সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষে গণনা  শুরু হয়েছে। সোমবার মধ্যরাতে ফল আসতে পারে বলে নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

সর্বোচ্চ আদালতের আইনজীবীদের গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচনে কয়েক দফায় পরাজয়ের পর সরকার সমর্থকরা এবার ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন ও মোমতাজ উদ্দিন আহমেদ মেহেদি প্যানেলে লড়ছেন।

নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে সরকারবিরোধী আইনজীবীদের প্যানেল থেকে বর্তমান সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন এবং সম্পাদক মাহবুবউদ্দিন খোকনই প্রার্থী হয়েছেন।      

সভাপতি ও সম্পাদকসহ ১৪ সদস্যের কার্যনির্বাহী কমিটি নির্বাচনে রোববার ও সোমবার সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ৫২টি বুথে আইনজীবীদের ভোটগ্রহণ চলে।

৪ হাজার ৩৪৯ জন ভোটারের মধ্যে ৩৫২৯ জন ভোট দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন নির্বাচন পরিচালনা উপ-কমিটির প্রধান মো. হারুন অর রশিদ। রাত ৯টা থেকে ভোট গণনা শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি।

বরাবরের মতো এবারও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দল সমর্থিত সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ এবং বিএনপি-জামায়াত জোট সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেল।

গত কয়েক বছরের হারের পর সমন্বয় পরিষদ এবার সভাপতি পদে নতুন মুখ হিসাবে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ইউসুফ হোসেন হুমায়ুনকে প্রার্থী করে। তিনি আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য।  

সম্পাদক প্রার্থী আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মোমতাজ মেহেদি ২০১২-১৩ মেয়াদে একই পদে নির্বাচিত হয়েছিলেন।

বিএনপি-জামায়াত সমর্থক জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য পরিষদের প্রার্থী খন্দকার মাহবুব এবং মাহবুবউদ্দিন খোকন গত দুই বার নির্বাচিত হন।

খন্দকার মাহবুব বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদে রয়েছেন। সাবেক সংসদ সদস্য মাহবুবউদ্দিন খোকন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব।

সমন্বয় পরিষদের (সাদা প্যানেল হিসেবে পরিচিত) প্যানেল থেকে সহ-সভাপতির দুই পদে প্রার্থী হয়েছেন আবুল খায়ের ও মো. তাহেরুল ইসলাম।

এই প্যানেল থেকে কোষাধ্যক্ষ পদে মো. আমির হোসেন, সহসম্পাদক পদে মো. দেলোয়ার মোস্তফা চৌধুরী (মধু) ও মো. সুজা আল ফারুক প্রার্থী হয়েছেন।

সহ-সভাপতির দুই পদে ঐক্য পরিষদের (নীল প্যানেল হিসেবে পরিচিত) প্রার্থী হয়েছেন এএসএম মোক্তার কবির খান ও মো. আব্দুল জাব্বার ভূঁইয়া।

কোষাধ্যক্ষ পদে শওকত আরা বেগম দুলালী এবং সহসম্পাদক পদে মাজেদুল ইসলাম পাটওয়ারি উজ্জ্বল এই প্যানেল থেকে প্রার্থী হয়েছেন।

সাতটি সদস্য পদে বিএনপি-জামায়াত জোট সমর্থকদের প্যানেলের প্রার্থীরা হলেন- মির্জা আল মাহমুদ, আনোয়ারুল ইসলাম শাহিন, মো. জসিম সরকার, মো. নাসির উদ্দিন খান, রেজাউল করিম, মো. ফাইজুর রহিম, শামীমা সুলতানা দিপ্তী।

সমন্বয় পরিষদের প্যানেলের সাতজন সদস্য প্রার্থী হলেন- একেএম দাউদুর রহমান মিনা, অমিত দাশগুপ্ত, খান মোহাম্মদ শাহীন আজিজ, মহিউদ্দিন শামীম, মো. আব্দুল আজিজ মিয়া মিন্টু, মো. হাবিবুর রহমান হাবিব ও সাবিনা ইয়াসমিন (সাবিনা ইসলাম)।

গত দুটি নির্বাচনেই সমিতির ১৪টি পদের মধ্যে ১৩টিতে জয়ী হয় বিএনপি-জামায়াত সমর্থকরা।

তার আগের নির্বাচনে সরকার সমর্থকরা সম্পাদকসহ বেশিরভাগ পদে জয়ী হয়েছিলেন। তখনই মেহেদি নির্বাচিত হয়েছিলেন।

সরকার সমর্থক সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ এখনও দুই ভাগে বিভক্ত।

এক পক্ষে ব্যারিস্টার এম আমীর উল ইসলাম আহ্বায়ক ও সুব্রত চৌধুরী সদস্য সচিব হিসাবে রয়েছেন। অন্যপক্ষ চলছে বাসেত মজুমদারের নেতৃত্বে। তবে দুই পক্ষ থেকেই একটি প্যানেল নির্বাচনে লড়ছে।

এবারের নির্বাচনে নীল ও সাদা প্যানেলের বাইরে সভাপতি পদে তিনজন, সহ-সভাপতি পদে দুজন, সম্পাদক পদের একজন প্রার্থী হয়েছেন।

জেআই