রাজধানীর শাহজাহানপুরে ওয়াসার পরিত্যক্ত পাইপের ভেতর পড়ে সাড়ে ৩ বছরের শিশু জিহাদের মৃত্যু এবং উদ্ধারে গাফিলতির ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে গ্রেফতারের জন্য লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী একলাস উদ্দিন ভূঁইয়া।

এ লিগ্যাল নোটিশে বিবাদী করা হয়েছে, স্বরাষ্ট্র সচিব, রেলপথ সচিব, ঢাকা ওয়াসার এমডি, ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের ডিজি এবং ঢাকা মহানগন পুলিশ কমিশনারকে।

রেজিষ্ট্রি ডাকযোগে পাঠানো এ নোটিশে বলা হয়েছে, আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে দায়িত্ব পালনে অবহেলা এবং গাফতির অভিযোগে সংশ্লিষ্টদের গ্রেফতার করতে হবে। অন্যথায় উচ্চ আদালতে সুনিদিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হবে।

নোটিশে আরো বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সংবিধানের ২১ অনুচ্ছদে উল্লেখ আছে প্রজাতন্ত্রের নাগরিকদের নিরাপত্ত্বা দিতে রাষ্ট্র বাধ্য।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী একলাস উদ্দিন ভূঁইয়া আরো উল্লেখ করেন, ৮ বছর আগে রাজধানীর শাহজাহানপুরে ঢাকা ওয়াসার পরিত্যক্ত পানির পাইপের মুখ কেনো বন্ধ করে রাখা হয়নি।

একই সঙ্গে পাইপের ভেতর পড়ে সাড়ে ৩ বছরের শিশু জিহাদকে উদ্ধারে গাফলতির অভিযোগে সংশ্লিষ্টদের গ্রেফতার করতে হবে।

এদিকে হানা যায়, গত ২৬ ডিসেম্বর শিশু জিহাদ শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে পানির পাইপের মধ্যে পড়ে যায়। কিন্তু তাকে উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিস ও ঢাকা ওয়াসার বিশেষজ্ঞরা উদ্ধার অভিযান চালায়।

২৩ ঘণ্টার ব্যর্থ অভিযানে পাইপের মধ্যে জিহাদের অস্তিত্ব না পেয়ে পরদিন শনিবার বিকেলে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে উদ্ধার কাজ সমাপ্তের ঘোষণা দেওয়া হয়।

আরো জানা যায়, ওই ঘটনায় ঢাকা মহানগর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে শনিবার বিকেলে জরুরি বৈঠক শেষে মতিঝিল অঞ্চলের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘কর্মকর্তা পর্যায়ে বৈঠক শেষে আমরা বুঝতে পেরেছি, জিহাদকে উদ্ধারে উদ্ধারকর্মীদের গাফিলতি রয়েছে।

তাই পুলিশ বাদী হয়ে উদ্ধারকর্মীদের বিরুদ্ধে শাহজাহানপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করবে।’

তবে উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত ঘোষণার পর স্থানীয় কয়েকজন মিলে নিজেদের তৈরি করা বর্শার মতো এ্যাঙ্গেল দিয়ে জিহাদকে উদ্ধারের চেষ্টা চালান।

তারা প্রায় ২৫০ ফুটের মতো রশি ফেলার পর বর্শায় কিছু আটকানো বিষয়টি অনুভব করেন তারা। এরপর তা টেনে উপরে ওঠালে দেখা যায়, শিশু জিহাদের গায়ের জামায় আটকায় বর্শাটি।

এর আগে শনিবার সকাল ১০টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের ডিএডি মো. হালিম সাংবাদিকদের বলে ছিলেন, ‘ভেতরে কোনো ভিকটিম নেই।’ অভিযান শেষ পর্যায়ে ‘এখন আমাদের আর কোনো কাজ নেই।

দেশীয় পদ্ধতিতে স্থানীয় মানুষ যে চেষ্টা করছে, আমরা তাতে সহায়তা করছি।’ কিন্তু এরপর বিকেল পৌনে তিনটার দিকে ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আহমদ খান উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করেন।

আর ওই সংবাদ সম্মেলন চলাকালেই উদ্ধার হয় শিশু জিহাদের লাশ।

একে/এসএইচ