সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. আ ফ ম রুহুল হকের পর এবার তার স্ত্রী ইলা হক এবং ছেলে জিয়াউল হককে বিপুল পরিমান অবৈধ সম্পদের অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
একই সঙ্গে মহাজোট সরকারের সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও সাতক্ষীরা-৩ আসনের এমপি ডা. রুহুল হকের স্ত্রী ইলা হক এবং ছেলে জিয়াউল হকের বিরুদ্ধে প্রাপ্ত অবৈধ সম্পদের অভিযোগ আমলে না নিয়ে বিষয়টি নথিভুক্ত করেছে দুদক।
এভাবেই সরকারদলীয় প্রভাবশালী মন্ত্রী, এমপি এবং নেতার পারবারের সদস্যরা অবৈধ সম্পদের অভিযোগ থেকে ধাপে ধাপে অব্যাহতি পাচ্ছেন।
জানা যায়, গত ২২ ফেব্রুয়ারি কমিশন থেকে আ ফ ম রুহুল হকের স্ত্রী ইলা হক এবং ছেলে জিয়াউল হককে অবৈধ সম্পদের অভিযোগ থেকে অব্যাহতির চিঠি পাঠানো হয়েছে।
বেশ কিছুদিন আগে দুদকের উপ পরিচালক মির্জা জাহিদুল আলম কমিশনে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন জমা দেন। তার প্রতিবেদনে রুহুল হকের স্ত্রী ইলা হক এবং ছেলে জিয়াউল হককে অবৈধ সম্পদের অভিযোগ থেকে অব্যাহতির সুপারিশ রয়েছে।
এর আগে দুদকের ওই অনুসন্ধানী কর্মকর্তার অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে সাবেক মন্ত্রী রুহুল হককে অবৈধ সম্পদের অভিযোগ থেকে অব্যাহতির সুপারিশ চেয়ে কমিশনে প্রতিবেদন জমা দেন। তার প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করেই গত বছর ৮ সেপ্টেম্বর ডা. রুহুল হককে অব্যাহতি দেয়। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে প্রাপ্ত অভিযোগ নথিভুক্ত করে দুদক।
সূত্র মতে, দুদকে অভিযোগ ছিল সাবেক মন্ত্রী ডা.রুহুল হকের বিরুদ্ধে প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদের। আর তার ওই সম্পদের সঙ্গে তার আয়ের সম্পর্ক অসংগতি রয়েছে।
দুদক সাবেক এ মন্ত্রী এবং তার পরিবারের সদস্যদের নামে-বেনামে সম্পদের তথ্য উপাত্ত সংগ্রহের জন্য চিঠি পাঠায়; রাজউক, জেলা রেজিস্ট্রার দপ্তর, সাব- রেজিস্ট্রি, ভূমি অফিস, ডাক বিভাগ, জয়েন্ট স্টক কোম্পানি, স্টক এক্সচেঞ্জ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, ব্যাংক, বীমা, লিজিং কোম্পানিসহ প্রায় ২৫টি প্রতিষ্ঠানে। দুদকের চাহিদা মোতাবেক প্রতিটি প্রতিষ্ঠান দুদকের অনুসন্ধানী টিমকে তথ্য সরবরাহ করে।
অভিযোগ রয়েছে, শুধু সাবেক মন্ত্রী রুহুল হকের ব্যাংক ব্যালেন্স গত ৫ বছরে বেড়েছে ১০ গুণ। আর ব্যাংক ব্যালান্সের অধিকাংশ তার স্ত্রী ইলা হকের নামে। ৫ বছর আগে রুহুল হক এবং তার স্ত্রীর নামে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা করা টাকা ছিল ৯২ লাখ ৩৬ হাজার ১০৮ টাকা। এখন তাদের ব্যাংক ব্যালান্সের পরিমাণ ১০ কোটি ১৫ লাখ ৯৪ হাজার ৭৬৩ টাকা।
২০০৮ সালে স্ত্রী ইলা হকের নামে ব্যাংক ব্যালান্স ছিল মাত্র ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৩০ টাকা। এখন আছে ৭ কোটি ৫৩ লাখ ১১ হাজার ২৪০ টাকা। এক্ষেত্রে বৃদ্ধির হার প্রায় ১৬৫ গুণ।
এদিকে দুদকের কর্মকর্তারা গত বছর (২০১৪ সালে) ২৪ ফ্রেব্রুয়ারি রুহল হককে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পরে দুদক গেটে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রুহুল হক বলেন, স্ত্রীর নামে ৩৫ লাখ টাকার স্থলে ভুল করে হলফনামায় ৭ কোটি লেখা হয়ে গেছে।
২০০৮ সালে রুহুল হকের ব্যাংক ব্যালান্স ছিল মাত্র ৮৮ লাখ টাকা। ৫ বছর পরে তা বেড়ে প্রায় ২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের হলফনামা অনুসারে, ২০০৮ সালের তুলনায় রুহুল হকের অস্থাবর সম্পদ ৪গুণ বেড়েছে। ২০০৮ সালে তার এবং স্ত্রীর মোট অস্থাবর সম্পদ ছিল প্রায় ৪ কোটি টাকার।
২০১৩ সালে ওই সম্পদের পরিমাণ ১৬ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে ১০ কোটি টাকা ব্যাংক ব্যালান্স হিসেবে রাখা আছে। এককভাবে তাঁর স্ত্রী ইলা হকের সম্পদের পরিমাণ বেড়েছে ৮গুণ।
একে/কেএইচ





