‘আমি কি তোর ভাতার?...টাকা দিবি না তো মামলার তদন্ত করবো কীভাবে?’ খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের এসআই শাহাজাহান কবির এভাবে মামলার বাদী ও সাক্ষীদের তিরষ্কার করে গালিগালাজ করেন।
ঘটনার এখানেই শেষ নয়, মামলার সাক্ষী নিহত রাজুর বোন শিউলি হাসানকে সকলের সামনে চড়, থাপ্পড় ও বেদম প্রহার করেন।
শনিবার দুপুরে খুলনা প্রেস ক্লাবে এসে কান্নাজড়িত কণ্ঠে সাংবাদিকদের কাছে এসব অভিযোগ করেন। গোয়েন্দা পুলিশের সহকারি পুলিশ কমিশনার কামরুল ইসলাম জানান, অভিযোগটি তিনিও শুনেছেন।
শিউলি হাসান (৩৫) শনিবার বেলা দুইটার দিকে খুলনা প্রেস ক্লাবে মানিক সাহা অভ্যর্থনা কক্ষের সামনে এসে কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান- নির্দিষ্ট সময়ের ৫ মিনিট পর সাক্ষী দিতে খালিশপুর গোয়েন্দা অফিসে গেলে তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহাজাহান কবির তাকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন।
এই সময় মহিলার স্বামী ও বাবা হতবাক হয়ে পড়েন। এসআই শাহাজান কবির স্বামী ও বাবার সামনে তাকে মারধর করে বলেন- ‘টাকা দিবি না তো তদন্ত করবো কীভাবে?...আমি কি তোর ভাতার।’
মহিলা সাংবাদিকদের কাছে বিচার দিয়ে বলেন, গোয়েন্দা অফিসের সিসি ক্যামেরায় সব ধারণ করা আছে। আপানারা সেইগুলি দেখেন।
তিনি আরো জানান- তার ভাই রাজুকে এক বছর আগে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। সেই মামলায় খালিশপুর থানা পুলিশের দেওয়া চার্জশিটের বিরুদ্ধে নারাজি দিলে আদালত পুনরায় গোয়েন্দা পুলিশের কাছে তদন্ত দেয়। সেই মামলায় তদন্তে সাক্ষী দেওয়ার জন্য শনিবার এই মহিলাসহ সাক্ষীদের তলব করেছিল গোয়েন্দা পুলিশের এসআই শাহাজাহান কবির।
এ ব্যাপারে গোয়েন্দা পুলিশের এসআই শাহাজাহান কবিরের সঙ্গে মোবাইলে যোগোযোগ করা হলে তিনি বলেন- ঐ মহিলার (শিউলি হাসান) তার ছেড়া (মাথায় সিট আছে)। ৫ মিনিট পরে আসবে কথা দিয়ে দেড়ঘণ্টা পরে এসেছে।
মহিলাকে লাঞ্ছিত করার কথা অস্বীকার করে তিনি বলেন- মহিলার সাথে মামলার তদন্ত নিয়ে তর্কাতর্কি হয়েছে। এসময় তিনি কোন সংবাদ না করারও অনুরোধ করেন। এবং বার বার বলেন-‘তার ছেড়া মহিলার কথা বিশ্বাস কইরেন না।’
কেএমপি গোয়েন্দা বিভাগের সহকারি পুলিশ কমিশনার কামরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এই অভিযোগটি তিনিও শুনেছেন। তিনি ঐ মহিলাকে পুনরায় তার দফতরে আসতে বলেছেন। বিষয়টি তারা খতিয়ে দেখছেন।
উল্লেখ্য, যশোর থানায় ডেকে নিয়ে টাকার জন্য নির্যাতনের ছবি পত্রিকায় প্রকাশের পর শিউলি হাসানের সঙ্গে পুলিশের এহেন আচরণে নগরীতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
এমএনজে





