তিন বছর আগে পারিবারিক ও মায়ের জমিজমা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে জনৈক বিপ্লবের সাথে দ্বন্দ্বের জেরে প্রথম অস্ত্র হাতে তুলে নেয় নাজমুল। এরপর শুরু করে অস্ত্রের ব্যবসা। টাকার বিনিময়ে অস্ত্র কেনা বেচা করতো। শুধু তাই নয় টাকার বিনিময়ে অস্ত্র ভাড়াও দিতো নাজমুল।
সোমবার বিকেল সাড়ে তিনটায় র্যাব-২ এর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান, র্যাব-২ এর পরিচালক (সিও) লে: কর্ণেল কে এম আজাদ।
রোববার দিনগত রাতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার থানার পাগলা বাজারের পাশ্ববর্তী এলাকা থেকে অস্ত্র কেনা বেচার সময়ে র্যাব-২ এর সদস্যরা দুজনকে আটক করে। এরা হলেন, অস্ত্র ব্যবসায়ী নাজমুল হোসেন(২৬) ও সহযোগী আলামীন(২২)।
লে: কর্ণেল কে এম আজাদ বলেন, তিন বছর আগে প্রভাব বিস্তার করতে নারায়ণগঞ্জের কাদির ওরফে ডাইল কাদির নামে এক অস্ত্র ব্যবসায়ির সাথে শখ্যতা গড়ে তোলে নাজমুল। এরপর অস্ত্র চালনা ও অস্ত্র ক্রয়-বিক্রয়ের কাজ শুরু করে নাজমুল।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-২ এর অপারেশন টিম জানতে পারে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় অস্ত্র বিক্রির উদ্দেশ্যে অবস্থান নিয়েছে নাজমুল ও তার সহযোগীরা। এখবরে হোটেল সোনারগাঁও-এর আশপাশ এলাকায় ছদ্মবেশে অবস্থান নেয়।
পরে নাজমুল ও তার সহযোগী আলামিনের অবস্থান নিশ্চিত হয়ে তাদের বাজারে জনতার সম্মুখে আটক করে র্যাব। পরে তাদের ব্যাগে তল্লাশী চালিয়ে একটি বিদেশী পিস্তল, এক রাউন্ড গুলি ও ২টি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়।
পরে জিজ্ঞাসাবাদে নাজমুল র্যাবকে জানায়, ৬৫ হাজার টাকার বিনিময়ে জব্দকৃত পিস্তলটি বিক্রি করতে সে এখানে এসেছিল।
পরে তার কাছে আরও অস্ত্র আছে বলে চাপ দেয়া হলে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জের সলিমুল্লাহ রোডের ৩৫ মিশন পাড়ায় নাজমুলের বাসভবনে তল্লাশী চালানো হয়। তার শয়নকক্ষের ওয়াড্রবের ভিতর থেকে আরও তিনটি বিদেশী পিস্তল ৮টি ম্যাগাজিন ও ৪ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
লে: কর্ণেল কে এম আজাদ আরও বলেন, অস্ত্র কেনাবেচায় তিনটি গ্রুপ হয়ে তারা কাজ করে আসছে। একটি গ্রুপ অস্ত্র সরবরাহ করে থাকে। আরেকটি গ্রুপ অস্ত্র সংগ্রহ ও অস্ত্র পৌছানোর কাজ করে এবং অপর গ্রুপটি অস্ত্র কেনার পাটি খুজে বের করে। এভাবেই তারা সংবদ্ধভাবে অস্ত্র কেনাবেচার সাথে জড়িত।
তিনি আরও বলেন, তারা অস্ত্র ব্যবসার ক্ষেত্রে কেউই আসল পরিচয় দেয় না। বিভিন্ন ছদ্মনাম ব্যবহার করে। ফলে মূল অস্ত্র ব্যবসায়ী বা সরবরাহকারী কে তারা ওই অস্ত্র ব্যবসার সাথে জড়িত অনেকেই নিশ্চিত নন। তবে আমারা এই গ্রুপটির ব্যাপারে অনেক তথ্যে পেয়েছি। খুব শিগরিরি তাদেরকেও গ্রেফতার করা হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে র্যাব-২ সিও জানান, নাজমুলকে যে প্রথম অস্ত্র সরবরাহ করেছিল তার ব্যাপারে বিস্তারিত খোজ খবর নেয়া হচ্ছে। সে একজন অস্ত্র ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জে থানায় মামলাও রয়েছে। তাকে গ্রেফতার করতে পারলে পুরো গ্রুপটিকে সনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।
জেইউ/এসএইচ





