শিগগিরই হলমার্ক গ্রুপের ঘনিষ্ট অপর ৫ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সোনালী ব্যাংকের রূপসী বাংলা শাখার প্রায় ৩৫০ কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতি   ও আত্মসাতের ২৬ মামলার চার্জশিট দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) জমা দিচ্ছেন তদন্তকারী কর্মকর্তারা।
কমিশনের বৈঠকে তদন্ত প্রতিবেদন তৈরির কাজ প্রায় সম্পন্ন করেছেন তদন্ত কর্মকর্তারা। ওই প্রতিবেদনের সঙ্গে আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিলের জন্য অনুমোদন চাওয়া হচ্ছে।
নাম না প্রকাশের শর্তে দুদকের তদন্ত টিমের জনৈক কর্মকর্তা টাইমনিউজবিডিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।  
তিনি বলেন, মামলার এফআইআর ভুক্ত আসামিদের মধ্য থেকে দুই এক জন চার্জশিটে বাদ পড়তে পারেন। এছাড়া আপাতত: বাইরের কাউকে চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছ না বলেও ইঙ্গিত দেন ওই কর্মকর্তা।
দুদক সূত্র মতে, গত বছর ১ জানুয়ারি রাজধানীর রমনা থানায় হলমার্ক গ্রুপের এমডি তানভীর মাহমুদ, ওই ৫ প্রতিষ্ঠানের ১৫ কর্মকর্তা এবং সোনালী ব্যাংকর ২০ কর্মকর্তাসহ মোট ৩৫ জনের বিরুদ্ধে ২৬ মামলা দায়ের করেন দুদকের ৬ কর্মকর্তা। এর আগে ২০১২ সালের ২৭ ডিসেম্বর কমিশনের বৈঠকে এই ২৬ মামলা দায়েরের অনুমোদন দেয়া হয়।
২৬ মামলার ৬ বাদী মধ্যে রয়েছেন- দুদকের জ্যেষ্ঠ উপ-পরিচালক মীর জয়নুল আবেদীন শিবলী, উপ-পরিচালক এসএমএম আখতার হামিদ ভুইঞা, সহকারী পরিচালক মো: মশিউর রহমান, নাজ মুচ্ছায়াদাত, উপ-সহকারী পরিচালক মো: মজিবুর রহমান ও মো: জয়নুল আবদীন।
জানাযায়, টি এন্ড ব্রাদাস প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পিএসসি, এফবিপি ও পিএডির মাধ্যমে ৩২০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ১৪ মামলার আসামি এই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান জিনাত ফাতেমা, ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাওহীদ হোসেন ও পরিচালক তসলিম হাসান।
খানজাহান আলী সোয়েটার লিমিটেড পিএসসি খাতে ১ কোটি ১৫ লাখ টাকা আত্মসাতের  ১ মামলায় আসামি এই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান  মো. তাজুল ইসলাম মোল্লা, এমডি আবদুল জলিল শেখ, পরিচালক মীর  মো. শওকত আলী ও রফিকুল ইসলাম।
প্যারাগন নিট কম্পোজিট লিমিটেড পিএসসি, এফবিপি, পিএডি ও আইবিপির মাধ্যমে সাড়ে ১৩ কোটি টাকা আত্মসাতের ৫ মামলায় আসামি এই প্রতিষ্ঠানের এমডি সাইফুল হাসান রাজা, পরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন ও এসএম মনিরুজ্জামান।
নকশি নিট কম্পোজিট লিমিটেড পিএসসি ও আইবিপির মাধ্যমে ১১  কোটি টাকা আত্মসাতের ৩ মামলায় আসামি এই প্রতিষ্ঠানের এমডি পরিচালক মো. আবদুল মালেক ও চেয়ারম্যান আমেনা বেগম।
ডি এন স্পোর্টস লিমিটেড পিএসসি, আইবিপি ও এফবিপির মাধ্যমে ৩  কোটি টাকা আত্মসাতের ৩ মামলায় আসামি এই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান  মোতাহার উদ্দিন চৌধুরী, তার মেয়ে পরিচালক ফাহমিদা আখতার (শিখা) ও ফাহমিদার স্বামী ব্যবস্থাপনা পরিচালক শফিকুর রহমান।
আর এই ২৬ মামলার প্রতিটি  অভিযোগে প্রতিষ্ঠানের মালিক ও পরিচালকদের সঙ্গে সোনালী ব্যাংকের রূপসী বাংলা শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক এ কে এম আজিজুর রহমান, সাবেক সহকারী উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. সাইফুল হাসান,
নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল মতিন, অবসরপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মো. ওয়াহিদুজ্জামান ও ধানমন্ডি শাখার   জ্যেষ্ঠ নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেরুন্নেসা মেরী, সোনালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক হুমায়ূন কবির, প্রধান কার্যালয়ের জিএম অফিসের ডিএমডি মাইনুল হক ও আতিকুর রহমান,
মহাব্যবস্থাপক আ. ন. ম. মাশরুল হুদা সিরাজী, ননী গোপাল নাথ ও মীর মহিদুর রহমান, সাবেক জিএম সবিতা সিরাজ, ডিজিএম ভগবতী মজুমদার, শেখ আলতাফ হোসেন, মো. সফিজউদ্দিন আহমেদ ও কানিজ ফাতেমা চৌধুরী, এজিএম মো. কামরুল হোসেন খান, আশরাফ আলী পাটোয়ারী, মো. আবুল হাসান ও মো. খুরশিদ আলম।
[b]ঢাকা, একে, ১৩ টপ্রিল (টাইম নিউজবিডি.কম) // এআর [/b]