নদী উদ্ধারের নামে দখলদারদের স্বার্থে ভুল জায়গায় সীমানা পিলার স্থাপনের মাধ্যমে সরকার নদীগুলো মেরে ফেলছে বলে মন্তব্য করেছেন বাপার সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. আব্দুল মতিন।

শনিবার বিকেলে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে তথ্য উপস্থাপন করেন বাপার যুগ্ম সম্পাদক শরীফ জামিল, যুগ্ম-সম্পাদক শাহজাহান মৃধা বেনু।

তিনি বলেন, ‘নদীর সীমানা পিলার, আদি বুড়িগঙ্গা ও সোনাই নদী বিষয়ে সরকারী কার্যক্রম করতে গিয়ে উল্টা নদীকে মেরে ফেলা হচ্ছে।

ডা. মো. আব্দুল মতিন বলেন, আদালতের রায় উপেক্ষা করে সীমানা পিলার দেওয়ায় নদীর দু’পাড়ের বিস্তর জমি বেহাত হয়েছে। ভুল খুঁটি অবৈধ দখলদারদেরকে চিরস্থায়ীভাবে নদীর জমি দখলে রাখার পক্ষে বৈধতা দিয়েছে। ফলে নদী দখলদারদের মধ্যে অবৈধ কার্যক্রমকে আরো উৎসাহ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, আদালত নদীর দু’পাড়ে ৫০ ফুট দূরত্বে সীমানা পিলার স্থাপনের আদেশ দিয়েছে। কিন্তু আদালতের ওই নির্দেশ মোতাবেক সীমানা পিলার পোতা হয়নি। তুরাগ নদীর দু’পাড়ে বসানো ২০০০ পিলারের মধ্যে মাত্র ২৯টি ছাড়া ৫০ ফটের মধ্যে স্থাপন করা হয়েছে। আর বাকি ১৯৭১টি পিলারই দখলদারদেরকে বাঁচিয়ে স্থাপন করা হয়েছে।

ডা.আব্দুল মতিন বলেন, ২০০৯ সালে উচ্চ আদালত ৩৫০৩/০৯ রিট মামলার আদেশে ঢাকার চারপাশের ৫টি নদী বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু, শীতালক্ষ্যা ও ধলেশ্বরী নদী রক্ষার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে নদীসমূহের সীমানা পিলার স্থাপনের নির্দেশ দেন।

তবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ভূমি মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনকে আদালতের রায় বাস্তবায়নের নির্দেশ দেয়।আর ওই সিদ্ধান্ত মোতাবেক তুরাগ নদীতে সর্ব প্রথম সীমানা পিলার স্থাপনের কাজ শুরু হয়। কিন্তু আদালতের যথাযথ রায় মেনে সীমানা পিলার স্থাপন করা হচ্ছে না।
একে