বিচারপতিদের অপসারণ নিয়ে আইন তৈরির মাধ্যমে জাতীয় সংসদ ও বিচার বিভাগকে মুখোমুখি দাঁড় করানোর কোনো কারণ নেই; বরং বিচারকদের জবাবদিহিতার জন্যই এ আইন তৈরি করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আইন কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক।
মঙ্গলবার জাতীয় আইন কমিশনের এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
খায়রুল হক বলেন, সংসদ সদস্যদের প্রতি আমাদের আস্থা রয়েছে। এ আইনের মাধ্যমে বিচারকদের স্বাধীনতা ক্ষুন্ন হবে না।
এ বি এম খায়রুল হক বলেন, এ আইনের মাধ্যমে বিচারকদের বিব্রত অবস্থায় ফেলানো আমাদের কোনো উদ্দেশ্য ছিলো না। জাতীয় সংসদ সদস্যদের প্রতি আমাদের আস্থা রাখতে হবে। কেননা একজন বিচারকের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসার পর সংসদ সদস্যরা প্রথমে শুধুমাত্র অভিযোগের বিষয়ে মতামত দিবেন। এক্ষেত্রে অধিকাংশের মতামত লাগবে। আর তদন্ত করবে সাবেক একজন বিচারপতির নেতৃত্বে তিনজন। যার একজন হবেন অ্যাটর্নি জেনারেল অপরজন দেশের বিশিষ্ট নাগরিক।
তিনি আরও বলেন, একমাত্র রাষ্ট্রপতি ব্যতিত কেউ আইনের উর্ধে নয়। সবাইকে জবাবদিহিতায় থাকা উচিৎ। বিচারকদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আসলে স্বচ্ছতার মাধ্যমে এবং সম্মানহানি যেন না হয় সে জন্য তদন্ত করার জন্য সাবেক কোনো প্রধান বিচারপতিকে প্রধান করে রাজনৈতিক চিন্তার বাইরের লোক দিয়ে তদন্ত করা হবে।
খায়রুল আরও বলেন, জনগণের কাছে আমাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে। সুপ্রিমকোর্ট, সংবিধান, এ আইন জনস্বার্থে তৈরি করা হয়েছে। একজন ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান বিচারপতি বলতে পারে না রায় এভাবে দাও। কেননা সকল বিচারক স্বাধীন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,বিচারকদের অপসারণে আইন তৈরি করা হলো। কিন্তু বিচারকদের নিয়োগে আইন করবেন কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটিও হ্ওয়া উচিৎ। তবে সরকার আমার কাছে না চাইলে আমরা পরামর্শ দিতে পারি না।
অনেক জাতীয় সংসদ সদস্য আইন বোঝে না এমনকি শিক্ষাগত অযোগ্য রয়েছে তারা বিচারকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবেন কিভাবে? এমন প্রশ্নের জবাবে খায়রুল বলেন, ম্যাগনাকার্টা চুক্তিতে যারা স্বাক্ষর করেছেন তারা পড়ালেখা জানতো না। এমনকি সাক্ষর দিতে না পারায় টিক চিহ্নকে সাক্ষর হিসেবে ব্যবহার করেছেন। তাই আমাদের সংসদ সদস্যরা এ পর্যায়ে নেই। আমাদের দেশেতো ’রেডিম্যাট’ গণতন্ত্র নেই। আস্তে আস্তে গণতন্ত্র তৈরি হবে।
উল্লেখ্য যে, গতকাল সোমবার মন্ত্রী পরিষদে সুপ্রিমকোর্টের বিচারকদের অপসারণ খসড়া আইন পাস করা হয়।
এমআইএস





