কনস্টেবল হুমায়ুন ও কনস্টেবল আমির হামজা মারাত্মক আহত হন। তাদের স্থানীয় পুলিশ লাইন্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসি মো. আশিকুর রহমান জানান, এলাকায় কতিপয় মাদক ব্যবসায়ী মাদক ভাগাভাগি করছে এমন সংবাদ পেয়ে সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট, পাটকেল নিক্ষেপ ও গুলি ছোড়ে। পরে পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে।

উভয়ের মধ্যে গুলি বিনিময়ের এক পর্যায়ে অন্যরা পালিয়ে যায়। পরে এলাকা তল্লাশি করে গুলিবিদ্ধ এক মাদক ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে নিলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত যুবকের পরিচয় জানা যায়নি। ঘটনাস্থল থেকে ১০০ গ্রাম হেরোইন, চারটি গুলির খোসা, দুটি রামদা ও ১০০ ইয়াবা উদ্ধার করা হয় বলে জানান ওসি।

ঠাকুরগাঁও: ঠাকুরগাঁওয়ে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে রফিকুল ইসলাম তালেবান (৫১) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।

শনিবার দিনগত রাত দুইটার দিকে জেলার রাণীশংকৈল উপজেলার দুর্লভপুর গ্রামে বন্দুকযুদ্ধের এ ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশ একটি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র ও ১০০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করেছে।

রফিকুল ইসলাম ওরফে তালেবান রানীশংকৈল উপজেলার ভরনিয়া (শিয়ালডাম্গী) গ্রামের হুমাউন কবিরের ছেলে। ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপার ফারহাত আহমেদ এ তথ্য জানিয়েছেন।

পুলিশের ভাষ্য, ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীংশকৈল উপজেলায় পুলিশের মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে মহারাজাগামী রাস্তা দিয়ে দুর্লভপুর এলাকায় গেলে রফিকুল ইসলাম ওরফে তালেবানসহ ১০/১২ জন মাদক ব্যবসায়ী পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় পুলিশও আত্মরক্ষার জন্য গুলি ছোঁড়ে।

এভাবে ১০/১৫ মিনিট ধরে চলা বন্দুকযুদ্ধ শেষে চোরাকারবারিরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় ধানক্ষেত থেকে রফিকুল ইসলাম তালেবানকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

রাণীশংকৈল থানার ওসি আব্দুল মান্নান জানান, মাদক ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলামকে উদ্ধারকালে একটি দেশীয় পাইপগান, কিছু ধারালো অস্ত্র ও ১০০ বোতল ফেনসিডিল জব্দ করা হয়েছে।

রফিকুল ইসলামের নামে বালিয়াডাঙ্গী ও রানীশংকৈল থানায় মাদকদ্রব্য আইনে ৮টি মামলা রয়েছে। এর আগে গত ২৩ মে বালিয়াডাঙ্গীর পারুয়া গ্রামের ভেলসা মোহাম্মদের ছেলে আপতাফুল (৩৮) ও গত ২৬ মে ঠাকুরগাঁও সদরের ছিট ছিলারং গ্রামের মৃত শফির উদ্দীনের ছেলে মোবারক হোসেন ওরফে কুট্টি (৪৪) কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন।

বাগেরহাট: বাগেরহাটের চিতলমারীতে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে মিতুন বিশ্বাস (৪৫) নামে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন।

শনিবার গভীর রাতে চিতলমারী উপজেলার চিংগুরি এলাকায় বন্দুকযুদ্ধের এ ঘটনা ঘটে।

মিতুনের বাড়ি চিতলমারী উপজেলার চিংগুরি গ্রামে। তার বিরুদ্ধে ২২টি মামলা রয়েছে বলে দাবি পুলিশের।

চিতলমারী থানার ওসি অনুকূল বিশ্বাস জানান, শনিবার রাত ১০টার দিকে মাদক সম্রাট মিতুনকে আটক করা হয়। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী পুলিশের একটি দল মাদক উদ্ধারের জন্য তার বাড়ির দিকে রওনা হয়।

এ সময় লুৎফর মেলেটারীর বাড়ির সামনে ফাঁকা জায়গায় পৌঁছলে মিতুনের সহযোগীরা পুলিশের ওপর গুলি ছোড়ে। পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। একপর্যায়ে পুলিশের হাত থেকে মিতুন পালিয়ে যায়। গুলিবিনিময়ে এক পর্যায়ে মাদক সন্ত্রাসীরা পিছু হটে পালিয়ে যায়।

পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে মিতুনের গুলিবিদ্ধ লাশ, একটি শাটারগান, দুই রাউন্ড গুলি, একটি ছুরি, দুই কেজি গাঁজা ও ১০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে।

লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান ওসি।

এর আগে গত ১৭ মে গভীর রাতে সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে ৩ জন, ১৮ মে রাতে ৪ জন, ১৯ মে রাতে ৪ জন, ২০ মে রাতে ১৪ জন, ২১ মে রাতে ১১ জন, ২২ মে রাতে ৯ জন, ২৩ মে রাতে ৬ জন ও ২৪ মে রাতে ১১ জন, ২৫ মে রাতে ১১ ‘মাদক কারবারি’ নিহত হন।

 

 

জেড